by

জ্যাকালপ বউয়েরা – উরসুলা ভার্নন

                                                            জ্যাকালপ বউয়েরা

 

২০১৪ সালে নেবুলা এওয়ার্ড প্রাপ্ত এই গল্পটি প্রকাশিত হয় এপেক্স ম্যাগাজিনে। লিখেছেন উরসুলা ভার্নন। গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন মুরাদুল ইসলাম। অনুবাদক এই গল্পের বাংলা অনুবাদের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলে লেখিকা সানন্দে অনুমতি প্রদান করেন।

 

চন্দ্রদেবীর আগমন ঘটেছিল এবং অস্ত গিয়েছিলেন সূর্যদেব। চন্দ্ররশ্মি ফেঁটে পড়েছিল ভূমিতে এবং জ্যাকালপ বউয়েরা তাদের চামড়া খুলে নাচছিল।

তারা এমনভাবে নাচছিল যেন তরুণ হরিণ অগ্রপদ বিকশিত করে থাবাতে ঘর্ষন করে চলেছে ধরিত্রী, যেন সন্ধ্যায় বেরিয়ে এসেছে নরক থেকে অপদেবতা। তারা কোমড় আন্দোলিত করল, পিছনের পা তুলে লাফিয়ে চলল এবং পান করল উদর পূর্ন করে ক্যাকটাস-ফলের তৈরী মদ।

জ্যাকালপ বউয়েরা লাজুক প্রাণী। যদিও তারা যেভাবে নেচেছিল তাতে লজ্জার কিছু নেই। আপনি আপনার সারাজীবনে তাদের লেজ বড় পাথরের পিছনে অদৃশ্য হয়ে যাবার এক ঝলক দৃশ্যের চাইতে বেশি কিছু দেখতে পাবেন না। যদি খুব ভাগ্যবান হন তাহলে হয়ত তাদের একটি পূর্ন রূপরেখা আকাশে ধরতে পারবেন, এক অন্তরীপের উপরে, কপালে তাদের উর্ধ্বগামী শিং এর ছায়া।

এবং অর্ধচন্দ্রের কালে, যখন নতুন এবং পূর্ণ চন্দ্র সাগোয়ারোর কাঁটার মাঝামাঝি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় তখন তারা নেমে আসবে মরুভূমিতে এবং নেচে যাবে।

তরুণেরা সাধারণত একসাথে মিলিত হয়ে ফিস ফিস করত এই বলে যে তারা একটি জ্যাকলপ বউ ধরে ফেলতে যাচ্ছে। তারা অন্তরীপের কিনারায় উপুর হয়ে শুয়ে থাকত এবং নিচের আগুন আর নৃত্যাকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকত। একটানা এভাবে থাকার দারুণ তারা ব্যথা অনুভব করত এবং এই ছিল তাদের অর্জন।

জ্যাকলপ বউয়েরা মানুষের প্রতি ছিল লাজুক। মনুষ্য প্রজাতির পুরুষের পরিবর্তে তাদের প্রেমিক ছিল জ্যাকর‍্যাবিট আর এন্টিলোপেরা। আপনি তাদের কাছেও যেতে পারবেন না আসলে। তারা ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাবে। এক মুহুর্তে আপনি দেখবেন তারা গোড়ালি দ্বারা পদাঘাত করছে এবং তাদের হাসতে শুনবেন কিন্তু তারপরই তারা স্থির হয়ে যাবে। তারা বড় বড় চোখ করে এবং কান খাড়া করে তাকাবে আপনার দিকে।

এর পরমুহুর্তেই তারা তাদের চামড়াগুলো চট করে তুলে নিবে এবং সেখানে চারিদিকে দৌড়াতে থাকা স্ত্রী খরগোশের দল ছাড়া কিছুই থাকবে না। আর একটি ক্যাম্পফায়ারও অবশ্য পড়ে থাকবে যা সকালের আগে পুড়ে শেষ হবার নয়।

এটি অবশ্যই রহস্যময় বিষয় কিন্তু তারা কখনো কারো কোন ক্ষতি করে নি। গ্র্যান্ডমা হারকেন, যিনি কুয়াটার পাশেই থাকেন তিনি বলেন, জ্যাকালপেরা ছিল বৃষ্টির কন্যা। সুতরাং তাদের তাড়িয়ে দেয়া হলে তা ডেকে আনবে খরা। লোকেরা বলত যে তারা এর এক বর্নও বিশ্বাস করে না। কিন্তু মরুভূমিতে যখন আপনি বাস তখন ঝুঁকি নিতে কে চায়।

যখন কিছু সুরেলা সঙ্গীত বালিতে খুব দ্রুত ঘর্ষিত হয়ে বন্য সুরলহরী শহরের মধ্যে চলে আসত, লোকেরা বুঝে ফেলত জ্যাকলপ বউয়েরা বের হয়েছে। তারা তাদের কুকুরকে বেঁধে রাখত এবং দুর্বীনিত ছেলেগুলোকে রাখত ঘরে বন্দি করে। শরবাসীদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল সেদিন রাতে নাচ আয়োজনের যাতে ছেলেগুলো ঠিকঠাকভাবে মানুষের মেয়েদের সাথেই নিযুক্ত থাকে এবং বন্য সুরের মোহমায়া থেকে থাকতে পারে মুক্ত।

এমতাবস্থায়, শহরে ছিল এক তরুণ যুবক যার কাছে অতি সামান্য যাদু ক্ষমতা ছিল। তার মায়ের দিক এটা এসেছিল তার কাছে, যেরকম মাঝে মাঝে হয় আর কী। তবে তা ছিল নিরর্থকের চেয়েও বাজে কিছু।

সামান্য যাদু কোন যাদু ক্ষমতা না থাকার চেয়েও বাজে ব্যাপার কারণ এটি ভুল মনযোগের তৈরী করে। এটা তাকে দিয়েছিল জ্বরাক্রান্ত চোখ এবং করেছিল গোমড়া-মুখো। তার নানী প্রায়ই বলতেন যে সে ছোটবেলায় যে পানিতে ডুবে মরে যায় নি এটাই একটি অলৌকিক ব্যাপার। যুবক আর কারো জন্য না হাসলেও নানীর কথায় হাসত।

সে ছিল লম্বা, কৃশকায়। তার ছিল গভীর কালো চুল এবং তরুণীরা তাকে মনে করত আকর্ষনীয়।

এরকম জিনিস প্রায়ই ঘটে থাকে, এমনকী অতি সাধারণ তরুণদের ক্ষেত্রেও। সবসময়েই কেউ একজন থাকে যে গভীরভাবে চিন্তা করতে শিখে যায় আগেই এবং সব ক্ষেত্রেই মেয়েরা ভাবে যে তাকে ভালো করতে পারবে।

আসলে মেয়েরা অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে শিখতে পারে। হয় যন্ত্রণাগুলো খুব ছোট হয় এবং ঘ্যানঘ্যান করে তারা ক্লান্ত হয়ে যায় অথবা যন্ত্রণা হয় বিস্তৃত এবং গভীর যাতে তারা ডুবে যায়। চালাকগুলো টেনে নিজেদের কিনারে নিয়ে আসতে পারে এবং ধীরগুলো বিবাহীত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠে একজন স্বামীসহ যে শুধু এখানে সেখানে শুয়ে-বসে দিন কাটায় এবং সে পথেই শুরু হয় তাদের ভোগান্তি। এটা একটি অতি পুরাতন নৃত্যেরই অংশ, জ্যাকলপ বউদের নাচের মত।

কিন্তু এই সময়ে এই শহরের মেয়েরা শিখে নি এবং ছেলেটি তার কৌতুহল শেষ করে নি। নাচের সময়ে সে পকেটে দু হাত পুরে দেয়ালে হেলান দিয়ে জ্বলমলে চোখ মেলে তাকিতে থাকত। বাকী তরুণেরা তার দিকে তাকাত অপছন্দের দৃষ্টিতে। সে নাচ শেষ হবার আগেই চলে যেত। এবং কখনো সেসব চোখ স্মরণ রাখতো না যেগুলো তাকে অনুসরন করছিল এবং আশা করছিল সে থাকবে।

তার শুধু একটাই চিন্তা ছিল এবং একটি মাত্র চিন্তা – একটি জ্যাকালপ বউ ধরতে হবে। .

তারা ছিল অতি সুন্দর সৃষ্টি। তাদের লম্বা বাদামী পাগুলো এবং তাদের শরীর যেন আগ্নেয় আলোর দ্বারা ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়া কমলাবর্ণ। তাদের মুখ ছিল এমন যা কোন মানুষ নারীদের মধ্যে দেখা যায় না। তারা চলাচল করত উজ্জ্বল পারদের মত এবং তারা এমনভাবে সুর তৈরী করত যা আপনার হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে এবং অসুস্থতার মত ছন্দোবদ্ধ মূর্ছনার তৈরী করে যায়।

এবং সেখানে একটি ছিল – তাকে দেখেছিল ছেলেটি। সে অন্যদের থেকে একটু দূরে নাচছিল এবং তার শিংগুলো ছিল ছোট আর কাচির মত ধারালো। সূর্য উঠে যাবার পর সর্বশেষ তারই খরগোশের চামড়া পড়া বাকী ছিল। সুর বন্ধ হবার অনেক পরেও সে তার লম্বা পা গুলোর বালুকা প্রান্তরে আঘাতের ছন্দে নেচে যাচ্ছিল।

(এখন আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করবেন জ্যাকলপ বউদের জন্য সুর সৃষ্টি করছিল কোন বাদ্যকরেরা। বেশ, আপনি যদি এমন জায়গা পান যে যেখানে তারা নাচছে তাহলে বালিতে র‍্যাটলস্ন্যাকের সৃষ্ট সুরের মত কিছু একটা পেতে পারেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি আপনাকে বলতে পারব না। মরুভূমি তার সমস্ত গোপনীয়তা পুরোপুরি চিবিয়ে খেয়ে ফেলে।)

যাইহোক, সামান্য যাদুর স্পর্শযুক্ত তরুণ যুবক দেখছিল নাচছে জ্যাকালপ বউ এবং আপনি জানেন যেমন আমি জানি তরুণ যুবকের স্বপ্ন কী। আমরা সহযোগী হব। জ্যাকালপ বউটি নাচছিল তার সঙ্গীদের থেকে একটু আলাদা হয়ে যখন তরুণ যুবক তার সঙ্গীদের চাইতে হেটে একটু সরে গেল।

হয়ত তরুণ ভেবেছিল জ্যাকালপ বউটি তাকে বুঝবে। হয়ত সে তাকে এমন আকর্ষনীয়রূপে পেয়েছিল যেরকম মেয়েরা তাকে মনে করে।

হয়ত সবসময় আমাদের তা পাওয়া উচিত না যা আমরা মনে করি আমরা চাই।

জ্যাকালপ বউ নাচছিল, সুর এবং অগ্নিকুন্ডের আলোর বৃত্তকে ছিন্ন করে। মরুভুমির ক্রুদ্ধ তারাদের আলোতে।

 

সন্ধ্যায় গ্র্যান্ডমা হারকেন কাঁধে শাল ঝুলিয়ে এবং কোলে একটা বিড়াল নিয়ে বসেছিলেন তখন দরজায় কেউ ধাক্কাতে শুরু করল।

“গ্র্যান্ডমা! গ্র্যান্ডমা! তাড়াতাড়ি দরজা খুলো। ঈশ্বর! গ্র্যান্ডমা, আমাকে তোমার সাহায্য করতেই হবে_”

তিনি জানতেন এই কন্ঠস্বর স্বাভাবিক। এটা তার আপন নাতি, তার কন্যা ইভার পুত্র। সুন্দর কিন্তু অকর্মা। আকর্ষনীয় যখন সে তা হওয়ার চেষ্টা করে।

তিনি বিড়ালটাকে ফেলে উত্তেজিতভাবে দরজার কাছে গেলেন। তরুণ গাধাটা কোন ঝামেলায় পড়ল আবার?

তিনি বিড়বিড় করে বললেন, “সুইট সেইন্ট এন্থনি। ছেলেটা যেন কোন বোকা মেয়ে নিয়ে ঘরে না আসে। এটাই শুধু আমরা চাই।”

তিনি দরজা একটু খুললেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ইভার পূত্র একটি মেয়ের সাথে। মুহুর্তের মধ্যে গ্র্যান্ডমা হারকেনের সবচেয়ে কঠিন ভয়টিই বাস্তবে রূপ নিল।

তারপর তিনি দেখতে পেলেন তার নাতির বাহুতে গাদাগাদি করে চক্রাকারে থাকা বস্তুটি এবং তার কঠিন ভয় প্রতিস্থাপিত হল আরো অনেক অনেক কঠিনতম ভয়ের দ্বারা।

তিনি বললেন, “ওহ ম্যারী! ওহ জিসাস! ওহ মহিমান্বিত সেইন্ট এন্থনী! তুই একটি জ্যাকালপ বউ ধরেছিস!”

তার প্রথম চেষ্টা ছিল ঠেলে দরজা বন্ধ করে লক করে দেয়া।

তার নাতি দরজার কিনারের এক অংশ ধরে টেনে তা খোলা রাখল। তার হাতের আঙুলগুলো যেখানে হাতের সাথে মিশেছে সেই অংশটায় ক্ষত ছিল এবং ফোস্কা পড়া। সে বলল, “আমাকে ভিতরে আসতে দাও।” সে কাঁদছিল এবং তার সারামুখে লেগেছিল ধুলোবালি। তার কান্নার ধারার মধ্যেও লেগেছিল।

“আমাকে ভেতরে আসতে দাও। ঈশ্বর, গ্র্যান্ডমা, তোমার আমাকে সাহায্য করতেই হবে। সবকিছু খারাপদিকে চলে গেছে _”

গ্র্যান্ডমা দুই পা পিছনে সরে গেলেন যখন সে জ্যাকলপের বউকে অর্ধেক ঢুকিয়ে ফেলল ঘরে। সে তাকে ফায়ারপ্লেসের ধারে মেঝেতে ছেড়ে দিল এবং তার নানীর হাত ধরে বলল, “গ্র্যান্ডমা_”

গ্র্যান্ডমা তাকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে এবং নিচু হয়ে বসে গেলেন জ্যাকলপের বউয়ের কাছে। তার ফায়ারপ্লেসের ধারে যে বস্তুটি সেটার সাথে অল্পই মানুষের মিল আছে। তিনি বললেন, “তুই কী করেছিস? কী করেছিস এর সাথে?”

“কিছুই করি নি।” কুন্ঠিত হয়ে জবাব দিল ছেলেটি।

“ওটার দিকে না তাকিয়ে বল আমাকে। ঈশ্বরের নামে শপথ করে বল কী করেছিস মেয়েটিকে?”

সে তার ফোস্কা পড়া হাতের দিকে তাকিয়ে বলল, “তার চামড়া, মানে ওই খরগোশের চামড়া জানো তো।”

“অবশ্যই চিনি আমি।” তিনি গর্জে উঠলেন। “তুই ওটাকে কী করেছিস মূর্খ? তার চামড়া তার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিস যাতে সে পরবর্তিত হতে না পারে?”

জ্যাকলপ বউ ফায়ারপ্লেসের ধারে নড়ে উঠল এবং ঘোঙান ও ফোঁপানোর মাঝামাঝি একটা শব্দ করল।

ছেলেটা বলল, “সে আমার জন্য অপেক্ষায় ছিল। সে জানত আমি সেখানে। আমি – মানে আমরা – আমি তাকে দেখছিলাম এবং সে জানত আমি সেখানে আছি। এবং সে আমাকে তার কাছে যেতে দিয়েছিল- আমি ভেবেছিলাম আমরা কথা বলতে পারি-”

গ্র্যান্ডমা হারকেন তার এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কপালে ঠেকালেন।

“আমি তার চামড়া তুলে নিলাম- মানে- এটা সেখানেই ছিল- সে দেখছিল- আমি ভেবেছিলাম সে চাইছে আমি এটা নিয়ে নেই-”.

তিনি ছেলেটার দিকে ফিরে তাকালেন। সে তার চেয়ারের নিচে পড়েছিল, তার সব সৌন্দর্য যেন উবে গেছে।

সে বিড় বিড় করে বলল, “এটা তোমাকে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে।” সে তার চেয়ারের আরেকটু নিচে গেল। “তোমার এটাকে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে। সবাই জানে। তাদের পরিবর্তিত অবস্থায় রাখতে হলে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে।”

গ্রান্ডমা হারকেন ঠোট বাঁকিয়ে বললেন, “হ্যা। এটাই নিয়ম।”

তিনি জ্যাকলপ বউটিকে ধরলেন এমন বাতির মুখোমুখি করলেন।

সে ছিল দেখতে বিভীষিকার মত। তার হাতগুলো মানুষের হাতের মতই ছিল কিন্তু পা এবং চোখগুলো ছিল জ্যাকর‍্যাবিটের। মানুষের মুখের চাইতে এগুলো অনেক দূরে দূরে বসানো ছিল, একটা ঠোট কাটা এবং ছিল লম্বা খরগোশের কান। তার শিংগুলো ছিল ছোট। তীক্ষ্ণ কাঁটা ছিল কপালে।

জ্যাকালপ বউ আরেকবার ফোঁপানোর মত শব্দ করল এবং আবার কুন্ডলী পাকানোর চেষ্টা করল। তার পা এবং বাহুতে ছিল পোড়া দাগ, মুখে ছিল লম্বা ফুলে উঠা একটা অংশ। তার স্তন এবং পেটের দিকে থাকা পশমগুলো ছিল ঝলসানো। সে মূত্র এবং পোড়া চুলের কটু গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

“তুই কী করেছিস?”

“আমি সেটা আগুনে ছুঁড়ে দিয়েছিলাম। এটাই করার কথা। কিন্তু সে আর্তনাদ করে উঠল- যদিও তার চিৎকার করার কথা ছিল না- কেউ বলে নি তারা আর্তনাদ করে- এবং আমি ভাবলাম সে মারা যাচ্ছে, এবং আমি তাকে কষ্ট দিতে চাই নি – তাই আগুন থেকে তা বের করে আনলাম আবার-”

সে তার জ্বরাক্রান্ত চোখ দিয়ে গ্র্যান্ডমার দিকে তাকাল। অকর্মা সুন্দর ছেলেটি। এবং সে বলল, “আমি তাকে কষ্ট দিতে চাই নি। আমি ভেবেছিলাম এটাই আমার করা উচিত-আমি তাকে চামড়া ফেরত দিয়ে দিলাম, সে পড়ে নিল, কিন্তু এরপরই সে পড়ে যায়- এরকম হওয়ার কথা ছিল না!”

গ্র্যান্ডমা হার্কেন বসে রইলেন। তিনি খুব ধীরভাবে নিঃশ্বাস নিলেন। তিনি খুব শান্ত ছিলেন। তাকে শান্ত হতে হয়েছিল কারণ তা না হলে তিনি অগ্নিযুক্ত কাঠদ্বারা নিজেকে প্রহার করে রক্তাক্ত হতে বাধ্য হতেন।

হয়ত সেটাও এই ছেলেটির মধ্যে সামান্য বিচার বুদ্ধি আনতে পারবে না। অহ, ইভা! ইভা! কী এক অকর্মন্য ছেলে তুই বড় করেছিস। কে জানতো তার মধ্যে একটি জ্যাকলপ বউ ধরার মত এত উচ্চাকাঙ্খা আছে?

“অকর্মা মূর্খ!” তিনি বললেন। তার প্রতিটি শব্দ যেন বাতাসে সজোরে বন্ধ হওয়া কপাটের মত আঘাত করছিল। “অকাঠ মূর্খ তুই! যদি তুই জ্যাকালপ বউ ধরতে যাস তাহলে চামড়া পুঁড়িয়ে ছাই করে ফেলতে হয়, যতই সে আর্তনাদ করুক না কেন।”

সে বলল, “কিন্তু এটা মনে হচ্ছিল সে কষ্ট পাচ্ছে। তুমি সেখানে ছিলে না। সে মরতে থাকা খরগোশের মত আর্তনাদ করছিল।”

গ্রান্ডমা গর্জন করে উঠলেন, “অবশ্যই এটা তাকে কষ্ট দেয়। তুই কী মনে করিস তোর চামড়া এবং স্বাধীনতা তোর সামনে পুঁড়ানো হবে আর তুই আর্তনাদ করবি না? প্রিয় মা মেরী! ছাগল, ভেবে দেখ তুই কী করছিস! নিষ্ঠুর হ নাহলে দয়াবান। কিন্তু একসাথে দুটো নয়। কারণ এখন তুই যে এক বড় ঝামেলা বাঁধিয়েছিস এটা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ফেলতে পারবি না।”

তিনি উঠে দাড়ালেন। দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে নিচে তার ফায়ারপ্লেসের পাশের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকালেন। তিনি এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন, যেন তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বোকা ছেলেটি আর্তনাদে এতোই ধাক্কা খেয়েছিল যে সে হ্যাঁচকা টানে পুঁড়তে থাকা চামড়া বের করে আনে। এবং জ্যাকালপ বউয়ের মাথায় তখন একটাই চিন্তা ছিল এবং সে চামড়া পড়ে লুকাতে-

হ্যা, তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন।

অর্ধেকটা পুঁড়ে গেছে, তিনি যদি বিচারকের দৃষ্টিতে দেখেন। সামান্য পশমের কিছু অংশই পুড়ে নি। সে যদি আরেকটি চিৎকার পর্যন্ত অপেক্ষা করত – অথবা না, সেটি খুব নিষ্ঠুর হত।

খুব সম্ভবত সে কেঁপে উঠেছিল এবং কোন লাঠি খুঁজেছিল কারণ খোলা হাতে বের করতে চায় নি। তবে তার হাতের অবস্থা দেখে বুঝা যায় শেষ পর্যন্ত সে হাতটাই ব্যবহার করেছিল।

এবং অন্য জ্যাকলপ বউয়েরা ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গেছে এবং এই জ্যাকালপ বউটিকে তাই বাঁধা দিতে পারে নি। তাদের অন্তত একজন থাকা উচিত ছিল, বুদ্ধিমান একজন অন্তত এটা বুঝার জন্য যে অর্ধ পোড়া খরগোশের চামড়া পড়তে নেই।

“তাকে এরকম দেখাচ্ছে কেন?” চেয়ারে গাদাগাদি ভাবে বসে ফিস ফিস করে বলল নাতি।

“কারণ সে ত্রিশঙ্কু দশায় আটকে আছে। তুই এটা করেছিস, তোর অদ্ভুত দয়ার কারণে। তোর উচিত ছিল সেটাকে পুঁড়তে দেয়া। অথবা সবচেয়ে ভালো, তাকে একা ছেড়ে আসা এবং মরুভূমিতে আর না যাওয়া।”

সে বলল, “সে ছিল খুব সুন্দরী।”

যেন এটাই ছিল একটি কারণ।

যেন এটা গুরুত্বপূর্ন।

যেন এটাই গুরুত্ববহ ছিল শুরু থেকে।

“দূর হয়ে যা।” গ্র্যান্ডমা ক্লান্তভাবে বললেন।

“যা তোর মাকে গিয়ে বল তোর হাতের ক্ষতস্থানে যেন কিছু লাগিয়ে দেয়। শেষপর্যন্ত একটা ভালো কাজ করেছিস তাকে এখানে নিয়ে এসে। যদিও বাকীটা শুধু ঝামেলা বাঁধিয়েছিস, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।”

ছেলেটি নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে দৌড় দিল।

দোরগোড়ায় গিয়ে সে থামল এবং ফিরে জিজ্ঞেস করল, “তুমি তাকে ভালো করতে পারবে, তাই না?”

গ্রান্ডমা স্ত্রী-শেয়ালের মত গর্জে উঠলেন। কোনমতে হাসলেন সামান্য। “না। বোকা ছেলে, এটা কেউই ঠিক করতে পারবে না। এই ভগ্নদশা মেরামতের অতীত। আমি সর্বোচ্চ যা করতে পারি তা হল টুকরা গুলো একত্রিত করা।”

ছেলেটি দৌড়ে পালাল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল স্বশব্দে। শুধু একা তিনি এবং জ্যাকলপ বউয়ের ধ্বংসস্তুপ রয়ে গেল।

 

তিনি পোড়া অংশগুলো পরিচর্যা করলেন এবং সেগুলো সেরে উঠল। কিন্তু জ্যাকালপের মুখের আকারের যে পরিবর্তন হয়েছিল কিংবা তাদের চোখগুলো যে অতি প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল কিংবা বাঁকা চাদের মত শিংগুলোর ব্যাপারে করার কিছুই ছিল না।

প্রথমে গ্র্যান্ডমা চিন্তিত ছিলেন যে যদি শহরের লোকগুলো তাকে দেখে ফেলে। তাহলে কেবল ঈশ্বরই জানেন কী হবে। কিন্তু জ্যাকালপ বউটির রঙ ছিল ধূলির সাথে মিলানো এবং তার মধ্যে ছিল বন্য পশুর মত স্থিরতা। যখন কেউ ডাকত, সে বাগানে মটরশুঁটির গাছগুলোর নিচে খুব সুন্দরভাবে লুকিয়ে থাকতো এবং কেউ দেখতে পেত না।

যে একমাত্র ব্যক্তিটির কাছ থেকে নিজেকে লুকাতে পারল না সে হল ইভা, গ্র্যান্ডমার মেয়ে। এটা এমন না যে সে ইভাকে গ্র্যান্ডমা ভেবে ভুল করেছিল। ইভা দেখতে ছিল সুখী সুখী চেহারার, স্বাস্থ্যবতী এবং গোলাকৃতির। গ্র্যান্ডমার দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ ইভার বাবাও একইরকম ছিলেন দেখতে।

গ্র্যান্ডমা ভাবলেন হয়ত আমাদের দুজনের গায়ের গন্ধ একইরকম। তাই সে বুঝতে পারে নি।

ইভার ছেলে আর আসে নি।

ইভা আস্তে করে বলল, “সে ভাবছে তুমি তার উপর রেগে আছো।”

গ্র্যান্ডমা বললেন, “তার ভাবনা সঠিক।”

তিনি এবং ইভা বারান্দায় বসে মটরশুঁটির বিচিগুলোর খোসা ছাড়াচ্ছিলেন। জ্যাকালপ বউ তখন বাগানে নিস্তেজভাবে পড়ে ছিল। চুলবিহীন অংশগুলো এখন আর খুব বেশি দেখা যায় না। পায়ের ক্ষীণ ডোরাকাটা দাগগুলি সম্ভবত ধূলি লেগেছে। ভালোভাবে না তাকালে তাকে এখন প্রায় মানুষই মনে হয়।

ইভা বলল, “ক্র্যাচ নিয়ে তো তাকে ভালো দেখাচ্ছে। মনে হয় সে হাটতে পারে না?”

গ্র্যান্ডমা বললেন, “ভালোভাবে পারে না। তার পা এভাবে দাঁড়ানোর জন্য তৈরী না। সে দাঁড়াতে পারবে কিন্তু এতে ভয়ানক কষ্ট।”

“এবং কথা বলতেও কী পারে না?”

গ্র্যান্ডমা সংক্ষিপ্তাকারে উত্তর দিলেন, “না। জ্যাকালপ বউ চেষ্টা করেছিল একবার। কিন্তু সেই শব্দগুলো ভয়ংকর। শেষপর্যন্ত কান্নাতে গিয়ে থামে। এরপরে সে আর চেষ্টা করে নি। ধারনা করি সে ব্যাপারটা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে।”

জ্যাকালপ বউ আরক্তিম মটরশুঁটি গাছটির নিচে আস্তে করে বসে রইল। একটি হামিংবার্ড উড়ে গেল তার মাথার কয়েক ইঞ্চি সামনে দিয়ে। সে ফুল থেকে ফুলে মধু সংগ্রহের জন্য ফুলে তার ঠোট প্রবেশ করাচ্ছিল উড়ে উড়ে। জ্যাকালপ বউ বিরস মুখে তাকে দেখছিল।

ইভা তার মায়ের দিকে না তাকিয়ে বলল, “আসলে সে কোন খারাপ ছেলে না। সে তার কোন ক্ষতি করতে চায় নি।”

গ্র্যান্ডমা রাগে ফেটে পড়লেন যেন। উত্তেজিত কন্ঠে বললেন, “জিসাস, ম্যারী, জোসেফ! সে কী করতে চেয়েছিল এটা বিষয় না। তার উচিত ছিল তাকে একা ছেড়ে দিয়ে আসা অথবা যেটা শুরু করেছিল তা শেষ করা।” তিনি রাগান্বিত অবস্থায় মুখ বিকৃত করে মটরশুঁটির দিকে তাকালেন। তার উত্তেজিত হাতের স্পর্শে লাল খোসা ছেড়ে সহজেই যেন বীজগুলো বেরিয়ে আসছিল।

তিনি বললেন, “এর চেয়ে পরিপূর্ণ মানুষ অনেক ভালো। সে যদি একটা পাথর দিয়ে তার মাথা গুঁড়িয়ে দিত তাও এই অবস্থার চেয়ে ভালো ছিল।”

“কার জন্য ভালো? তোমার জন্য তা তার জন্য?” জিজ্ঞেস করল ইভা। যে তার মাকে ভালোভাবে জানত এবং পুত্রস্নেহে ছিল বোকার মত।

গ্র্যান্ডমা আবার ক্রোধ প্রকাশ করলেন। হামিংবার্ড ডানা ঝাঁপটে চলে গেল। জ্যাকালপ বউ ছায়াতেই শুয়ে রইল নিস্তেজ। তার পাঁজর শুধু উঠছিল আর নামছিল।

ইভা আস্তে করে বলল, “তুমিও কিন্তু শেষ করতে পারতে। আমি দেখেছি তুমি মুরগী জবাই করো। তুমি বললে সে নিশ্চয়ই ছুরির নিচে মাথা পেতে দেবে।”

গ্র্যান্ডমা বললেন, “সম্ভবত সে দিবে।”

তারপর ইভার দূর্বল বিচক্ষণ চোখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বললেন, “কিন্তু আমিও যে আরেক বোকা।”

গ্র্যান্ডমার মেয়ে ইভা হেসে বলল, “তাহলে মনে হয় এই বোকামিটা আমাদের বংশানুক্রমিক।”

 

পরদিন সকালে গ্র্যান্ডমা হারকেন ঊষাকালের পূর্বেই ঘুম থেকে উঠলেন এবং বাড়িতে জিনিসপত্র ওলটপালট করে খোঁজাখোঁজি করলেন।

“এইতো” বলে তিনি ইঁদুর ধরার ফাঁদ থেকে মৃত একটি ইঁদুর তুলে আনলেন এবং প্রায় আধ ডজন সিগারেট নিলেন ঘড়ির পিছনের জায়গাটা থেকে। তিনটি বোতল পানিতে ভর্তি করে কোমড়ের সাথে বেঁধে নিলেন। বললেন, “মনে হচ্ছে একজন মানুষের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তার সবটুকুই আমি করে ফেলেছি। এখন বাকীটা নির্ভর করছে আরেকজনের উপর।”

তিনি বাগানে গেলেন এবং দেখতে পেলেন জ্যাকালপ বউ সিঁড়ির নিচে ঘুমিয়ে আছে। তিনি বললেন, “চলো আমার সাথে। ঘুম থেকে ওঠো।

ঠান্ডা বাতাস বইছিল। জ্যাকালপ বউ তার হরিণী চোখ মেলে তাকাল কিন্তু নড়ল না। সে যদি কোন মানুষ হত তাহলে গ্র্যান্ডমা হারকেন হয়ত কষে থাপ্পর লাগাতেন।

কথা শোন! তাড়াতাড়ি ওঠো! তৈরী হও!

কিন্তু সে কোন মানুষ ছিল না। খরগোশেরা ভয় পেলে স্থির হয়ে যায়। তাই গ্র্যান্ডমা দাঁত কিড়মিড় করে একহাত দিয়ে টেনে জ্যাকাল বউকে তুলে ধরলেন সেই উষা পূর্ব অন্ধকারে।

তারা আস্তে আস্তে চলতে লাগলেন। তারা দুজন। গ্র্যান্ডমা বৃদ্ধ লোক। তার উপর দুজনের জন্য পানি বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আর মেয়েটি হাটছিল ক্র্যাচে ভর করে। সূর্য উঠে গেল এবং ঝিঁ ঝিঁ পোকা তাদের ডানার ঝাঁপটানিতে পোড়াচ্ছিল বাতাস।

পাহাড়ের উপর থেকে একটি নেকড়ে তাকাল তাদের দিকে। জ্যাকালপ বউ একবার উপরে তাকিয়ে দেখল নেকড়েটাকে এবং কুঁকড়ে গেল আবার। গ্র্যান্ডমা তার কাঁধে হাত রাখলেন।

“চিন্তা করো না”। নেকড়ের জন্য আমার ধৈর্য নেই। তারা হয়ত তোমাকে ঠিক করে দিতে পারবে কিন্তু আমরা দুজনই অতীতে বন্দি হয়ে যাব। এবং তার জন্য বয়স আর আমার নেই, আমি বৃদ্ধ। সুতরাং, সামনে চলো।”

তারা আর একটু এগিয়ে গেলেন। একটি জলধারা এবং জলগর্তকে পেছনে ফেলে। পেলো ভার্ডে গাছ তার সবুজ ডালপালা বিস্তার করে রেখেছিল জলের উপরে। একপাশ থেকে একটি জ্যাভেলিনা তাদের দিকে তাকিয়ে তার পা নাড়ছিল। তার সন্তানেরা একসাথে কামড়াকামড়ি করছিল।

গ্র্যান্ডমা এগিয়ে গিয়ে হড়কাতে হড়কাতে ঢাল বেয়ে জলধারার কাছে নামলেন এবং বোতলগুলোতে পানি ভরলেন। জ্যাকালপ বউকে বললেন, “এদের দ্বারাও হবে না। তারা কাঠের ভেড়ার ব্যাপারে কথা বলবে। তারা কখন শুরু করবে সেটা বের করার আগেই আমরা দুজন মরে ভুত হয়ে যাবো।”

তারা যখন জলধারাটি থেকে চলে যাচ্ছিলেন জ্যাভেলিনা তখন অন্যদিকে তাকিয়ে তাদের উপেক্ষা করল।

সূর্য ছিল ঠিক মাথার উপর এবং আকাশ ফিরোজা রঙ ধারণ করল। এটা এমন কঠিন এক রঙ যে এর উপর আপনি আঙ্গুলের গিট দ্বারা আঘাত করতে পারবেন। একটি দাড়কাক তারস্বরে ডেকে চলে গেল মাথার উপর দিয়ে এবং আরেকটি চাপা স্বরে হাসছিল পূর্বদিকের কোন একটা জায়গা থেকে।

জ্যাকালপ বউ থামল এবং তার ক্র্যাচে ভর করে দাঁড়িয়ে গভীর আগ্রহের সাথে উপরে দাঁড়কাকের ডানার দিকে তাকাল।

গ্র্যান্ডমা বললেন, “ওহ না! এসব হেঁয়ালির জন্য সময় নেই আমার। এরা শেষে যেকোন একজনের চোখ খেয়ে ফেলে সব সময়। শান্ত হও বাছা। আমরা প্রায় এসে গেছি।”

শেষ অংশটাই আসলেই ছিল মারাত্মক কঠিন, খাড়া অন্তরীপের পাশ দিয়ে যাওয়া। পায়ের নিচে নরম বালি ক্র্যাচে ভর করে যাওয়া একটা মেয়ের জন্য ছিল অসম্ভব কঠিন। জ্যাকালপ বউকে প্রায় বয়েই নিতে হচ্ছিল গ্র্যান্ডমাকে শেষ পর্যন্ত। তার ওজন একটা বাচ্চার ওজনের চেয়ে বেশি ছিল না। কিন্তু বাচ্চারাও কম ওজনের না। তাই দুজনের জন্যই বেশ সময় লাগল।

একেবারে উপরে ছিল একটি বড় ভাঙা পাথর যার উপরে আঙুলের ছায়া কীলক দিয়ে আটকানো সূর্যঘড়ির মত পড়ে।

গ্র্যান্ডমা বললেন, “হবে। এতেই হবেই।”

তিনি জ্যাকালপ বউকে ছায়াতে শুইয়ে দিলেন এবং তার সাথের জিনিসপত্র বাইরে রাখলেন। সিগারেট, মৃত ইঁদুর এবং জ্যাকালপের বউয়ের স্তনের পাশ থেকে আনা সামান্য পোড়া পশম।

আবার বললেন তিনি, “এতেই হবে।”

তারপর তিনি নিজেই ছায়াতে বসলেন এবং তার স্কার্ট ঠিক করলেন।

তারপর তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন।

সূর্য মাথার উপর দিয়ে চলে গেল এবং পানির বোতলও শেষ হয়ে এল। সূর্য ডুবতে শুরু করল এবং বাতাস বইছিল হিস হিস করে। জ্যাকালপের বউ ঘুমিয়ে ছিল অথবা মারা গিয়েছিল।

পেলো ভার্ডে গাছে বসা দুটি দাঁড়কাক নিজেদের মধ্যে কথা চালাচালি করছিল। একপক্ষ যাই বলে অন্যপক্ষ তাতেই যেন করছিল হাস্য উপহাস।

গ্রান্ডমার পিছন থেকে একটি কন্ঠস্বর বলে উঠল, “আরে! দেখো, আমাদের এখানে কে এসেছে।”

“জিসাস, মেরী, জোসেফ!”

লোকটি বলল, “এখানে তাদের বেশি দেখি না। অবশ্য এটা উপযুক্ত স্থানও নয়। তোমার সেইন্ট এন্থনিকে মনে হয় আমি দেখেছি। তিনি মরুভূমির ব্যাপারগুলো ভালো বুঝেন।”

গ্র্যান্ডমার ঠোট বেঁকে গিয়েছিল। তিনি বিষন্নভাবে বললেন, “খরগোশ পিতা। আপনাকে ডেকে আনার চেষ্টা করছিলাম না।”

খরগোশ পিতা সামান্য হেসে বললেন, “সেটা আমি জানি। কিন্তু তুমি তো জানো তোমার জন্য সব সময়ই আমার মনে একটা কোমল জায়গা ছিল, ম্যাগী হারকেন।”

গোড়ালির উপর ভর করে তিনি গ্র্যান্ডমা হারকেন পাশে বসলেন। তাকে দেখাচ্ছিল বোতাম ছাড়া শার্ট পড়া মেক্সিকান বৃদ্ধের মত। তার চুল ছিল খরগোশের পশমের মত রৌপ্য ধূষর। গ্র্যান্ডমা এক মিনিটের জন্যও বোকা বনে যান নি।

“শহরে খুব একা হয়ে পড়েছ, ম্যাগী? তাই কিছু বন্য সংসর্গের জন্যই কী চলে এসেছ?”

গ্র্যান্ডমা হারকেন জ্যাকালপ বউয়ের কাছে গিয়ে তার একটি কান মুখ থেকে তুলে সোজা করে দিলেন। তিনি সেগুলোর দিকে তাকাচ্ছিলেন অবুঝ দৃষ্টিতে।

খরগোশ পিতা একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়লেন বাতাসে। তারপর বললেন, “শিট! এরকম আগে কখনো দেখিনি। ম্যাগী, তুমি এর সাথে কী করেছ?”

“আমি কিছুই করি নি। শুধু তাকে মরতে দেই নি যেটা করা উচিত ছিল।”

আরেকরাশ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে খরগোশ পিতা বললেন, “অনেকে আছে যারা বলবে সেটাই অনেক বেশি।”

“সে আধ পোড়া চামড়া পড়ে ফেলেছিল। আপনি কী তাকে সারিয়ে তুলতে পারবেন না?”

এই কথাটি বলতে গ্র্যান্ডমাকে বেশ সাহস সঞ্চয় করতে হয়েছিল। খরগোশ পিতা স্বীকৃতির ভঙ্গিতে নিজের চিবুক নাড়লেন।

“হুম! না। এটা যদি হালকাভাবে লাগানো থাকত তাহলে আমি ঠিক করতে পারতাম হয়ত। কিন্তু এখন তো ছুরি দিয়ে ওর গা থেকে খুলতে পারব না।”

তিনি সিগারেটে আরেকটি টান দিলেন। বললেন, “এখন আমি বুঝতে পারছি তুমি কেন প্রতিমান মানবদের একজনকে চেয়েছিলে।”

গ্র্যান্ডমা দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।

খরগোশ পিতা মাথা নেড়ে বললেন,“ এটা তো জানো, সে হয়ত একটা জীবন চাইবে। এই তুচ্ছ ছোট ইঁদুরে হয়ত যথেষ্ট হবে না।”

“তাহলে সে আমারটা নিতে পারে।”

“আহ, ম্যাগী, ম্যাগী...তুমি একসময় দারুণ খরগোশ ছিলে। এখন তোমার পাকস্থলীতে অজস্র পাথর।”

তিনি অনুতাপের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বললেন, “তার উপর তোমার জীবনে তার অধিকার নেই।”

“আমার জীবনই সে পাবে। আমার আত্মীয় এটা করেছে। সুতরাং আমার দায়িত্ব এটাকে ঠিক করা।”

তার মনে হল ইভার জন্য একটা নোট রেখে যেতে হবে যেন সে তার বোকা ছেলেকে মরুভূমি থেকে দূরে পূর্বদিকে আবার পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে।

খরগোশ পিতা বললেন, “হয়ত আমরা কোন পথ পাবো। দেখা যাক।”

পাথরের একপাশে এসে দাঁড়াল একটি লোক। সে প্রথমে খুব তাড়াতাড়ি চললেও পরে ধীর হয়ে এল। তার চোখের পাতা নড়ল না একবারও। সে ছিল পুরো নগ্ন এবং তার চামড়া হীরকখন্ড খচিত।

গ্র্যান্ডমা হারকেন মাথা নিচু করে তাকে সম্মান জানালেন। কারণ প্রতিমান মানবেরা কথা শুনতে পারে না।

সে গ্র্যান্ডমা হারকেন, খরগোশ পিতা এবং জ্যাকালপ বউয়ের দিকে তাকাল। সে তার সামনে পাথরের নিচের দিকে তাকাল।

সিগারেটকে উপেক্ষা করল সে। মৃত ইঁদুরটাকে দুই আঙুলে তুলে মুখে পুরে নিল।

তারপর সেখানে সে উপুর হয়ে পড়ে রইল অনেকক্ষন। সে এতই স্থির হয়ে পড়ে ছিল যে একটানা তাকিয়ে থাকতে থাকতে গ্র্যান্ডমার চোখে জল চলে এসেছিল। তিনি এরপর অন্যদিকে তাকাতে বাধ্য হলেন।

খরগোশ পিতা বললেন, “ মনে হয় সে করে ফেলেছে। সে তার ওই চামড়াটা খসিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এরপর কী? তোমার কাছে তো জ্যাকালপ বউ আর থাকবে না, মানুষ থাকবে।”

গ্র্যান্ডমা তার রোগা হাতের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মানুষ হওয়া খুব খারাপ না। মানিয়ে নিতে হবে। এবং এটি তার পূর্বের ভয়ংকর অবস্থা থেকে তো ভালো।”

খরগোশ পিতা সামান্য হাসলেন।

প্রতিমান মানব উঠে দাঁড়াল এবং জ্যাকালপ বউয়ের দিকে মাথা নাড়ল।

জ্যাকালপ বউ তার প্রশস্ত চোখ মেলে গ্র্যান্ডমার দিকে তাকাল। গ্র্যান্ডমা বললেন, “লোকটি তোমাকে মেরে ফেলবে। অথবা ঠিক করে দেবে। আবার দুটোই করতে পারে। তোমাকে কিছু করতে হবে না। এখানেই তুমি সামান্য পছন্দ করার স্বাধীনতা পাবে। কিন্তু শেষ হয়ে গেলে তুমি একটাই রয়ে যাবে। একটাই, মৃত্যু হলেও।”

জ্যাকালপ বউ মাথা নাড়ল।

সে ক্র্যাচ ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার খরগোশ পা অবশ্য এর জন্য তৈরী হয় নি। তবুও সে তিন পা হেটে প্রতিমান মানবের কাছে গেল। প্রতিমান মানব হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল তাকে।

প্রতিমান মানব তার অগ্রবাহুতে কামড়ে ধরল, যেখান দিয়ে বড় রক্তনালী চলে গেছে। সে তার দাঁত মাড়ি পর্যন্ত ডুবিয়ে দিল কামড়ে। গ্র্যান্ডমা বিড়বিড় করে অভিশাপ দিতে লাগলেন।

খরগোশ পিতা তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, “শান্ত হও। সে একজন প্রতিমান মানব। তারা একটা উপায়ই জানে।”

জ্যাকালপ বউয়ের চোখ ঘুরে এল এবং সে নিচের দিকে ঝুলে পড়ল।

প্রতিমান মানব তাকে আস্তে করে নিচে রেখে দিল। সে একটি সিগারেট নিল।

গ্র্যান্ডমা হারকেন তার দিকে এগিয়ে গেলেন। তিনি তার দুই কব্জি উন্মুক্ত করে তার সামনে মেলে ধরলেন।

প্রতিমান মানব তার দিকে তাকিয়ে রইল চোখের পাতা না নাড়িয়ে। দাড়কাকগুলো জলাধারের এক প্রান্তে বসে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছিল। লোকটি টলতে টলতে সন্ধ্যায় মিলিয়ে যাওয়ার পূর্বে গ্র্যান্ডমা হারকেন এবং একটি র‍্যাটলস্নেকের সামনে তার মাথা নিচু করেছিল।

গ্র্যান্ডমা একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, যেটা যে এতক্ষণ তিনি ধরে রেখেছিলেন তা তার মনে ছিল না। “প্রতিমান মানব জীবন চায় নি!”

খরগোশ পিতা সামান্য হেসে বললেন, “মনে হয় সে ক্ষুধার্ত ছিল না। মনে হয় তুমি যে দিতে চেয়েছ এটাই যথেষ্ট ছিল।”

“হতে পারে আমি খুব বৃদ্ধ এবং রোগা।”

“সেটাও হতে পারে...”

জ্যাকালপ বউ নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। তার নাড়ি প্রথমে খুব দ্রুত এবং পরে আস্তে আস্তে স্পন্দিত হতে লাগল। গ্র্যান্ডমা তার পাশে বসেছিলেন এবং তার কবজি নিজের হাত দিয়ে ধরে রেখেছিলেন।

খরগোশ পিতা বললেন, “তুমি কতক্ষন অপেক্ষা করবে?”

গ্র্যান্ডমা উত্তর দিলেন, “যত সময় লাগে।”

তারা যখন অপেক্ষায় ছিলেন তখন সূর্য ডুবে গেল। নেকড়েরা চাঁদের দিকে মুখ করে গান গাইতে লাগল। চাঁদটা ছিল অর্ধেক পূর্ন এবং অর্ধেক নতুন। দুটি জিনিসের মাঝামাঝি অবস্থা।

“তাকে মানুষরূপে থাকতে হবে না।” বললেন খরগোশ পিতা। প্রতিমান মানবের ফেলে যাওয়া সিগারেট থেকে তিনি একটা নিলেন এবং আরেকটা অফার করলেন গ্র্যান্ডমাকে।

“তার তো আর জ্যাকালপের চামড়া নেই।”

খরগোশ পিতা মৃদু হাসলেন। গ্র্যান্ডমা অন্ধকারে তার দাঁতগুলোই কেবল দেখতে পেলেন। খরগোশ পিতা বললেন, “তোমারটা দিয়ে দাও।”

গ্র্যান্ডমা হারকেন বললেন, “আমি সেটা পুঁড়িয়ে ফেলেছি। আমি সেটা খুঁজে পেয়েছিলাম তার মৃত্যুর পর এবং নিজ হাতে পুঁড়িয়েছি। কারণ আমার তখন নতুন স্বামী এবং ছোট বাচ্চা মেয়ে ছিল। এবং আমি যা কেবল ভাবতে পেরেছিলাম তা হল এদের পেছনে ফেলে রেখে গিয়ে নাঁচা।”

খরগোশ পিতা ধোঁয়া ছাড়লেন নিঃশব্দে।

“এটা এভাবে বেশি সহজ। তুমি যা পারতে তা ভুলে যাওয়ার চাইতে যা পারো না তা তাড়াতাড়ি অতিক্রম করে যেতে পারবে। এবং আমরা যা চাই তা আমাদের সব সময় পাওয়া উচিত না।”

তারা সেই খাড়া অন্তরীপের উপরে বসে রইলেন নিঃশব্দে। গ্র্যান্ডমার হাতের মাঝে নাড়ি নড়ছিল শান্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে।

খরগোশ পিতা বললেন, “তোমার প্রথম স্বামীকে আমার কখনোই ভালো লাগত না।”

গ্র্যান্ডমা সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, “সে আমাকে কীভাবে দোহাই দিতে হয় সেটা শিখিয়েছিল। এবং দ্বিতীয়টা তার চেয়ে ভালো ছিল।”

জ্যাকালপ বউ নড়ে উঠল। কিছু যেন তার গা থেকে ঝরে পড়ছিল, পোড়া কাগজের মত কিংবা সাপের পরিত্যক্ত খোলসের মত। বাতাস সেগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল অন্তরীপের এদিকে সেদিকে।

নিচে, গভীর মরুভূমি থেকে তারা সেই বন্য সঙ্গীতের প্রথম সুরটি শোনতে পেলেন।

খরগোশ পিতা বললেন, “আমার কাছে হয়ত একটা অতিরিক্ত চামড়া আছে।” তিনি তার ব্যাগে হাত দিয়ে বের করে আনলেন ধূষর লম্বা পাকানো খরগোশের চামড়া। জ্যাকালপ বউ চোখ বড় বড় করে তাকাল এবং তার শরীর আগ্রহী ভঙ্গিতে নড়ে উঠল। যেন একটি মানুষের শরীর নড়ছে।

“এটি আপনি কোথায় পেলেন?” সন্দিগ্ধ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলে গ্র্যান্ডমা হারকেন।

হাত নাড়িয়ে খরগোশ পিতা বললেন, “একবার আগুন থেকে বের করে এনেছিলাম। প্রায় চল্লিশ বছর আগের ঘটনা। ঠিক করতে কিছু সময় লেগেছে, কিন্তু কিছু লোকের কাছে আমার উপকার পাওনা আছে। ধরা যাক, সেও এটা নিতে পারবে...যদি তুমি নিতে না চাও?”

তিনি সেটা গ্র্যান্ডমা হারকেনের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।

গ্র্যান্ডমা নিলেন এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করতে লাগলেন। এটা পঞ্চাশ বছর আগে যেমন কোমল ছিল তেমনই কোমল। ছোট বাকানো শিংগুলো তার হাতের মধ্যে শক্ত লাগল।

খরগোশ পিতা বললেন, “তুমি দারুণ নর্তকী ছিলে।”

“এখনো আছি” বললেন গ্র্যান্ডমা হারকেন। তিনি কাঁধের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে ফেললেন খরগোশের চামড়াকে মানুষরূপী জ্যাকালপ বউয়ের উপর। মনে হল এটা যেন তার জন্যই তৈরী করা, এটা তারই। তার এক পায়ে একটি ছোট দাগ যেখানে একবার র‍্যাটলস্নেক কামড়ে দিয়েছিল। হঠাৎ সে প্রায় লাফিয়ে উঠে পড়ল, বৃত্তাকারে ঘুরল। এবং গ্র্যান্ডমার হাত নাক দিয়ে ধাক্কার মত স্পর্শ করে সে অন্তরীপ থেকে নিচের দিকে চলতে শুরু করল।

খরগোশ পিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “হ্যা। অবশ্যই।”

গ্র্যান্ডমা হারকেন বললেন, “যখন কারো পছন্দ করার সুযোগ থাকে তখন ব্যাপারটা ভিন্ন হয়ে যায়।”

তারা আরেকটি সিগারেট খেলেন একসাথে সেই পাথরের নিচে।

গভীর মরুভূমিতে, সঙ্গীত শুরু হয়েছিল এবং নাচছিল জ্যাকালপ বউয়েরা। এবং একটি ক্ষতচিহ্ন যুক্ত জ্যাকালপ বউ আগুনের বৃত্তে গিয়ে দানবের মত নাচছিল। যখন সাগোয়ারোর কাঁটার নিচে পড়ে ছিল চাঁদ।

 

 

লেখক পরিচিতিঃ

Ursula Vernon

উরসুলা ভার্ননের জন্ম মে ৭, ১৯৭৭ সালে। তিনি একজন আমেরিকান লেখক, ইলাস্ট্রেটর। তার গ্রাফিক উপন্যাস ‘ডিগার’ হুগো এওয়ার্ড ২০১২ সালে এবং ২০১৩ সালে মিথোপোয়িক ফ্যান্টাসী এওয়ার্ড ফর এডাল্ট লিটারেচার জিতে নেয়। ছোটদের জন্য লিখেছেন জনপ্রিয় বই সিরিজ ড্রাগনব্রেথ এবং নুর্ক।

ওয়েবসাইটঃ http://www.ursulavernon.com/

 

                                              গল্পে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রাণী এবং উদ্ভিদ

জ্যাকালপ

jackalope

একটি নর্থ আমেরিকান লোককথার কাল্পনিক প্রাণী। কল্পনা করা হয় এর শরীর জ্যাকর‍্যাবিটের এবং শিং এন্টিলোপের।

জ্যাভেলিনা

নর্থ আমেরিকান এক ধরনের শুওর।

স্যাগোয়ারো

saguaroMoon_seip

এক ধরনের ক্যাকটাস। আরিজোনার সেনোরান মরুভূমিতে বেশি জন্মে।

 

 

This one is the Bengali translation of Ursula Vernon's story "Jackalope Wives". You can read the main English story from Apex magazine.

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *