by

ফিল্মমেকিং অলস লোকের জন্য একমাত্র কেরিয়ার- আকি কাওরিজমাকির সাক্ষাৎকার

আকি কাওরিজমাকি একজন ফিনিশ ফিল্ম নির্মাতা। তার ভাই মিকা কাওরিজমাকিও চলচ্চিত্র পরিচালক এবং ভাইয়ের ছবিতে সহ-স্ক্রিন রাইটার এবং অভিনেতা হিসেবেই আকি কাওরিজমাকির চলচ্চিত্র সংস্লিষ্টতার শুরু। তার প্রথম ফিল্ম দস্তয়ভস্কির উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত “ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট”। ১৯৮৯ সালে নির্মিত রোড মুভি লেনিনগ্রাদ কাওবয়েজ গো আমেরিকার মাধ্যমে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক খ্যাতির সামনে আসেন।

২০০২ সালে নির্মিত দ্য ম্যান উইদাউইট এ পাস্ট দেখার মাধ্যমে আকি কাওরিজমাকির কাজের সাথে আমার পরিচয়। এই ফিল্মের কিছু বৈশিষ্ট্য অন্যরকম, যা কাওরিজমাকির নিজস্ব স্টাইল বলা যায়। তার চরিত্রগুলো হাসে না, ডায়লগগুলো সংক্ষিপ্ত, নিরাভরন, সরাসরি এবং ঋঝু হয়ে থাকে। চরিত্রগুলো এমনভাবে ডায়লগ বলে যায় যে মনে হয় কোন এক মহান কিংবা কঠিন সত্য বলে যাচ্ছে। তার নিজের চরিত্রের বিষাদি ভাবলেশহীনতা এবং ব্যঙ্গ ফিল্মের চরিত্রগুলোর মধ্যে দেখা যায়। স্টিল ক্যামেরায় সাধারণত তিনি চিত্র ধারণ করেন, তার চরিত্ররা বিষাদগ্রস্ত এবং প্রায়ই অনবরত সিগারেট খেতে থাকে।

আকি কাওরিজমাকিকে অঁতেয়া বা ওটার (auteur) বলা হয় কারন তিনি নিজের ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লেখেন, পরিচালনা করেন, এডিট করেন, প্রযোজনা করেন। ওটার বলতে বুঝায় ফিল্মের উপর যার পুরো শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত প্রভাব এমনভাবে বিদ্যমান থাকে যে তিনি ফিল্মের লেখক বা অথর। জার্মান চিত্র পরিচালক মিখায়েল হানেকেও এমনি একজন ওটার।

ডিজিটাল সিনেমাটোগ্রাফির একজন সরব সমালোচক আকি কাওরিজমাকির এই স্বাক্সাতকারটি নিয়েছেন ফিলিপ কনক্যানন। স্বাক্ষাতকারটি বাংলায় ভাষান্তর করা হলো।

  • মুরাদুল ইসলাম; ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আকি কাওরিজমাকি

আমি পিক্সেলমেকার নই

আকি কাওরিজমাকি একবার বলেছিলেন তিনি তার অর্ধেক ফিচার বানিয়েছেন মিতপায়ী হয়ে আর বাকী অর্ধেক বানিয়েছেন মাতাল হয়ে, কিন্তু কেউ পার্থক্য ধরতে পারে নি। কাওরিজমাকি কথা বলেন বিষাদগ্রস্ত ভাবলেশহীনতাকে ধারণ করে, যেন এমন লোক তিনি, যে স্বভাবতই জীবন নিয়ে ক্লান্ত। কিন্তু তার নয়া ফিল্ম লা হাভরে আশাবাদী ঘরানার। ফ্রেঞ্চ হারবারে বসবাসকারী এক জুতা পালিশকারী একজন আফ্রিকান অভিবাসী ছেলের বন্ধু হয়ে যায় এবং অথরিটির কাছ থেকে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। ছবিটিতে কাওরিজমাকির স্বতন্ত্র কম্পোজিশন, সুচতুর হাস্যরস, আলো আঁধারের অপূর্ব ভারসাম্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

কাওরিজমাকি লন্ডনে এসেছিলেন। সেখানে আমি তার সাথে দেখা করি এবং কথা বলি।

 

আপনি আজ কেমন আছেন?

  • ভালো না। দুই মাস ধরে মদ, সিগারেট ছাড়া আছি।

দুই মাস? নিজের ইচ্ছাতেই?

  • হ্যা, আমার একটু সুশৃঙ্খল হওয়া দরকার ছিল। (সিগারেট ধরালেন) কিন্তু মনে হচ্ছে আর দরকার নেই।

বিশ বছর আগে আপনি লন্ডনে একটা ফিল্ম বানিয়েছিলেন। আই হায়ারড এ কন্ট্রাক্ট কিলার। আপনি কি কখনো ভেবেছেন এখানে আবার শ্যুটিং করার কথা?

  • অবশ্যই। আমি যেকোন জায়গায় শ্যুট করব। কিন্তু ল্যাবরেটরীগুলো ঋণখেলাপি হয়ে গেছে, কোডাকও। তাহলে আমিও নই কেন?

আপনি কি ফিল্ম নিয়েই থাকবেন? এখন তো পুরো সিনেমার জগত ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে।

  • হ্যা, আমি ফিল্মে থেকেই মারা যাব। এই জীবনে ডিজিটাল  চলচ্চিত্র বানাব না। সিনেমা আলো দিয়ে নির্মিত এবং আমি বুঝতেও পারি না এখনকার দিনে আপনারা ফিল্মমেকার কাদের বলেন, ওরা তো পিক্সেলমেকার। আমি একজন ফিল্মমেকার, পিক্সেলমেকার নই। তাদের সৌভাগ্য কামনা করি, তবে সবার নয়, প্রায় সবার।

ফ্রান্সে সর্বশেষ আপনি La Vie de Bohème বানিয়েছিলেন ১৯৯২ সালে। এর পর থেকে কি ওখানে আবার কাজ করার কোন তীব্র ইচ্ছা আপনার মধ্যে কাজ করেছে গত বিশ বছরে?

  • না, আমি পরিকল্পনা করেছিলাম স্পেনে শ্যুট করতে কিন্তু ওখানে ভালো হার্বার (পোতাশ্রয়) শহর পেলাম না। তারপর চাইলাম মার্সেইতে শ্যুট করতে। কিন্তু ওখানে করা কঠিন কারণ রাস্তাগুলো খুবই অপ্রশস্ত। আমি আমার ট্র্যাকগুলো নিয়ে বের হলে রাস্তা ব্লক হয়ে ট্র্যাফিক জ্যাম লেগে যাবে, লোকেশনে যেতে লাগবে ছয়ঘন্টা, আসতে ছয়ঘন্টা, শ্যুটিং করার সময় থাকলো কোথায়? তাই আমার যৌক্তিক মন বলল ওখানে হবে না। ভূমধ্যসাগরের সমস্ত উপকূল ঘুরে বেড়ালাম এবং ফ্রান্সের লে হাভরে ছিল আমার শেষ ভরসা। এবং শ্যুটিং এর জন্য তা নিঁখুত ছিল।

তখন কি আপনার মাথায় পুরো গল্পটি ছিল? নাকী আপনি ঠিক জায়গা পাবার পরে গল্প তৈরী করেছিলেন?

  • গল্প তৈরী ছিল, আমার দরকার ছিল একটি শহর। গল্পটাকে সেট করার মত ঠিক জায়গা না পেলে আমি লিখতে পারি না।

অভিবাসনের ব্যাপারটি কেন আপনাকে আগ্রহী করে তুলল?

  • কারণ এটি আমাদের লজ্জা, তাই। আমি একজন ইউরোপিয়ান এবং এটা ইউরোপের লজ্জা যে এরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এখানে ঘটছে প্রতিনিয়ত।

অভিবাসনের গল্পগুলো প্রায়ই অনেক বিষন্ন হয় কিন্তু আপনারটি অনেক আশাবাদী।

  • আমি আমার স্বাভাবিক আশাবাদি প্রবণতা এড়িয়ে যেতে পারি নি।

মানবজাতির উপরে কিছু বিশ্বাস থাকা ভালো জিনিস।

  • না, মানবজাতির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

আমি জানি অতীতে প্রায়ই আপনি আপনার ফিল্মের জন্য একটা হ্যাপি এন্ডিং এবং স্যাড এন্ডিং ঠিক করে রাখতেন। তারপর একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে সিদ্ধান্ত নিতেন কোনটা ব্যবহার করবেন।

  • আমি জানতাম এই প্রশ্নটা করা হবে। লে হাভরের জন্য সব সময় হ্যাপি এন্ডিংই ছিল, রূপকথার মত। আসলে দুইটা হ্যাপি এন্ডিং ঠিক করেছিলাম, যা একটি নতুন বিষয়। তবে দর্শকদের এ ব্যাপারে বলবেন না।

ফিনল্যান্ডের চরিত্রের চাইতে ফ্রেঞ্চ বা ইংলিশ চরিত্র তৈরী করা আপনার কাছে কেমন ভিন্ন?

  • কোন পার্থক্য নেই, মানুষ তো মানুষই। আমার ভেতরের পরিকল্পনা থাকে এমন চরিত্র তৈরী করা যা কোন গ্রামীন চাইনিজ নারীও যেন সাবটাইটেল ছাড়া বুঝতে পারেন।

আপনি এখন পর্তুগালে বসবাস করছেন। ওখানে ফিল্ম নির্মানের চিন্তা কি করেছেন?

  • না, কখনোই নয়। তেইশ বসন্ত ধরে আমি ওখানে আছি এবং এখনো আমি বুঝতে পারি নি ওরা কীভাবে চিন্তা করে। তারা ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ বা স্প্যানিশদের মতো নয়। এটা দারুণ আগ্রহউদ্দীপক দেশ।

নির্বাক ফিল্ম আপনার কাজে দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে কি? আমার মনে হয় বাস্টার কিটন আপনাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছেন।

  • হ্যা, কিটন এবং চ্যাপলিন সব সময়ের সেরা। দুজনই, আমি বিশেষত কিটনের ম্লান নিরবতাকে পছন্দ করি।

তিনি ছিলেন এমন একজন যিনি শুধুমাত্র মুখের ভাবভঙ্গি দিয়ে অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারতেন। আপনি আপনার অভিনেতা অভিনেত্রীদেরকে কি এভাবে করতে বলেন?

  • চোখ কথা বলে, মুখমন্ডল নয়। ঐরকম করলে অতি অভিনয় হয়ে যাবে। তারা যদি  না হাসে কিংবা উইন্ডমিলের মতো হাত নড়াচড়া না করে তাহলে তাদের নিয়ে নেই।

জাঁ পিয়েরে দারোসিনের সাথে তো আপনি আগে কাজ করেন নি, কিন্তু তিনি এমন একজন অভিনেতা যিনি আপনার পৃথিবীর সাথে দারুণ মানিয়ে যান মনে হচ্ছে।

  • হ্যা, সে ভাগ্যবান। ঠিকে থাকা এবং কেরিয়ার গড়ার জন্য এটাই তার একমাত্র সুযোগ ছিল আমার সাথে। সত্যি বলতে কি আমি অতি অভিনয় এত অপছন্দ করি যে অভিনয়ই অনুমোদন করি না।

তাহলে আপনার অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাথে সেটে কীভাবে কাজ করেন?

  • দরকার হলে তাদের সামনে নিজে অভিনয় করে দেখাই কীভাবে তারা অভিনয় করবে। তার দরকার না হলে তাদের কম বা বেশি বলি, বেশিরভাগ সময়ই কম বলি। ঠিক অভিনেতা নেয়া আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। ঠিক অভিনেতা নিলে আর আমাকে পরিচালনা করতে হয় না, একজন অলস মানুষের জন্য তা ভালো।

যা হিচকক বলেছিলেন, “৭৫% পরিচালনা হচ্ছে অভিনেতা নির্বাচন”।

  • এটা তিনি বলেছেন নাকী? আমি ভাবতাম এটা আমার আইডিয়া।

আপনার বলা সাবটাইটেল ছাড়া বুঝতে পারা অংশটায় যাচ্ছি, ১৯৯৯ সালে আপনি জুহার সাথে একটি নির্বাক ফিল্ম নির্মান করেন। সেই দ্য আর্টিস্ট এখন একটি বড় সফলতা, আপনি কি আবার নির্বাক ফিল্ম নির্মান করবেন?

  • না, করে ফেলেছি। বিশ শতকের শেষ নির্বাক ফিল্ম বানিয়েছিলাম এবং এই বুম আমি শুরু করেছিলাম সম্ভব সবচেয়ে সেরা ফিল্ম দিয়ে। তাই আর আমার নির্বাক ফিল্ম বানানোর দরকার নেই।

বুঝতে পারছি লে হাভরে একটি ট্রিলজির প্রথম অংশ।

  • জীবনে পরিকল্পনা তো অনেক। আমি এত অলস সে আমার এই ফিল্মের বিভ্রান্তিগুলো নির্মান করেই যেতে হবে। এটা আমার মনকে ব্যস্ত রাখে। আমি বলতে চাই এটা আমার শেষ ফিল্ম কিন্তু তা সত্যি হবে না। কারণ মরার জন্য আমি অনেক তরুণ।

আপনি আপনার শেষ ফিল্ম নির্মানের পর অনেক সময় নিলেন নতুন ফিল্ম নির্মানে। আপনার শেষ ফিল্ম ছিল ২০০৬ এর লাইটস ইন দ্য ডাস্ক এবং এর আগে ছিল দ্য ম্যান উইদাউট এ পাস্ট ২০০২ এ।

  • আমি ছিলাম পৃথিবী দ্রুততম নির্মাতা। আশির দশকের শেষদিকে বছরে চারটা ফিল্ম নির্মান করেছি। বয়স বাড়তে থাকলে আপনি ধীর হয়ে যাবেন। এখন জারমুশও আমার চেয়ে দ্রুত।

আপনি কি এখন আপনার ফিল্মের জন্য টাকা পাওয়া কষ্টকর মনে করেন, না টাকা বা সাপোর্ট সবসময় আছে আপনার ফিল্ম বানানোর ক্ষেত্রে?

  • টাকা কখনোই সমস্যা ছিল না, এবং টাকা যদি আমি না পেতাম, টাকা ছাড়াই ফিল্ম বানাতাম। টাকা নাই এটা অলসদের অজুহাত।

আমি পড়েছি গত ত্রিশ বছরে যত ফিনিশ ফিল্ম হয়েছে আপনি এবং আপনার ভাই এর এক পঞ্চমাংশ নির্মান করেছেন।

  • ইদানীং আমার মনে হয় তা এক চতুর্থাংশ।

ফিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি কেমন? এটা কি বড় সিনেমাপ্রিয় দেশ?

  • এটা সিনেমাপ্রিয় দেশ ছিল। আগে প্যারিসের চাইতে ফিনল্যান্ডে গদার্দের দর্শক বেশি ছিল। বিপননের সমস্যার জন্য এখন সবই হলিউডি আবর্জনা।

এর জন্যই কি আপনি এবং মিকা মিডনাইট সান ফেস্টিভাল শুরু করেন?

  • এটা করেছিলাম ফেস্টিভালগুলো, যেখানে কেউ কারো সাথে মিলিত হতে পারে না; সেগুলোর প্রতি আমাদের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। আমরা এমন একটি ফেস্টিভাল করার সিদ্ধান্ত নিলাম যেখানে সবাই সবার সাথে মিলিত হবে, স্বাক্ষাত হবে, কেউ পালাতে পারবে না। আমরা পরিচালকদের বলি, “তুমি পালাতে চাইলে, তোমাকে স্বাগতম, এয়ারপোর্ট ঐদিকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে।” এখন পর্যন্ত কেউ যায় নি।  আপনি কি কখনো ফিনল্যান্ডে গিয়েছেন?

না, যাই নি।

  • যাবেন না। জীবন এমনিতেই যথেষ্ট বিরক্তিকর।

আপনি এবং মিকা যখন বেড়ে উঠছিলেন, কোন ফিল্মগুলো আপনাদের কাছে অনুপ্রেরণা ছিল?

  • আমাদের বাবাকে ধন্যবাদ যে আমরা পুরো ছোটবেলা একটা নির্জন জায়গায় থেকেছি। ছোট ছোট গ্রাম এবং সেখানে সিনেমা বলতে তারা পঞ্চাশের গ্ল্যাডিয়েটর দেখাত। হলিউডের ফিল্মের জন্য তা ছিল বধ্যভূমি, তাই আমি প্রথম সিরিয়াস ফিল্ম দেখি যখন ষোল বছর বয়েসে একটা ফিল্ম ক্লাবে যোগ দেই। আমার প্রথম সিনেমা অভিজ্ঞতা ছিল ফ্লহার্টির নানুক এবং বুনুয়েলের L'Âge d'Orতখন আমি প্রথম ভাবলাম, “হ্যা, এটা আসলে সিরিয়াস ব্যাপার।” এই দুই ফিল্মের মধ্যে এ পর্যন্ত নির্মিত সব সিনেমাকে রাখা যায়। আমার জন্য দুঃখের বিষয় যে আমি এই লেভেলে যেতে পারি নি।

আপনি প্রায়ই বলেন আপনি বাজে নির্মাতা এবং অলস নির্মাতা কিন্তু গত ত্রিশ বছরের হিসেবে আপনি তো বাজে কাজ করেন নি, করেছেন কি?

  • অন্ধের দেশে এক চোখা জ্যাকই রাজা।

কখনো কি নিজের কোন ফিল্ম নিয়ে তৃপ্ত হয়েছেন?

  •  তৃপ্ত হলে কি আর ফিল্ম বানাতাম, অবশ্যই বানাতাম না। অন্তত একবার তৃপ্ত না হয়ে মরাটা কাজের কথা না, তাই এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আপনার স্ক্রিপ্ট ফাইনাল মুভির সাথে কেমনভাবে মিলে?

  • যদি স্ক্রিপ্ট তৈরী করি তাহলে কোন পরিবর্তন হয় না। মাঝে মাঝে আমার স্ক্রিপ্ট থাকে না। তাৎক্ষণিক রচনা (ইম্প্রোভাইজ) করি। অভিনেতা অভিনেত্রীরা নয়, আমি তাৎক্ষণিক রচনা করে, শ্যুটিং এর সাথে সাথেই গল্প তৈরী করি। আমি খুব দ্রুত লিখতে পারি, আর গল্প যেহেতু মাথায় আছে, তাই এটা বিষয় না আগে তৈরী করলাম না তাৎক্ষনিক রচনা করলাম।

যখন আমি লোকদের বললাম আপনার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি তারা প্রায় সবাই আমাকে বলল আপনাকে যেন দ্য লেনিনগ্রাদ কাওবয়েজ এর কথা জিজ্ঞেস করি। আমি সাম্প্রতিককালে দেখেছি আপনি শর্ট ফিল্ম রকি আই ভি বানিয়েছিলেন ছিলেন তাদের নিয়ে।

  • হ্যা, এটা ইউরোপের অন্যতম প্রথম রক ভিডিও ছিল। ব্যান্ড আমাকে বলল তাদের সুন্দর নাম আছে, দ্য লেনিনগ্রাদ কাওবয়েজ। তাদের আইডিয়া আছে এবং তারা ফিল্মের মত কিছু একটা বানাতে চায়। সেদিনই আমি তাৎক্ষনিক রচনা করলাম, পরদিন শ্যুট করলাম, তারপরদিন করলাম এডিট। এটা করতে আমার ভালো লেগেছিল, এবং তারা তখন ভালো ব্যান্ড ছিল। রেকর্ডগুলো ভালো নয়, কিন্তু লাইভে তারা ছিল দারুণ।

তারা এখন কী করছে?

  • এখনো আছে। কিন্তু তারা সবসময়ই ছিল এমন ব্যান্ড যেখানে সেরা মিউজিশিয়ানরা কিছুদিনের জন্য আসত আবার চলে যেত। এখনো এই নামে ব্যান্ড আছে কিন্তু আগেরটা নয়।

মিউজিক আপনার ফিল্মের গুরুত্বপূর্ন উপাদান। কখন আপনি সাউন্ডট্র্যাক নিয়ে ভাবতে শুরু করেন?

  • আমি প্রথমে ফিল্ম তৈরি করি তারপর আমার রেকর্ড শেলফে যাই। যেখানে মিউজিক ব্যবহার করতেই হয় সেখানে মিউজিক ব্যবহার করি। এটা কথোপকথন (ডায়লগ) পরিহারের একটা উপায় কারণ মিউজিক অনেক কথা বলে ফেলে এবং গল্পে ভারসাম্য তৈরী করে। বর্তমানে সিনেমার একমাত্র জিনিস যা আমাকে আগ্রহী করে তা হল মিউজিক সম্পাদনা করা। আপনি কমেডিকে ট্র্যাজেডি বা ট্র্যাজেডিকে কমেডিতে পরিণত করতে পারবেন এর দ্বারা।

লে হাভরের অন্যতম সেরা দৃশ্য লিটল ববের পারফরমেন্স। আপনি তাকে কোথায় আবিষ্কার করলেন?

  •  লিটল বব হচ্ছে লে হাভরের এলভিস এবং এলভিস হচ্ছে মেম্ফিস, টেনেসার লিটল বব। লিটল ববকে না ঠুকে আপনি লে হাভরেতে যেতে পারবেন না। সে ইউরোপের বড় স্টার ছিল, আপনাদের সময়ের পূর্বে, সেভেন্টির দিকে ফিনল্যান্ডও ভ্রমণ করেছে। আমি তার গানের সাথে পরিচিত ছিলাম কিন্তু তখন কখনো দেখা হয় নি তার সাথে। তাই যখন তার সাথে দেখা হলো ভাবলাম তাকে আমার ফিল্মে অন্তর্ভুক্ত করব। কিছু উদ্ভট কারণে আমি আমার ফিল্মে লাইভ মিউজিক ব্যবহার করি। আমি গানকে সত্যিকারভাবে তুলে ধরতে চাই।

আপনি কি জানেন এই ট্রিলোজির পরের ফিল্ম কি হবে?

  •  কে জানে! হয়ত আমি অবসর নেব, আমি জানি না। আমি কি কয়েক বছর ফিল্ম নিয়ে থাকবো? যাইহোক, আমি ভাবছি, আমার মূল পেশা লেখালেখিতে চলে যাবো, যা আমি কখনো শুরুই করতে পারি নি। ছোট গল্প দিয়ে শুরু করব। কিন্তু এটা এক নিঃসঙ্গ আর জটিল কাজ। যখন আমি বলি, “চলো শ্যুট করা যাক” তখন আমরা লোক হায়ার করি, যন্ত্রপাতি হায়ার করি এবং এরপর প্রথমদিন কিছু আইডিয়া নিয়ে আমাকে সেখানে যেতে হয়। লেখালেখির ক্ষেত্রে আমি সবসময় বলতে পারি, কাল থেকে শুরু করব...কাল থেকে শুরু করব। ফিল্মমেকিং অলস লোকের জন্য একমাত্র কেরিয়ার।

 

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *