আপনার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করছে কি?

কোন খারাপ কিছু ঘটল আপনার সাথে, ধরা যাক অফিসে একটি জরুরী ফাইল আপনারে দেয় নাই আপনার কলিগ এইজন্য পরেরদিন আপনে বেশ শরম পাইলেন বসের কাছে; তখন আপনার এমন মনে হতে পারে আপনার কলিগ ইচ্ছা করেই সেদিন আপনারে ফাইলটা দেয় নাই। সে আপনার বিরুদ্ধে লাগছে এবং চাইছে যে আপনি শরম পান।

আপনি ধরেন এক কবি, দেখা গেল আপনার বন্ধু কবি কাবিল কারিগরের কবিতার পান্ডুলিপি নির্বাচিত হইছে সিন্দাবাদ সাহিত্য পুরস্কারের জন্য, তখন আপনার মনে সন্দেহ হতে পারে কাবিল কারিগরের সাথে আপনি প্রতিদিন আড্ডা মারেন বসে, সে কেন আপনারে এই প্রতিযোগীতার কথা বলল না! আপনার মনে হতে পারে কাবিল কারিগর কবি হতে পারে কিন্তু হিংসা করেই আপনারে বলে নাই।

এইরকম আরো ঘটনার উদাহরণ আনা যায়।

এইসব ক্ষেত্রে মূল ঘটনা অন্যরকম হতেও পারে। হতে পারে আপনার কলিগ সেইদিন ফাইল আপনারে দিতে সত্যি সত্যি ভুলে গেছিল। হতে পারে ভুলোমনা কবি কাবিল কারিগর নিজেই প্রতিযোগীতার ব্যাপারে জানতে পারছে শেষদিনে।

কিন্তু আপনি ধরে নিছেন তারা আপনার বিরুদ্ধে। মানুষের এটা এক সহজাত প্রবণতা। এর জন্য মনের শান্তি নষ্ট হয়। মানুষ কন্সপিরেসিতে বিশ্বাস করে এইজন্যই। এবং অনেক ভালো মানুষ সম্পর্কে খারাপ ধারনার জন্ম হবার কারণও এটাই।

এ থেকে মুক্তির এক সহজ উপায় আছে। তার নাম হ্যানলনের রেজর। এটি যদিও প্রাচীনকাল থেকে অনেকের কথায় প্রকাশ পাইছে, তবুও হ্যানলনের একটি গল্পে এর উপস্থাপন ধরেই এর এই নামকরণ।

“যে জিনিস অবহেলা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় তা কখনো ভাববেন না হিংসা করে করা হয়েছে।”

একই কথা সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টও বলে গেছেন, একটু অন্যভাবে,

“যে জিনিস অযোগ্যতা বা অসামর্থ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় কখনো ভাববেন না তা হিংসা করে করা হয়েছে।”

গ্যেটে’র লেখাতেও আছে, “পৃথিবীতে ভুল বুঝা ও অবহেলার মাধ্যমে যত বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়, চাতুরী বা হিংসার দ্বারা হয় তার চেয়ে অনেক কম। যেকোন অবস্থাতেই শেষের দুইটির পরিমান নিশ্চিতরূপে অনেক কম।”

হ্যানলনের রেজর

যে জিনিস অবহেলা, অসামর্থ্য, ভুল বুঝা ইত্যাদি মাধ্যমেও ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব তা হিংসা বা অন্য কোন খারাপ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তা ভাবা উচিত না কখনোই, এটাই হ্যানলনের রেজরের কথা।

ধরা যাক, আপনি দেখলেন আপনার এক প্রিয় ছোট ভাই সাহিত্যিক আপনার শত্রু ও বিরোধী এক কবির ফেইসবুক পোস্টে কমেন্ট দিয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতায় আপনার মনে হবে আপনার ছোট ভাইটি ঐ কবির দলে গিয়ে ভীড়েছে। এই ক্ষেত্রে হ্যানলনের রেজর প্রয়োগ করলে আপনি ভাববেন, হয়ত আপনার ভাই জানেনা পুরোপুরি ঐ কবিটি সম্পর্কে, হয়ত সে না বুঝেই মন্তব্য করেছে বা এমনিতেই করেছে।

হ্যানলনের রেজর প্রয়োগ অহেতুক ভুল ধারণা থেকে আমাদের বাঁচায়। তবে সব কিছুরই সীমাবদ্ধতা যেমন আছে, হ্যানলনের রেজরেরও আছে। অনেক সময় সত্যি সত্যি কেউ আমাদের বিরুদ্ধে হিংসা বা ক্ষতির উদ্দেশ্যেও কিছু করতে পারে। তাই হ্যানলনের রেজর প্রয়োগের সময়ও কমন সেন্স দরকার। আপনি দেখলেন আপনার প্রিয় স্ত্রী একটি ছেলের সাথে প্রায়ই হেসে হেসে কথা বলেন, আপনি হ্যানলনের রেজর প্রয়োগ করে ভাবলেন হয়ত তারা ভালো বন্ধু। এরপর দেখলেন একদিন তারা হাত ধরাধরি করে হাটছে, তখনো আপনি হ্যানলনের রেজর প্রয়োগ করলেন ও ভাবলেন হয়ত তারা এমনিতেই হাত ধরাধরি করছে...তা বোধহয় ঠিক প্রয়োগ হবে না, এবং তা কমন সেন্সের অভাবকেই ইঙ্গিত করবে।

Share
আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। লেখার স্বত্ত্ব লেখক কতৃক সংরক্ষিত, কপি করবেন না। লিংক শেয়ার করুন, তাতে অন্যরা পড়ার সুযোগ পাবেন।

Related Posts

Leave A Comment