by

অন্যে যা দেখে না, তা দেখার উপায় – সিয়িং হোয়াট আদারস ডোন্ট

***

ইনসাইট

 

ইনসাইটের বাংলা অর্থ অন্তর্দৃষ্টি। অর্থ দিয়ে না বুঝে উদাহরণের মাধ্যমে ইনসাইট কি তা বুঝার চেষ্টা করা যাক। সত্যি ঘটনা। এক সকালে ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়েছিলেন দুইজন পুলিশ অফিসার। একজন বুড়া এবং আরেকজন কম বয়স্ক। তারা যখন গ্রীন লাইটের জন্য অপেক্ষা করতেছেন তখন কম বয়স্ক পুলিশ অফিসার জানলা দিয়া বাইরে তাকাইয়া দেখলেন একটা লোক সিগারেট খাইয়া তার দামী বিএমডব্লিউ গাড়িতে ঘইষা সিগারেটের আগুন নিভাইতেছে। এইটা কম বয়স্ক পুলিশ অফিসারের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হইল। সে তার বয়স্ক বন্ধুর দিকে তাকাইয়া বললো, “আপনে কি দেখলেন লোকটা কি করল?”

বয়স্ক পুলিশ অফিসার বললেন, “কী?”

কম বয়স্ক অফিসার বলল, “লোকটা তার দামী গাড়িতে ঘইষা সিগারেটের আগুন নিভাইল। সে গাড়ির মালিক হইলে এইটা কখনো করত না। মালিকের বন্ধু হইলেও করত না। তার মানে নিশ্চয়ই সে গাড়িটা চুরি করছে।”

এইটা হইল কম বয়স্ক পুলিশ অফিসারের প্রাপ্ত ইনসাইট। তারা পরে গাড়িটারে ফলো করেন এবং সত্যিই দেখা যায় লোকটা গাড়িটা চুরি করেছে।

এই ধরনের ইনসাইট বা নয়া দৃষ্টি মানুষ কীভাবে লাভ করে তা সঠিকভাবে জানা যায় না। কিন্তু এই ইনসাইট বড় বড় আবিষ্কারে, চিন্তায়, জীবনের গুরুত্বপূর্ন মুহুর্তে অবিশ্বাস্যভাবে মানুষরে সাহায্য করে। কগনিটিভ সাইকোলজিস্ট গ্যারি ক্লেইন কীভাবে ইনসাইট কাজ করে তা নিয়ে গবেষনা করে একটা বই লিখেছেন সিয়িং হোয়াট আদারস ডোন্ট নামে। অন্যে যা দেখে না, তা দেখতে পাওয়া। একই তথ্যের সামনে থেকে অন্যে যা দেখতে পায় না, তা দেখতে সাহায্য করে ইনসাইট।

ইনসাইট নিয়ে পূর্ববর্তী যত কাজ হয়েছে তা ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট নির্ভর। কিছু ছাত্র বা মানুষকে ল্যাবে এনে কিছু টাস্ক দেয়া, সে অনুসারে তাদের বিচার করা। সাইকোলজিস্টেরা এই ধরনের গবেষনা করে থাকেন। অনেস্ট ট্রুথ এবাউট ডিজঅনেস্টিতেও এইভাবে কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু গ্যারি ক্লেইন ঐ পথে হাটেন নি। তিনি ইনসাইটের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে সম্পূর্ন প্রাকৃতিক কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই ঘটনাগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকা থেকে।

 

***

গ্রাহাম ওয়ালেসের আর্ট অব থট

ইনসাইট কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে যে মত সবচেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্য হয়ে আছে তার উল্লেখ করেছিলেন ব্রিটিশ চিন্তক গ্রাহাম ওয়ালেস তার আর্ট অব থট বা চিন্তার শিল্প নামক ১৯২৬ সালে প্রকাশিত বইয়ে। গ্রাহাম ওয়ালেস ব্রিটিশ মুক্ত চিন্তার জগতের একজন প্রবাদ পুরুষ। তিনি ছিলেন একজন সোশ্যালিস্ট,সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের সহ প্রতিষ্ঠাতা। এবং ফেবিয়ান সোসাইটির একজন নেতা।

ছবি- গ্রাহাম ওয়ালেস
ছবি- গ্রাহাম ওয়ালেস

ফেবিয়ান সোসাইটি ব্রিটিশ সমাজতান্ত্রিক একটি সংঘটন যারা বিপ্লবের পরিবর্তে ধীরে ধীরে সামাজিক পরিবর্তন চাইতেন। তারা শান্তিপূর্ন উপায়ে সমাজের বৃহত্তর কল্যানের জন্য তাদের সমাজতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। ফেবিয়ান নামটি এসেছে রোমান সেনাপতি ফেবিয়ান ম্যাক্সিমাসের নামানুসারে। ফেবিয়ান ম্যাক্সিমাস কার্থিজিনিয়ান লিডার হানিবলের সাথে সরাসরি যুদ্ধের বিলম্ব ঘটিয়ে তার উপর নিয়মিত চাপ বৃদ্ধির পন্থার উপর নির্ভর করেছিলেন। তাই তার আরেক নাম ডিলেয়ার, বা যিনি ঘটনা ঘটার পূর্ব সময়রে প্রলম্বিত করেন। ম্যাক্সিমাসকে গেরিলা যুদ্ধকৌশলের আব্বা তথা ফাদারও বলা হয়ে থাকে।

ফেবিয়ান সোসাইটির আরো উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, জর্জ বার্নার্ড শ, বারট্রান্ড রাসেল, ভার্জিনিয়া উলফ, লিওনার্দ উলফ, এইজ জি ওয়েলস সহ আরো অনেকে। জওহরলাল নেহরু, মুহম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ নেতাও ফেবিয়ান সোসাইটির সদস্য ছিলেন। এমনকী সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী গ্র্যান্ড মাস্টার লি কুয়ান ইউ তার ডায়রীতে লিখেছেন, তিনি এক সময় ফেবিয়ানদের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ লেবার পার্টি ফেবিয়ান সোসাইটির কিছু নেতা তৈরী করতে সহায়তা করেন।

যাইহোক, গ্রাহাম ওয়ালেস তার আর্ট অব থটে তিনি চার স্তরে ইনসাইট কাজ করে বলে উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলোঃ

 

১। প্রিপারেশন বা প্রস্তুতি

২। ইনকিউবেশন বা সুপ্তিকাল

৩। ইলুমিনেশন বা উদ্ভাসন

৪। ভেরিফিকেশন বা পরীক্ষা

 

প্রস্তুতি পর্বে একজন সমস্যাটি নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে চিন্তা করতে থাকেন। বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন এবং  অনেক তথ্য সরবরাহ করেন। এরপর আসে সুপ্তিপর্ব বা ইনকিউবেশন। এই পর্যায়ে চিন্তক কোন সচেতন চিন্তা করেন না বা নতুন কোন তথ্য যোগ করেন না। কিন্তু অবচেতনভাবে তার মধ্যে চিন্তা কাজ করতে থাকে। অতঃপর ইলুমিনেশন বা উদ্ভাসন পর্বে হঠাৎ আলোক ঝলকের মত সমাধানের কিছু সূত্র তার সামনে ধরা দেয়। এর পরের পর্ব ভেরিফিকেশনে তিনি এগুলো নিয়ে সচেতনভাবে কাজ করেন এবং এদের মাধ্যমে সমাধানের দিকে যান।

 

seeing

***

গ্যারী ক্লেইনের পর্যবেক্ষণ

ইনসাইট কীভাবে কাজ করে তার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা গ্রাহাম ওয়ালেসের চার স্তরের প্রক্রিয়াটাকে পুরোপুরি মানতে পারেন নি গ্যারী ক্লেইন। অন্তত ইনসাইটের ক্ষেত্রে তার মনে হয়েছে এখানে আরো কিছু আছে। যেসব, ঘটনাবলী নিয়ে তিনি তার পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল বায়োলজিস্ট মার্টিন চ্যালফির ঘটনা। মার্টিন চ্যালফি এক সময় কৃমির স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে কাজ করছিলেন। স্নায়ুতন্ত্র পর্যবেক্ষণ করতে তখন কৃমিরে মেরে ফেলতে হত।

একদিন লাঞ্চ টাইমে চ্যালফি তার ইউনিভার্সিটি আয়োজিত একটা বক্তৃতা শুনতে গেলেন। তার বক্তৃতার বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ ছিল না, এমনিতেই গিয়েছিলেন। সেই বক্তৃতার মাঝামাঝিতে এসে বক্তা বললেন, জেলিফিশ দৃশ্যমান আলো তৈরী করতে পারে। একজন জাপানী বিজ্ঞানী বের করেছেন এটা একটা প্রোটিনের জন্য, ঐ প্রোটিনে আল্ট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনী রশ্মি পড়লে জেলিফিশ সবুজ আলো বিকিরন করে।

এটা শোনার পর চ্যালফি লাফিয়ে উঠলেন। তিনি বুঝতে পারলেন কৃমির ভিতরে এই প্রোটিন প্রবেশ করিয়ে তার উপর অতিবেগুনী রশ্মি ফেলে তিনি আলো তৈরী করতে পারবেন। বায়োলজিক্যাল ফ্ল্যাশলাইট তৈরীর জন্য এটা ছিল গুরুত্বপূর্ন এক মুহুর্ত।

মলিকুল্যার বায়োলজির জন্য অপরিহার্য আজ এই বায়োলজিক্যাল ফ্ল্যাশ লাইট এবং মাল্টিমিলিয়ন ডলারের ইন্ড্রাস্ট্রি। উল্লেখ্য, মার্টিন চ্যালফি গ্রিন ফ্লুরেসেন্ট প্রোটিন আবিষ্কারের জন্য যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান ২০০৮ সালে।

এই ঘটনায় গ্রাহাম ওয়ালেসের মত চার স্তরে কাজ করে চ্যালফি ইনসাইট অর্জন করেন নি। গ্যারী ক্লেইন আরো কিছু ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সেগুলোতেও চার স্তরে কাজ করতে হয় নি ইনসাইটের জন্য। ফলে কগনিটিভ সাইকোলজিস্ট গেরী ক্লেইন গ্রাহাম ওয়ালেসের চিন্তার বাইরে গিয়ে ইনসাইট অর্জন বিষয়ক নিজস্ব চিন্তা তৈরী করেছেন।

 

***

ইনসাইট বা অন্তর্দৃষ্টি যেইভাবে অর্জিত হয়

যেইসব ঘটনাবলী গ্যারী ক্লেইন সংগ্রহ করেছিলেন সেগুলোরে তিনি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন কানেকশন, কৌতুহল এবং কাকতাল, কন্ট্রাডিকশন বা অসংগতি, সৃষ্টিশীল বেপরোয়াভাব ইত্যাদি ইনসাইট অর্জনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

কানেকশন, কৌতুহল এবং কাকতাল, কন্ট্রাডিকশন বা অসংগতি, সৃষ্টিশীল বেপরোয়াভাব ইত্যাদি ইনসাইট অর্জনের… Click To Tweet

এর মধ্যে কানেকটিং ডট হল, কোন বিষয় নিয়ে একজন চিন্তা করছেন এমন সময় কোথাও তিনি ঐ সমস্যাটি সমাধানের কিছু সূত্র দেখতে পেলেন বিচ্ছিন্নভাবে। এখন তিনি যদি সমস্যাটির সাথে এই বিচ্ছিন্ন সূত্রগুলো মিলাতে পারেন তাহলে তিনি ইনসাইটের দেখা পাবেন। তবে এক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো বিচ্ছিন্ন ভাবে এমন অনেক সুত্রও উপস্থিত থাকে যেগুলো অপ্রাসঙ্গিক। ফলে কানেকটিং ডট শুনতে যত সহজ মনে হয় বাস্তবে অত সহজ নয়। এখানে একটি অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। অভিজ্ঞতা বা সমস্যাটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকলে তবেই সম্পর্কিত ডট সমূহ দেখতে পাওয়া যাবে আলাদাভাবে। সব দেখলে, সব হিশাবে নিলে কানেক্ট করার কালে সবগুলা ডট বিভ্রান্তি ছড়াবে। এক্ষেত্রে বেড অব প্রোকাস্ট থেকে নাসিম তালেবের একটা বক্তব্য স্মরণ করা যায়, প্রফেট এমন কেউ না যার স্পেশাল ভিশন আছে, তিনি এমন কেউ যিনি অন্যে যা দেখে তা দেখতে পান না।

কৌতুহল ইনসাইটের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয়। কৌতুহল ছাড়া ইনসাইট অর্জন সহজ নয়। এখানে কাকতালীয় ব্যাপারেরও প্রভাব আছে। অনেক সময় দেখা যায় কাকতালীয়ভাবে লোকে ইনসাইট তথা অন্তদৃষ্টির দেখা পায়। উপরে উল্লিখিত মার্টিন চ্যালফির ঘটনায় দেখা যায় তিনি কাকতালীয়ভাবে ওই বক্তৃতা শোনার জন্য গিয়েছিলেন, ঐ বক্তৃতার বিষয়ের ব্যাপারে তার তেমন আগ্রহ ছিল না।

অসংগতি দেখতে পাওয়াটাও ইনসাইট অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এই ব্যাপারে বেশ কিছু ঘটনা উল্লেখ করেছেন গ্যারী ক্লেইন। এর মধ্যে একটি হল ইয়েলো ফিভারের কারণ মশা, এটা আবিষ্কার। পূর্বে মনে করা হত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্যাতস্যাতে জায়গা ইত্যাদি ইয়েলো ফিভারের কারণ এবং তা ছড়ায় বাতাসের মাধ্যমে। ফ্রেঞ্চ-স্কটিশ ডাক্তার হুয়ান কার্লোস ফিনলে দেখলেন যখন শীতকালে কিউলেক্স মশারা থাকে না তখন এই রোগ হয় না। কিন্তু কিউলেক্স মশারা বেড়ে গেলে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। ফিনলে এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইয়েলো ফিভারের কারন হিশেবে মশাতত্ত্ব দেন। কিন্তু তখন তাকে নিয়ে হাস্য কৌতুক শুরু হয়ে যায় একাডেমিক মহলে। তার নাম দেয়া হয় মশা মানব।

এর প্রায় বিশ বছর পর আমেরিকান আর্মি ডাক্তার ওয়াল্টার রীড একটি অসঙ্গতি দেখতে পান। তিনি দেখলেন কিউবার জেলে যেখানে কয়েদীরা একই পরিবেশে খায় ঘুমায়, অনেক জিনিস ভাগাভাগি করে বসবাস করে সেখানে একজন মাত্র কয়েদী ইয়েলো ফিভারে আক্রান্ত হলো। অন্যদের হয় নি। এই অসঙ্গতি ওয়াল্টার রীডের দৃষ্টি খোলে দিল। তিনি স্যাতস্যাতে পরিবেশ ইত্যাদির দিকে দৃষ্টি না দিয়ে দৃষ্টি দিলেন মশার দিকে। এবং শেষ পর্যন্ত মশাতত্ত্বই প্রমাণিত হয়। এই তত্ত্বদাতা হুয়ান কার্লোস ফিনলে তার তত্ত্বের প্রমাণ হওয়া এবং স্বীকৃতি পাওয়ার কালে জীবিত ছিলেন।

ইনসাইট অর্জনের ক্ষেত্রে শেষ যে বিষয়টি কাজ করে তা হলো ক্রিয়েটিভ ডেসপারেশন, যার অনুবাদ করা গেল সৃষ্টিশীল বেপোরোয়াভাব নামে। এই টার্মটি ব্যবহার করেছিলেন দাবার গ্র্যান্ড মাস্টার আদ্রিয়ান ডি গ্রুত। কখনো কখনো দাবা খেলায় মারাত্মক দূরাবস্থায় পতিত হলে খেলোয়াড়েরা দারুণ বিস্ময়কর সব পদ্বতি বের করে ফেলেন। এটাকেই তিনি নাম দেন ক্রিয়েটিভ ডেসপারেশন। এর থেকেই বুঝা যায় কোন কোন ইনসাইট মানুষের কাছে ধরা দেয় যখন সে মারাত্মক দূরাবস্থায় পড়ে অথবা যখন তার আর কোন উপায় থাকে না।

 

***

যেভাবে ইনসাইট বা অন্তর্দৃষ্টি রহিত হয়

লেখক গ্যারী ক্লেইন ইনসাইট তথা নয়া অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের পথে বাঁধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাসের উপরে স্থির থাকা এবং এর উপরে স্থির থেকে চক্ষু বন্ধ করে রাখকে। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে ইওম কিপ্পুর যুদ্ধের একটি ঘটনা থেকে বুঝা যেতে পারে কীভাবে ভ্রান্ত বিশ্বাস ইনসাইট অর্জনে বাঁধা তৈরী করে। অক্টোবরের প্রাক্কালে সুয়েজ খালের দিকে মিশর ট্রেইনিং এর নাম করে তাদের সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করছে এমন দৃশ্য চোখে পড়ল কিছু ইজরাইলি অফিসারের। তারা সম্ভাব্য বিপদ অনুধাবন করে প্রধান ইন্টিলিজেন্স অফিসার মেজর জেনারেল ইলি জিইরার কাছে গিয়ে সব বললেন। কিন্তু ইলি জিইরা সম্ভাব্য বিপদ দেখতে পেলেন না। তিনি বললেন, আমাদের এয়ারফোর্স ওদের থেকে শক্ত। এয়ার ফোর্স আমাদের থেকে শক্তিশালী না করে ওরা কখনো আমাদের আক্রমণ করবে না।

কিন্তু মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সা’দাতের পরিকল্পণা ছিল ভিন্ন। তিনি সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ চাইছিলেন। ইজরায়েলের সাথে যুদ্ধে জেতা তার উদ্দেশ্য ছিল না। এবং পূর্বেকার একটি চুক্তি ভঙ্গ করে তারা এন্টি-ওয়ার উইপন এগিয়ে নিয়ে এসেছিল মিশর ইজরায়েলের বিমান আক্রমণ প্রতিহত করতে।

ইজরায়েলের মেজর জেনারেল ইলি জিইরা এটা জানতেন না। তিনি তার যুদ্ধের হিসাব মতে বুঝে নিয়েছিলেন যে, তাদের থেকে দূর্বল বিমান শক্তি নিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর মত ভুল মিশর করবে না। এমনকী যুদ্ধের দুই ঘন্টা আগেও তিনি ইজরায়েলের নেতাদের বুঝাচ্ছিলেন, যুদ্ধ হবে না।

এইভাবে নিজের ভুল বিশ্বাসের কারণে অনেক কিছু আমাদের চোখে পড়ে না।

ডিএনএ এর ডাবল হেলিক্স মডেলের আবিষ্কর্তা ওয়াটসন এবং ক্রিক যাদের কাজের উপর ভর করে এই মডেল আবিষ্কার করেছিলেন তারা (মারে চারগাফ, রোজালিন্ড ফ্র্যাংকলিন) নিজেরা কিন্তু তাদের গবেষনার এমন প্রয়োগ নিজেরা দেখতে পান নি। একেবারে কংক্রিট রিজনিংও ইনসাইটের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কংক্রিট রিজনিং চিন্তাকে সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং সেই সীমার বাইরের কিছু দেখতে অনাগ্রহী করে তোলে।

কোম্পানি বা সংস্থাগুলো সব সময় নিজেদের এরর কমাতে চায়। একটা পারফেকশনের বোধ তাদের মধ্যে কাজ করে। এটাও ইনসাইট অর্জনের পথে বাঁধা তাদের জন্য। কিন্তু ইনসাইট অর্জনের জন্য তারা বিভিন্ন চিন্তার মাধ্যমে ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্বতিতেও চলতে পারে না। ফলে এই এরর কমানো এবং ইনসাইট অর্জন; এই দুই বিষয়টার একটা ভারসাম্য রেখে তাদের চলা উচিত, যদি তাদের লক্ষ্য থাকে অসাধারন কোন ইনসাইটের মাধ্যমে কোম্পানিকে উন্নত করার।

 

Share

1 Comment


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *