কীভাবে জ্ঞান আর প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানি যায়

এইটা এক গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন। জ্ঞান ও প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানি যায় কীভাবে। কারণ এই দুই জিনিস আমাদের দরকার। রিচার্ড হ্যামিং বলেন, “জ্ঞান আর প্রোডাক্টিভিটি হচ্ছে চক্রবৃদ্ধি সুদের মত।”

এই জিনিস তিনি কীভাবে বুঝতে পারছিলেন তা তার কথায়ঃ

আপনারা দেইখা থাকবেন সব গ্রেট সাইন্টিস্টের কর্মশক্তি বা ড্রাইভ থাকে প্রচন্ড। আমি জন টাকি’র সাথে বেল ল্যাবে কাজ করছিলাম দশ বছর। তার ড্রাইভ ছিল প্রচন্ড। চার বা পাঁচ বছর কাজ করার পরে একদিন আমি আবিষ্কার করলাম টাকি আমার চাইতে বয়সে কিছুটা ছোট। জন আছিল জিনিয়াস পুরাই, আর স্পষ্টত আমি জিনিয়াস ছিলাম না। এরপরে আমি গেলাম বডের অফিসে। গিয়া তারে বললাম, জন টাকি, আমার বয়েসী একজন হইয়া এত জানে ক্যামনে?

বড তার চেয়ারে হেলান দিলেন, মাথার পিছনে নিলেন দুইহাত, সামান্য একটা বাঁকা হাসি দিলেন এবং বললেন, তুমি জানলে আশ্চর্য হইবা হ্যামিং, সে এত বছর যেইভাবে পরিশ্রম করছে এইভাবে তুমি যদি করতা, তাইলে তুমি কত জানতে পারতা।

আমি নিঃশব্দে অফিস থেকে বাইর হইয়া আইলাম।

এরপরে হ্যামিং বলতেছেনঃ

এইখানে বড যা বলতে চাইছিলেন তা হইল, জ্ঞান আর প্রোডাক্টিভিটি চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়তে থাকা সুদের মত জিনিস। দুইজন সমান প্রতিভার লোক আছে ধরা যাক। দ্বিতীয়জন প্রথমজনের চাইতে দশ ভাগ বেশী কাজ করে। তাইলে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথমজনের চাইতে দ্বিগুণের বেশী ফল উৎপন্ন করবে।

যত বেশী জানবেন আপনি, তত বেশী শিখবেন। যত বেশী শিখবেন, তত বেশী করতে পারবেন। যত বেশী করতে পারবেন, তত বেশী সুযোগ – এটা চক্রবৃদ্ধি সুদের মতই। আমি সুদের হার আপনারে বলব না, কিন্তু জাইনা রাখেন তা উচ্চই হবে।

সমান ক্ষমতার দুইজন মানুষ। একজন লোক যদি দিনে এক ঘন্টা বেশী চিন্তা করার টাইম বের করতে পারে অন্যজনের চাইতে, তাইলে সে পুরা জীবনের হিসাবে অন্যজনের চাইতে অনেক বেশী প্রোডাক্টিভ হইয়া উঠবে।

আমি বডের কথাখান অন্তরে নিয়া নিছিলাম। কয়েক বছর আমি একটু বেশী পরিশ্রম করলাম, বেশী সময় দিলাম এবং দেখলাম সত্যিই আমি বেশী কাজ করতে পারছি।  আমি এইটা আমার বউয়ের সামনে বলতে পছন্দ করি না, কারণ এইসব স্টাডি করতে গিয়া অনেক সময় তারে আমি উপেক্ষা করছি, আমার স্টাডি করা দরকার ছিল। আপনে যা করতে চান তা করতে গেলে অনেক কিছু উপেক্ষা করতে হবে। এইটা নিয়া কোন প্রশ্ন নাই।

রিচার্ড হ্যামিং বলতেছিলেন সাইন্টিফিক রিসার্চ নিয়া। কীভাবে এতে সফল হওয়া যায়। তার সেই লেকচারের নাম ইউ এন্ড ইওর রিসার্চ। এইজন্য চিন্তা এবং স্টাডি’র ব্যাপার আছে। যারা অন্য ক্ষেত্রে আছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রের বিষয় অনুসারে ভাববেন। যেমন, সমান যোগ্যতার দুইজন উদ্যোক্তা, একজন একঘন্টা বেশী স্টাডি করলেন তার ব্যবসা নিয়া, প্ল্যান ঠিক করলেন, এবং কাজ করলেন। তাইলে, অনেক বছর পরে এই ঘন্টার বেশী কাজ অন্যজনের চাইতে তারে অনেক বেশী প্রোডাক্টিভ কইরা তুলবে।

জ্ঞান এবং প্রোডাক্টিভিটি সব ক্ষেত্রেই দরকারী।

হ্যামিং এর কথা আরো শোনা যাকঃ

ড্রাইভ বা কর্মশক্তি নিয়া এডিসন বলিয়াছেন, জিনিয়াস হইল ৯৯ ভাগ পরিশ্রম আর ১ ভাগ অনুপ্রেরণা। তিনি হয়ত বেশী বইলা ফেলছেন কিন্তু মূল আইডিয়াটা হইল, সলিড কাজ এবং তার অবিচল (স্টেডি) ঠিকমত প্রয়োগ আপনারে অনেক দূর নিয়া যাবে।

প্রচেষ্টার অবিচল প্রয়োগ আর বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রয়োগ ফল বইয়া আনে। এইটা এক সমস্যাঃ কর্মশক্তি বা ড্রাইভ যদি ভুল জায়গায় প্রয়োগ করা হয়, তাইলে আপনারে তা কোথাও নিবে না। আমি প্রায়ই ভাবতাম কেন বেল ল্যাবে আমার অনেক বন্ধুরা, যারা আমার চাইতে বেশী পরিশ্রমও করল কিন্তু এর অনুপাতে ফল পায় নাই। প্রচেষ্টার ভুল প্রয়োগ একটা মারাত্মক সমস্যা। শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রমে কিছু হয় না, এইটা বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রয়োগ করাও অবশ্য দরকারী।

হ্যামিং এইখানে তিনটা জিনিস আমাদের বললেন, বা আমরা তার কাছ থেকে শিখতে পারিঃ

  • ১। জ্ঞান ও প্রোডাক্টিভিটি বাড়াইতে হইলে তা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। পরিশ্রম কইরা স্টাডি করতে হবে যেইটা উপকারে লাগবে সেইটা।
  • ২। একই প্রতিভার দুইজন লোকের মধ্যে একজন আরেকজনরে ছাড়াইয়া বহুদূর যাইতে পারবে যদি সে নিয়মিতভাবে অন্যজনের চাইতে অল্প বেশী পরিশ্রম কইরা যায়।
  • ৩। পরিশ্রমের সাথে কাজের প্রয়োগ হইতে হবে বুদ্ধিমত্তার সাথে। অন্যথায় সে পরিশ্রম বৃথা।

 

হ্যামিং পরিশ্রমে গুরুত্ব দিয়াছেন। স্টাডিতে গুরুত্ব দিয়াছেন। একটা কথা আছে আপনে যখন বইয়া আছেন তখন আপনার মত একজন হয়ত তার স্কিল বাড়াইতে স্টাডি করতেছে বা কাজ করতেছে। আপনে আর সে যদি কোনদিন একই ফিল্ডে প্রতিযোগীতায় নামেন, তাইলে সে আপনারে পিছে ফালাইয়া যাবে।

কাজের প্রয়োগ বুদ্ধিমত্তার সাথে করতে হবে, এবং বুদ্ধিমত্তা অর্জনের জন্য পড়ার ও জানার বিকল্প নাই। জগতের বড় সব ফিল্ডের বড় আইডিয়া জেনে ফেলার যে তরিকা শেখান চার্লি মাঙ্গার, সেটাই হতে পারে এই বুদ্ধিমত্তা অর্জনের উপায়।

রিচার্ড হ্যামিং

ছবি - রিচার্ড হ্যামিং

হ্যামিংচর্চা গণিতবিদ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী রিচার্ড হ্যামিং এর চিন্তার উপরে ভর করে নিজেদের কাজ ও চিন্তারে উন্নত করার চেষ্টা। এই লেখায় তার যেইসব চিন্তা বা ধারণা এসেছে সেগুলা আছে তার লেকচার ইউ এন্ড ইওর রিসার্চে। রিচার্ড হ্যামিং এর জন্ম ফেব্রুয়ারী ১৯১৫, মৃত্যু ৭ জানুয়ারী ১৯৯৮।

 

Share
আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। লেখার স্বত্ত্ব লেখক কতৃক সংরক্ষিত, কপি করবেন না। লিংক শেয়ার করুন, তাতে অন্যরা পড়ার সুযোগ পাবেন।

Related Posts

Comments are closed.