"মানুষের এতো নপর-চপর কিন্তু যখন ঘুমোয়, তখন যদি কেউ দাঁড়িয়ে মুখে মুতে দেয়, তো টের পায় না, মুখ ভেসে যায়। তখন অহংকার, অভিমান, দর্প কোথায় যায়?"- রামকৃষ্ণ

টম এন্ড জেরী নকশা


টম এন্ড জেরী

এই মানসিক নকশা ব্যাঙ নকশার মতোই। টম এন্ড জেরী নামক জনপ্রিয় কার্টুন আপনি হয়ত দেখেছেন। টম হইল শক্তিশালী বিলাই এবং জেরী বুদ্ধিমান উন্দুর।

টম এন্ড জেরী দেখার কালে দর্শকেরা জেরীকে সমর্থন করেন। জেরী নানাভাবে শক্তিশালী টমরে নাজেহাল কইরা ছাড়ে। দর্শকেরা এইটা দেখে মজা পান। একসময় অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল দারুন শক্তিশালী ছিল। যখন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্ন এরা একসাথে খেলতেন। তখন দেখা যাইত কোন দূর্বল দল অষ্ট্রেলিয়ারে হারাইতে থাকলে বেশিরভাগ দর্শকের সাপোর্ট চইলা যাইত ওই দূর্বল দলের দিকে। এখনো এইটা হয়। যদি দেখা যায় কোন শক্তিশালী দল দূর্বল দলের সাথে হারতেছে তখন দর্শকেরা খুশি হন। অবশ্যই ঐ শক্তিশালী দলের সমর্থকেরা বাদে।

খেলায় বা টম এন্ড জেরীতে এইটা হয়। ফিল্মেও শক্তিশালী ভিলেন দ্বারা দূর্বলেরা নির্যাতীত হইতে থাকলে দর্শকদের খারাপ লাগে।

কিন্তু বাস্তব জীবনে এমন হয় না। খুব বেশি হইলে সাধারণেরা এমন ভাব দেখাইতে পারে তার খারাপ লাগতেছে কিন্তু সে দূর্বলের পক্ষে অবস্থান নেয় না। দূর্বল নির্যাতীত হইতে থাকলে তার অত বেশি কিছু যায় আসে না।

এর কারণ হইল, বাস্তব জীবনে লোকেরা নিজেরাই টম বা শক্তিশালীর একটা অংশ মনে করে নিজেকে। সে দেখে একটা লোক শোষিত হচ্ছে সিস্টেমের দ্বারা, কিন্তু একই সিস্টেম হয়ত তাকে একটি ভালো জীবন যাপনের সুযোগ দিয়ে দিছে। এই অবস্থায় সে হয়ে যায় সিস্টেমের সুবিধাভোগী। টম এন্ড জেরী কিংবা খেলা দেখার সময় সে ছিল দর্শক। কিন্তু বাস্তব জীবনে সে নিজেই একটা পক্ষের লোক। কার্টুনে টম নিজের বিরোধীতা নিজে করতে পারে না। কিংবা দূর্বল দলের সাথে খেলায় শক্তিশালী দল নিজেই নিজের বিরুদ্ধে যাইতে পারে না। একইভাবে বাস্তব জীবনে সাধারন লোকেরা দূর্বলের পক্ষে যাইতে পারে না, কারণ সে নিজেই সেই শক্তিশালী শোষকের একটা সুবিধাভোগী অংশ।

সে দূর্বলের পক্ষে যাইতে পারত যদি সে এই শোষক শোষিতের খেলায় একজন দর্শক হইতে পারত। যদি সে শোষকের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকার পাইয়া নিজেরে শক্তিশালীর অংশ মনে না করতে পারত।

একজন চিন্তকের কাজ হইল তাই বৃত্তের বাইরে গিয়া জিনিসটাকে দেখা। তিনি একজন দর্শকের জায়গা থেকে বিষয়টাকে দেখতে থাকবেন। তখনই তিনি কেবল অবস্থার ন্যায়বিচার করতে পারবেন।

সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রেও এই নকশা কাজে লাগানো যাইতে পারে। দেখা যায় মানুষেরা যখন অন্যরে পরামর্শ দেয় তখন অনেক যৌক্তিক কথা বলে। কিন্তু নিজে যখন সমস্যায় পড়ে তখন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া তার পক্ষে কঠিন হইয়া যায়। এই ক্ষেত্রে, অন্যকে পরামর্শ দেবার কালে সে বাইরে থেকে দর্শকের মত অবস্থান নেয়, সবদিক দেইখা একটা কথা বলে। আর নিজের ক্ষেত্রে সে নিজেই একটা অংশ, ফলে মানবীয় আবেগ অনুভূতি তার যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পথে বাঁধা হইয়া দাঁড়ায়।

 

সংযুক্তিঃ

মানসিক নকশা নিয়া জানতে এবং অন্যসব নকশার লিংক পাইতে এই বিষয়ে প্রথম পোস্ট দেখতে পারেন।

এই লেখা সম্পর্কে আপনার কোন মতামত বা কোন মানসিক নকশা শেয়ার করতে চাইলে মানসিক নকশা ফেইসবুকে গ্রুপে যোগ দিতে পারেন।

Share
মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখার স্বত্ত্ব লেখক কতৃক সংরক্ষিত, কপি করবেন না। ফেইসবুকে লিংক শেয়ার করে একে আগ্রহী পাঠকের সামনে যেতে সাহায্য করুন।

Related Posts

Leave A Comment