by

স্ট্যাটাস গল্প ১-৫

স্ট্যাটাস গল্প-১>
এক ঈগল বনমুরগীর বাসায় ডিম পেরে গেল।বনমুরগী ডিমে তা দিল।বাচ্চা হল।ঈগলের বাচ্চাটি বনমুরগীর বাচ্চা হিশেবে পালিত হতে লাগল।স্বভাব ও তার হয়ে উঠল মুরগীর মত।বনমুরগীর মত ডাকে।উড়তেও পারে না।

একদিন সে দেখল আকাশে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে ঈগল।সে বিস্ময়ে প্রশ্ন করল, এটা কি?

বনমুরগীরা উত্তর দিল, ওটা ঈগল।অসাধারন পাখি।তুমি ওর মত দেখতে হলেও তুমি বনমুরগী হয়ে গেছ।ওর মত কখনো হতে পারবে না।

ঈগলের বাচ্চা এই কথা বিশ্বাস করে কোনদিন উড়ার চেষ্টা ও করল না।এভাবেই সে কাটিয়ে দিল তার পুরোটা জীবন।একসময় তার মৃত্যু হল।

তার জন্ম অয়েছিল আকাশের উঁচুতে উড়ার জন্য, কিন্তু তা সে জানতেও পারল না!

নীতিশিক্ষাঃ অধিকাংশ মানুষ ও এরকম।অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।বেশীরভাগই তা কাজে লাগাতে পারে না।
(গল্পটি প্রচলিত।আমার লেখা না)

স্ট্যাটাস গল্প-২>

তার ভাল নাম মওলানা আবদুর রহমান।বিরাটনগর গ্রামের মসজিদের মোয়াজ্জিন।হালকা পাতলা গড়ন।মুখে এক গোছা দাড়ি।তার একটি বিশেষ গুন আছে।সেই গুণের জন্যই এই গ্রাম এবং আশপাশের কয়েক গ্রামে তার কদর অনেক।

তার পোষা জ্বিন আছে।বাড়ি কোহকাফ।জ্বিনটা মেয়েছেলে।তিনি বলেন, "মেয়েছেলে জ্বিনের শক্তি বেশী।তাই মেয়েছেলে জ্বিন পালা ভাল।জ্বালা যন্ত্রনাও কম করে।বেটাছেলে জ্বিন বদ হয়।"

আমার সাথে তার পরিচয় কয়েকদিনের।এই কয়েকদিনেই তিনি যথেষ্ট অবাক করেছেন।তার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার একটি হল বড় বড় লোহার বল গিলে ফেলা।সেটাও করে দেখিয়েছেন।

আমার এক বন্ধুকে নিয়ে আজ এসেছি তার কাছে।উদ্দেশ্য তাকেও অবাক করে দেয়া।মওলানা ছোট টেবিলটার ওপাশে বসেছেন।তার সামনে লোহার তিনটা বল।আমাদের সামনেই তিনি একটা একটা করে তিনটা বল মুখে দিলেন।তারপর গিলে ফেললেন।পানি ছাড়াই।

আমি বরাবরের মত অবাক।বন্ধুর দিকে তাকিয়ে একটু বিজয়ের ভঙ্গিতে জিজ্ঞেশ করলাম, দেখছস?

সে বিরক্ত মুখে জবাব দেয়, দেখছি।লোকটা লোহার বল চাবাইতে পারে না!

নীতিশিক্ষাঃ কিছু লোক সবসময় নেগেটিভ দিক টাই দেখে। আমাদের সমাজে এদের সংখ্যা অনেক।এদের মন্তব্যে কোন কাজে নিরোৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই।

স্ট্যাটাস গল্প-৩>
জহির সাহেব সদ্য রিটায়ার্ড করেছেন।সরকারী চাকরী।সারাজীবন ভাল ইনকাম করেছেন।বানিয়েছেন এক বিশাল বাড়ি।সামনে ছোট হ্রদের মত পুকুর।পুকুরে টলটলে পানি।

বাড়ি বানানো পর্যন্ত তিনি ভালই ছিলেন।কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠার পর তার ঘুম হয় না।কোনভাবেই ঘুমাতে পারেন না।তিন চারটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালেও ১৫মিনিট পর ভয়ংকর চিৎকার করে উঠে পড়েন।দুঃস্বপ্ন দেখেন।ডাক্তার টাক্তার দেখিয়েও কিছু হয় নি।

আমি তাকে যখন দেখলাম তখন চোখ মুখ ফোলা।পায়ে পানি আসলে যেমন পা ফুলে যায় তেমন তার মুখ ফুলে গেছে।আমাকে দেখে মিনমিনে গলায় বললেন, জনাব দুশ্চিন্তায় আছি। ঘুমাতে পারি না।মনে হয় কখন জানি ছাঁদ ভেঙে পড়ে।আপনি একটা উপায় বলে দেন।এভাবে আর কয়দিন থাকলে মারা যাব।

আমি অনেক চিন্তা করে বললাম, আপনি পা উপরের দিকে দিয়ে ঘুমান।তাহলে ছাঁদ ভেঙে পড়লে ঠেকাতে পারবেন।চড়ুই পাখি ও আপনার মত মনে করে সে ঘুমালেই তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে।তাই ঠ্যাং উপরের দিকে দিয়ে ঘুমায়।তার ভাল ঘুম ও হয়।

এরপর থেকে জহির সাহেব পা উপরের দিকে দিয়ে ঘুমান।

নীতিশিক্ষাঃ বৃথা দুশ্চিন্তায় বেশীরভাগ মানুষই চিন্তিত থাকেন।চড়ুই পাখির মত।

4/ইদুঁরটি বলল, এই দুইন্যা বড়ই ছোট।দিন দিন আরো ছোট হয়ে যাচ্ছে।আমি যখন জন্মেছিলাম তখন দুইন্যা কত বড় আছিল। ইচ্ছামত কত দৌড়াদৌড়ি করছি।ডাইনে বামে দেয়ালগুলো কত দূরে আছিল! ভাবলেই চক্ষে পানি আসে।কিন্তু এখন! আগের সেই ফাকাঁ জায়গা আর নাই।বিস্তৃত জায়গায় দুদিক থেকেই দেয়ালগুলো চেপে আসল। আমাকে বাধ্য হয়ে আসতে হল এই ফাদেঁর দিকে।তাই আইজ ফাদেঁ আটকা পড়লাম।

বুরবাক ইদুঁর! তুই সোজা দৌড়ালি ক্যান?দিক পরিবর্তন করে দৌড়ালেই তো বাচঁতে পারতি।আর দেখতি দুইন্যা কত বড়, উপদেশের সুরে বলল আমার পোষা বিড়ালটা।তারপর খপ করে ইদুঁরটাকে ধরে কটকট শব্দ করে তার মাথাটা চিবুতে লাগল।

নীতিশিক্ষাঃ এক দিকে ব্যর্থ হলে অন্যদিকে দেখুন।দুনিয়া আসলেই বড়। সাময়িক ব্যর্থতায় হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

(Franz kafka-র একটা গল্পের(এ স্মল ফেবল) অনুবাদ)

স্ট্যাটাস গল্প-৫>
এক গ্রামে এক বুড়ো ব্যাঙ ছিল।অতি বৃদ্ধ। সুখেই ছিল।শীতনিদ্রায় কাটিয়ে দেয় পুরো বছর।
একবার বর্ষাকালে সে ডোবার পানিতে অর্ধেক দেহ ডুবিয়ে গভীর সাধনায় মগ্ন ছিল।এমন সময় দেবতা জিউসের আগমন ঘটল।জিউস হাতের লাঠিটা কয়েকবার ঘুরিয়ে বললেন, হে বৃদ্ধ ব্যাঙ, অনেকদিন তুমি আমাকে ডেকেছ।কিন্তু আসতে পারি নি।বড়ই ব্যস্ত ছিলাম।আজ বল তোমার কি চাওয়ার আছে?

বৃদ্ধ ব্যাঙ ক্রোনাস পুত্র জিউসের আগমনে অত্যধিক খুশি হয়ে পড়েছিল।আজ তার ডাক শুনেছেন দেবতা।এতদিনে!আজ নিশ্চয়ই তার আশা পূর্ন হবে।সে বলল, জনাব, অনেক বছর ধরে আপনার সাধনা করছি।আমি বৃদ্ধ।বেশীদিন বাচঁব না।আমার একটাই প্রার্থনা।অতি রূপবতী কোন মেয়ের সাথে যেন অতিসত্ত্বর দেখা হয় যার আমার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহ থাকবে।

জিউস বললেন, ঠিক আছে।তাই হবে।প্রচন্ড বর্জ্রপাতের শব্দের সাথে আলোর ঝলকানিতে জিউস অদৃশ্য হলেন।

এরপরদিন ই একজন লোক এসে ব্যাঙ টাকে ধরে নিয়ে যায়।বৃদ্ধ ব্যাঙ ক্লোরোফরমের গন্ধে জ্ঞান হারানোর আগ মুহূর্তে দেখতে পায় এক অতি রূপবতী মেয়ে বায়োলজী বক্সের ছোট কাচি নিয়ে তার নিয়ে এগিয়ে আসছে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *