by

সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন কি?

বই পড়ার দুই ধরণ আছে। একটা হলো একটিভলী। অর্থাৎ, এখানে বইয়ের সাথে পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে সরাসরি।

বই কী?

বই হচ্ছে লিখিত কিছু চিন্তা। কিছু কনসেপ্ট। কিছু কাহিনী।

পাঠক যখন এর সাথে একটিভলী যুক্ত হন তখন তিনি এগুলো নিয়ে ভাবেন। ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে দেখতে চান। বইয়ের চিন্তাটি থাকে আরো নতুন নতুন চিন্তার দিকে নিয়ে যায়। তিনি বাস্তবের অনেক ঘটনার সাথে, অন্যান্য বইয়ে পড়া ঘটনার সাথে নতুন পড়া বইটাকে রিলেট করে বুঝতে যান।

রিড অর্থাৎ ইংরাজি পড়া শব্দটির মূল অর্থ ছিল অনুমান। অনুমান করা।

বই পড়া মানে তথ্য জানা নয় কেবল। প্রশ্ন করতে শেখা। উম্বের্তো একো’র কথায় বই বিশ্বাসের বস্তু নয়, এনকোয়ারির বস্তু।

দ্বিতীয় ধরণের বই পড়া হলো প্যাসিভলী পড়া। এখানে বইয়ের তথ্য বা চিন্তা পাঠক গিলতে থাকেন। এমন পড়ায় লেখকের চিন্তার (সেটাও আরো নানা লেখক ও বিষয় থেকে আগত) সাথে পাঠকের চিন্তার সক্রিয় আদান প্রদান হয় না। বরং নিষ্ক্রিয় পাঠকের চিন্তা আকৃতি দিতে থাকে এসব বইয়ের চিন্তা। ফলে, এইসব পাঠকের চিন্তার জাগরন হয় না। এরা চিন্তায় উদার হন না। এবং এরা কেবল ঐ এক ধরণের বইই খুঁজতে থাকেন।

সক্রিয় অংশগ্রহণ না করে যে পড়া হয় সে পড়া পাঠককে আরো মূর্খ করে তোলে। বই পড়া মানেই যে একজনকে বুদ্ধিমান করে তুলবে এমন নয়, তার সক্রিয় থাকাটা জরুরী।

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরণের কথা বলা যায়। এখানেও একটিভ এবং প্যাসিভ অংশগ্রহনের ব্যাপার আছে।

 

পড়তে পারেনঃ বই পড়া বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক

 

প্যাসিভ অংশগ্রহনঃ

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন টুকরো টুকরো লেখা হচ্ছে। পোস্ট হচ্ছে। কিছু লোক এগুলি শুধুই কনজিউম করে যান। তারা অংশগ্রহণ করেন না। তারা নিজেরা পোস্টও দেন না। তাদের এই ফেইসবুক ব্যবহার হচ্ছে প্যাসিভ ব্যবহার।

 

একটিভ অংশগ্রহণঃ

এরা নিজেরা পোস্ট দেন বা অন্যের পোস্টে লাইক বা কমেন্ট দিয়ে এক্টিভলি অংশগ্রহন করে থাকেন।

ফেইসবুক সম্প্রতি তাদের ভেতরের এবং বাইরের রিসার্চের প্রেক্ষিতে বলেছে যে যারা ফেইসবুক ব্যবহারে প্যাসিভ অংশগ্রহন করেন, এরা সবচাইতে খারাপ মানসিক প্রভাবে পড়েন।

এটা সত্যি হতে পারে।

রবার্ট সাপোলস্কির স্ট্রেস বিষয়ক লেকচারে শুনেছিলাম, যদি মানুষের স্ট্রেস রিলিজ করার উপায় থাকে তবে সে স্ট্রেস তার ক্ষতি করে কম। স্ট্রেস বলতে দুশ্চিন্তা বুঝাচ্ছি।

ফেইসবুক স্ট্রেস রিলিজের এক মাধ্যম।

কেউ আপনার কাছ থেকে ঘুষ নিল সরকারী কাজে, তাকে আপনি কিছু বলতে পারলেন না। আপনার খারাপ লাগবে।

কিন্তু এটা নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে আপনি হালকা হতে পারেন।

আমার ধারণা, এইভাবে বিষয়টা কাজ করে। তাই যাদের ইন্টারেকশন স্বাভাবিক (অতি বেশী না আবার একেবারে নাইও না) তাদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ প্রভাব কম পড়ে।

আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটাও খেয়াল রাখা দরকার, সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে ব্যবহার করছে না আপনি আপনার প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত ফেইসবুক এমনভাবে ডিজাইন করা তাদের মাদকের মত আসক্তি জন্মে এর প্রতি।

তবে এতে এমন অনেক জিনিস আছে যা আপনি আপনার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন।

নিজের আত্মোন্নয়নের জন্য, জ্ঞানচর্চার জন্য বা কেরিয়ারের কোন কাজের জন্য, ব্যবসার জন্য।

বুদ্ধিমান মানুষেরা ফেইসবুক দ্বারা ব্যবহৃত হন না, নিজেদের প্রয়োজনে ফেইসবুককে ব্যবহার করেন।

এটাও মনে রাখা দরকার ফেইসবুক জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *