"মানুষের এতো নপর-চপর কিন্তু যখন ঘুমোয়, তখন যদি কেউ দাঁড়িয়ে মুখে মুতে দেয়, তো টের পায় না, মুখ ভেসে যায়। তখন অহংকার, অভিমান, দর্প কোথায় যায়?"- রামকৃষ্ণ

ইমাম সাত্তার সাহেবের কথা

darkness
ইমাম সাহেবের প্রচন্ড টেনশন।টেনশন টেনশনে ঘুম আসছে না তার।অনেকদিন পর এই চাকরিটা পেয়েছেন। কথায় আছে,
 যার নাই কোন গতি
 তার লাগি ইমামতি
আসলেই ইমাম সাত্তার সাহেবের কোন গতি ছিল না।এর আগে তিনটি চাকরি হারিয়েছেন।ইমামতি তে চাকরি হারালে কেউ আর নিতে চায় না।খোঁজখবর নিয়ে যখন জানতে পারে আগে এই ইমামকে কোন মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল তখন এলাকার গণ্যমান্যরা আপত্তি তুলেন।
ইমাম সাহেবের পুরো নাম মওলানা আব্দুস সাত্তার।নিজের গ্রামে সাত্তার মলানা নামে পরিচিত।এখানে আজই ইমাম হয়েছেন।আজই প্রথম দিন।
প্রথমদিনে জোহরের নামাযেই তিনি ভুল করে ফেলেছেন।তিনরাকাতেই বসে পড়েছিলেন।পিছনের মুসল্লীরা হইচই শুরু করতেই তার মনে পড়ে চার রাকাত হয় নি।আবার উঠেন।

নামায শেষেই কয়েকজন মুরুব্বী গলা ছেড়ে ইমাম সাহেবকে উপদেশের সুরে বলেন, মন ঠিক জায়গায় রেখে নামায পড়বেন হুজুর। আল্লার কাম।এইখানে ফাঁকিজুকি দিলে খবর আছে।
ইমাম আব্দুস সাত্তার যথেষ্ট ভয় পেয়েছিলেন।সদ্য পাওয়া চাকরি হারালে তার কোন গতি থাকবে না।
তাই মাগরীবের নামায পড়ছিলেন সতর্কতার সাথে।বেশী মনোযোগ দেয়ার ফলেই হয়ত তিনি করে ফেললেন অন্য আরেক ভুল।শেষ রাকাতে দুই সেজদার জায়গায় তিনটা দিয়ে বসলেন!
মুসল্লীরা নামায শেষে তাকে আচ্ছামত কথা শোনালেন।কয়েকজন বললেন, এই ইমাম রাখা যাইব না।কেউ কেউ বললেন, দু একটা দিন দেখেন।
ইমাম সাহেবের এখন মহা দুশ্চিন্তা।দুশ্চিন্তায় তার ঘুম আসছে না।রাত বাজে দুইটা দশ।ফজরের ওয়াক্তে আবার ঘুম থেকে উঠতে হবে।প্রথম দিন ই ফজরের ওয়াক্ত মিস হয়ে গেলে এই চাকরী আর বাঁচানো যাবে না।
শীতের ঠান্ডা রাতেও ইমাম সাহেবের কপাল ঘামতে লাগল।তিনি টেবিল ঘড়িতে এলার্ম দিলেন।এরপর কিছুক্ষণ এভাবেই চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলেন।
ঘুম ভাঙল দরজায় করাঘাতের শব্দে।দরজায় ধুপ ধাপ শব্দ হচ্ছে,
হুজুর! হুজুর! ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে।মসজিদে আসেন।বাইরে থেকে বলছে একজন।
বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে নামলেন ইমাম আব্দুস সাত্তার।পাঞ্জাবীটা কোন রকমে পড়ে দরজা খুললেন।পাঞ্জাবী পড়া তিনজন মুসল্লী দাঁড়িয়ে।
ইমাম সাহেব টুপিটা মাথায় দিয়ে মুসল্লীদের সাথে চললেন।এই গ্রামে তিনি আজই প্রথম।তার ওপর এখনো অন্ধকার।ঠান্ডা রাত।কিছুই দেখা যাচ্ছে না।ইমাম সাহেব পথ ঘাট ও  চিনেন না এখানকার।তিনি মুসল্লীদের পিছু পিছু চললেন।লজ্জায় ও ভয়ে ভিতরে ভিতরে কুঁকড়ে যাচ্ছেন।মুসল্লীদের কেউ তার সাথে কোন কথা বলেন নি আর।নিশ্চয়ই তারা রেগে আছেন।এ চাকরী বোধহয় আর বাচাঁনো গেল না।
ইমাম সাহেব এসব দুশ্চিন্তা করে করে হাঠছিলেন।হঠাৎ সামনে তাকিয়ে দেখলেন গাঢ় অন্ধকার।মুসল্লীরা কোথাও নেই।অন্ধকার শীতের রাতে তিনি অচেনা গ্রামের রাস্তায়।একা!
Share
মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখার স্বত্ত্ব লেখক কতৃক সংরক্ষিত, কপি করবেন না। ফেইসবুকে লিংক শেয়ার করে একে আগ্রহী পাঠকের সামনে যেতে সাহায্য করুন।

Related Posts

Leave A Comment