গেইম থিওরির আলোকে বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

এই লেখার আরেক শিরোনাম দেয়া যাইত, বাংলাদেশের রাজনীতি ও অবস্থা লইয়া যে একটা লেখা আপনার পড়া উচিৎ। এই লেখা কেবল যা ব্যাখ্যা করতেছি তা নয়, বরং বুঝতে পারলে আপনার জীবনের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এক ইনসাইট হবে, এবং প্রায় সর্বক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

এটি আধুনিক গেইম থিওরির জনক ভন নিউম্যান এবং অস্কার মর্গেনস্টার্নের লেখা বই থিওরি অব গেইমস এন্ড একনোমিক বিহেভিয়ারের উপর ভিত্তি করে লেখা। ভন নিউমান সম্ভবত দুনিয়ার সবচাইতে বুদ্ধিমান লোক ছিলেন, এবং তার এই গেইম থিওরির প্রস্তাবনা আমার পছন্দের।

শুরু করা যাক।

বাংলাদেশের রাজনীতি কোন অবস্থায় বিরাজ করছেন?

কিছু জেনারাইলেজশন করব বুঝাইতে গিয়া।

প্রেক্ষাপট ও ইতিহাসঃ

বাংলাদেশের রাজনীতি জিরো সাম ট্র্যাপে আটকা পড়ে আছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই এই অবস্থার শুরু।

১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়।

১৯৯০ সালে এরশাদের পতন হয়।

এই ১৯৯০ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তখন বড় সব দল একটা সহযোগিতামূলক সম্পর্কে পৌঁছায়।

কিন্তু, বাংলাদেশের গত ত্রিশ বছরের রাজনীতি যদি আমরা দেখি, দেখব প্রধান দুই দল বিএনপি ও লীগের ভিতরেই ক্ষমতা ঘুরপাক খাইছে। দুই দলই মনে করছে, অন্যদল আসলে আমাদের শেষ করে দিবে। এর ফলে জিরো সাম ট্র্যাপেই আটকা আছে বাংলাদেশের রাজনীতি।

দুই দলই ভাবছে, যদি আমি সহযোগিতা করি আর ওরা আক্রমণ করে, আমি শেষ। তাই আমাকে আগে আক্রমণ করতে হবে।

যে দল জিতেছে অন্য দলের নেতাকর্মীদের উপর দমন পীড়ন করেছে, ইলেকশন ইনফ্লুয়েন্স করার চেষ্টা করেছে। বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করেছে, হরতাল ও সহিংসতা হয়েছে।

গেইম থিওরি বলে এই ধরণের গেইম বার বার হইতে থাকলে, প্লেয়াররা একসময় সহযোগিতা শিখে যায়। কারণ তারা বুঝতে পারে সহযোগিতায় না গেলে দুই পক্ষেরই ক্ষতি।

কিন্তু গেইম থিওরিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বাংলাদেশের মাথামোটা অশিক্ষিত মূর্খ ছোটলোক ও ফকিন্নি রাজনীতিবিদ ও এলিটেরা তা বুঝতে পারে নাই। তারা বার বার গেইম খেলে গেছে, এখান থেকে কোন ইনসাইট নেয় নাই।

তাই তাদের ভিতরে পরস্পরের প্রতি কোন “বিশ্বাস” জন্ম নেয় নাই। তাদের শাসনকালের মূলমন্ত্র ছিল, যা পারো নিয়া নাও, যেভাবে পারো ক্ষমতায় থাকো। দুর্নীতি বাগ না হয়ে এখানে ফিচার হয়ে গেছে কারণ নেতা, কর্মী জানে পরের টার্মে ক্ষমতায় না গেলে আমারে জেলে যাইতে হবে। ক্ষমতা ছাড়লে নিরাপত্তা নাই তাই সে চিন্তা করে শর্ট টার্ম অপটিমাইজেশনের, যত পারে নিয়া নেয়।

২০২৪ এর আগস্টে কী হইল?

কে কতটুকু জানে, অর্থাৎ তার কাছে কী ইনফরমেশন আছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর উপর ভিত্তি করেই সে সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই সময়ে শেখ হাসিনার কাছে কী ইনফমেশন ছিলঃ

ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে তিনি জানতেন

কিছু মানুষ মারা গেছে জানতেন

আন্তর্জাতিক চাপ আছে জানতেন

জামাত শিবির এগুলা করাচ্ছে মনে করতেন

তিনি জানতেন না (বা ভুল জানতেন):

এটা শুধু কোটা আন্দোলন না, রেজিম আন্দোলন হয়ে যাচ্ছে নির্মম দমনের জন্য, আম পাবলিকও যুক্ত হচ্ছে

তাঁর চারপাশের লোকজন সত্য বলছে না, তারা তাঁকে যা শুনতে চান তাই বলছে

সেনাবাহিনী তাঁকে ছেড়ে দেবে

তার ইনফরমেশন ছিল ফিল্টারড। ১৫ বছরের ক্ষমতায় থাকলে এমন হওয়ারই কথা। যারা সত্য বলত তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা বাকি আছে তারা শুধু তোষামোদ করতো।

তিনি ভেবেছিলেন গেইমটা এক জায়গায় আছে, আসলে গেমটা অন্য জায়গায় চলে গেছিল তাদের মিস ম্যানেজমেন্টে।

ছাত্রদের কাছে কী কী তথ্য ছিলঃ

তারা জানত:

মানুষ ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে

সরকার নির্মম দমন করছে

বাইরেও কিছু একটা হচ্ছে

তারা জানত না:

সেনাবাহিনী কী করবে

তারা জিতবে কিনা

পরবর্তীতে কী হবে

তাদের সবচাইতে বড় সুবিধা, তারা ছিল এডাপ্টিভ।

তারা প্রতিদিন নতুন তথ্য পাচ্ছিল এবং স্ট্র্যাটেজি এডজাস্ট করছিল। আজ কোটা সংস্কার, কাল সরকার পতন, এভাবে তারা পরিস্থিতি বুঝে, তথ্যের উপর ভিত্তি করে একশন আপডেট করে। এর এক চরম উদাহরণ, যে তারিখে ঢাকা মার্চ করার কথা ছিল, তারা একদিন এগিয়ে আনে।

অন্যদিকে হাসিনা আপডেট করতে পারছিলেন না। তার স্ট্র্যাটেজি ছিল ফিক্সড, দমন করো। এইভাবে তিনি আগে কয়েকবার সফল হয়েছিলেন। ফলে তার চাটুকারেরা এই পরামর্শই তারে দিয়েছিল।

এখন আমরা দেখি সেনাবাহিনীর কাছে কী তথ্য ছিলঃ

এখানেই মজার ব্যাপার।

সেনাবাহিনী সবচেয়ে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল:

রাস্তায় কী হচ্ছে (তাদের ইন্টিলিজেন্স আছে)

হাসিনার আসল অবস্থা

ছাত্রদের শক্তি কেমন, মানুষের সমর্থন কেমন

আন্তর্জাতিক মনোভাব কেমন

তারা আগে বুঝতে পেরেছিল যে খেলা শেষ।

আর যখন বুঝল, তারা সঠিক সময়ে সঠিক মুভ করল: হাসিনাকে সমর্থন প্রত্যাহার করে ফেললো।

ভন নিউম্যানের যদি কোন অসাধারণ ইনসাইট থাকে, সেটা হলো, যার ইনফরমেশন যত ভালো, সে জেতে। এখানে আমরা তাই হইতে দেখছি।

সেনাবাহিনীর ইনফরমেশন ছিল বেশী একুরেট, তাই তারাই জিতেছে।

এবং স্ট্র্যাটেজির দিক থেকে দেখলে, হাসিনার স্ট্র্যাটেজি কী ছিল যদি আমরা দেখতে যাই তাহলে দেখব,

  • যদি বিরোধীরা মাথা তোলে → গ্রেপ্তার করো
  • যদি ছাত্ররা আন্দোলন করে → দমন করো
  • যদি আন্তর্জাতিক চাপ আসে → উপেক্ষা করো
  • যদি সেনাবাহিনী সরে যায় → ???

স্ট্র্যাটেজি কোন একক একশন না। বরং কী হইলে কী করব, এর সমস্ত পরিকল্পণা। স্পষ্টত দেখতে যাচ্ছে এখানে, যদি সেনাবাহিনী সাপোর্ট প্রত্যাহার করে তাহলে কী করা হবে, এই প্ল্যান করা ছিল না। এটাই ছিল তার স্ট্র্যাটেজির উইকনেস।

এটা হইছে, কারণ, শুরু থেকেই ভুল তথ্য থাকায় তারা এক একশন “মাইরা ফেলো” নীতিতেই অটল ছিল। এবং পরে বাস্তবতা যখন ভিন্ন চিত্র দেখাইতে থাকে তখন দ্রুত আর করার কিছু ছিল না, “মাইরা ফেলো” নীতিতে ডাবল ডাউন করা ছাড়া।

সেনাবাহিনী তারে ছাড়বে বা পরিস্থিতি ওইখানে যাবে তিনি আগে ভাবেন নাই। তাই এখানে কোন পরিকল্পণা ছিল না। ফলে গেইম যখন ওই নডে পৌঁছাইল, তখন তার আর কোন মুভ বাকি ছিল না। পরাজয় স্বীকার করে পালাতে হইল।

এবার ছাত্রদের স্ট্র্যাটেজি কী ছিল দেখি।

তারা এডাপ্টিভ স্ট্র্যাটেজি নিছিল। তাদের কাছে তথ্য ফিল্টারড ছিল না। ফলে রিয়াল তথ্য এবং ইনসাইটই তারা পাইছে।

  • যদি কোটা সংস্কার হয় → বিজয় ঘোষণা করি, ঘরে ফিরে যাই
  • যদি সরকার দমন করে → দাবি বাড়াই, রেজিম চেইঞ্জের দাবি জানাই
  • যদি সেনাবাহিনী আমাদের পক্ষে আসে → পূর্ণ চাপ দিই
  • যদি সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকে → চাপ বজায় রাখি যতক্ষণ না তারা পক্ষ নেয়
  • যদি সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে নামে → সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দেই (নাহিদ-আসিফেরা পরে জানাইছেন সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দেয়া ভিডিও রেডি ছিল)

তারা প্রতিটা সম্ভাবনার জন্য রেডি ছিল। যখন নতুন তথ্য আসল, তারা এডাপ্ট করল।

এটাই বেটার স্ট্র্যাটেজি কারণ এটা কমপ্লিট এবং ফ্লেগজিবল।

এখন কী হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গেইমের কী বদল হচ্ছে?

আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বেই লীগ সরকারের পতন হয়। তারা লীগ না, বিএনপিও না, অন্য কোন দলও না, নতুন প্লেয়ার। তারা রাজনৈতিক দল করেছে এনসিপি, এবং তাদের অবস্থান হইল, পুরা সিস্টেমেই সমস্যা।

আমরা এই নতুন প্লেয়ার আসার পরে সংস্কার, নতুন বন্দোবস্ত ইত্যাদি অনেক কথাই শুনেছি। কিন্তু, মানুষ কী বলে তা ইম্পরট্যান্ট না, আমাদের দেখতে হবে বাস্তবে রাজনীতির মাঠে গেইম কী বদলে যাচ্ছে, নাকি একই গেইম আবার হচ্ছে।

শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় হচ্ছে। লীগের নেতাদের বিচার হচ্ছে। এবং দল হিশাবে পুরা আওয়ামীলীগকেই সাময়িক নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, এক প্লেয়ারকে বলা হচ্ছে, তোমার কোন ভবিষ্যৎ নাই সিস্টেমে।

ওই দলের লক্ষ লক্ষ সমর্থক আছে। তারা কীভাবে নিবে বিষয়টা?

১। চুপচাপ মেনে নেবে? (এর সম্ভাবনা খুব কম)

২। আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবে? (সম্ভব, বাট সম্ভাব্যতা কম)

৩। সহিংসতা বা ডিস্টেবিলাইজ করবে? ( সম্ভব)

৪। বাইরের সাহায্য খুঁজবে (ভারত)? (এইটা হচ্ছে)

কাউরে নাথিং টু লুজ সিচুয়েশনে ফেলে দিলে সে ডেস্পারেট মুভ করবে। এই ডেস্পারেট মুভ সহিংসতা বাড়াবে।

আওয়ামিলীগ জামাত-বিএনপিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। প্রবল প্রতাপশালী হয়েও তা করতে পারে নাই।

এখন লীগকে একইভাবে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার কথা চলছে।

তাহলে আমাদের জিরো সাম গেইম ট্র্যাপ থেকে কি কোন উন্নতি হইল?

না।

আমরা ওই ট্র্যাপেই আছি, যেখানে ত্রিশ বছর ধরে ছিলাম। বিরোধী টিকে থাকলে আমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব, অতএব বিরোধীরে নিশ্চিহ্ন করো। এখানে পলাতক লীগের ভূমিকাও উল্লেখ করতে হবে। তারা পলাতক থেকে উগ্রতা ছড়াচ্ছে, লিস্ট করছে, লালবদর ডাকছে, ও জুলাইকে নিছক এক রাজাকারি ষড়যন্ত্র হিশাবে দেখছে! ফলে, তারাও জিরো সামের দিক থেকেই দেখছে, যেটা আগে থেকেই দেখে আসছিল। ফলে, প্রিজনার ডিলেমায়, দুই প্রিজনারই বুঝতে পারছে একজন আরেকজনরে খাইয়া দিবে।

গেইম বার বার হইতে থাকলেও আমরা সহযোগিতা ও ট্রাস্টে যাইতে পারি না, জাতীয় দূর্ভাগ্য, ফলে এখানে এক্সটার্নাল শক্তির অবাধ বিচরণের সুযোগ হয়।

প্রথমে ভারতের হিশাবটা দেখি।

হাসিনা ছিল তাদের মিত্র (১৫ বছর ধরে প্রো ইন্ডিয়ান সরকার)

নতুন সরকারে এন্টাই-ইন্ডিয়া উপাদান আছে

জামায়াত ঐতিহাসিকভাবে ভারত-বিরোধী

ছাত্র আন্দোলনের একাংশে ইসলামিস্ট ঝোঁক আছে

এইজন্য,

ভারত হাসিনাকে ফেরত দিচ্ছে না (লেভারেজ হিসেবে রাখছে)

অসহযোগিতা করছে, ভিসা সেন্টার বন্ধ করেছে

ট্রেডে বাধা দিচ্ছে

ভারতীয় মিডিয়াতে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও হিন্দু নির্যাতনের, মৌলবাদের ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছে

এটা কি কাজ করছে?

গেইম থিওরি বলে, না।

ভারত যা করছে, তা বাংলাদেশে এন্টাই-ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্ট আরো বাড়াচ্ছে। যা আবার তুরস্ক-পাকিস্তান ব্লককে শক্তিশালী করছে। যেইটা আবার ভারতের জন্য অবস্থা আরো খারাপ করছে।

ভারত একটা সেলফ ফুলফিলিং প্রফেসি তৈরি করছে। তারা যত হস্টাইল হচ্ছে, বাংলাদেশ তত এন্টাই-ইন্ডিয়া হচ্ছে, যা তাদের আরো হস্টাইল করতেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের কোন অবকাশ নাই।

আরেক প্লেয়ার তুর্কি-পাক+চায়না ব্লক। তারা আরেক ইন্টারেস্টিং খেলা এখানে খেলতেছে, এবং সামনে খেলবে।

ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের তারা ব্যবহার করছে।

এরা কারা?

ইউটিউব ও ফেসবুক ইনফ্লুয়েন্সার

তুরস্কের এরদোয়ান মডেলের প্রকাশ্য বা উহ্য প্রশংসক

পাকিস্তানের সাথে “উম্মাহ ভ্রাতৃত্ব” প্রচারক

ভারত-বিরোধী, আওয়ামী লীগ-বিরোধী কন্টেন্ট নির্মাতা

১৯৭১ নিয়ে রিভিশনিস্ট

তাদের অডিয়েন্স ও রিচঃ

লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারস

প্রায় প্রতিদিন নতুন কন্টেন্ট

এলগরিদম তাদের পক্ষে (বিতর্কিত কন্টেন্ট হইলে এনগেইজমেন্ট বেশী হয়)

ইয়াং অডিয়েন্স, যারা টিভি দেখে না, মূলত ইউটিউব সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই তথ্য পায়

যে ইনফরমেশন তৈরি করতে পারে, সে একটা সুবিধা পায়।

আগে :

সরকার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করত

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, অন্যান্য মিডিয়া, পত্রিকা – এরা তথ্য নিয়ন্ত্রণ করত

তথ্য একমুখীভাবে প্রবাহিত হত

এখন কী হচ্ছে:

ইউটিউব/ফেসবুক সেই মনোপলি ভেঙে দিয়েছে

যে কেউ লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে

এই “যে কেউ” আসলে নেট ওয়ার্ক, এবং কয়েকজন মিলে গেলে আরো অর্গানাইজড

তুরস্ক-পাকিস্তান-চায়না ব্লক এই সুযোগ নিয়েছে।

তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এরদোয়ান-স্টাইল “ইসলামী গণতন্ত্র” এর দিকে নিয়ে যাওয়া।

বাংলাদেশে নব উদ্যমে তুর্কি ইনফ্লুয়েন্স শুরু হয় বাংলায় ডাব করে তুর্কি সিরিয়াল দেখানোর মধ্য দিয়ে। অনেক দিন ধরেই এই কালচারাল ভ্যাকুম ছিল, ইন্ডিয়া আলিফ লায়লা – মুঘল ঐতিহ্যের সিরিয়াল বন্ধ করে দেয়ার কারণে। ইন্ডিয়া এসব সিরিয়াল দিয়ে কালচারাল সফট পাওয়ার বিস্তার করতে পারতো, তাদের ওইসব কনটেন্ট নির্মানের টাকা এবং ট্যালেন্ট দুইই ছিল। বিজেপির প্রভাবে তারা এখান থেকে সরে এসে হিন্দু মিথ নির্ভর সিরিয়ালে যায়। এই ভ্যাকুম তুর্কি সিরিয়াল দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে।

কীভাবে এইটা এরদোয়ান-স্টাইল গণতন্ত্রে ইনফ্লুয়েন্স করা হবে বা হচ্ছে?

১. অভারটনের উইন্ডো সরানো

আজকে যা “চরমপন্থী” মনে হয়, সেটা বারবার বললে, এবং তার চাইতে আরো চরমপন্থি ভার্সন আনলে, একসময় মডারেট শোনায় ।

“খেলাফত চাই” স্লোগান এখন ঢাকার রাস্তায় শোনা যাচ্ছে। একসময় অকল্পনীয় ছিল। এখন পপুলার টকশোতে ইসলামি বক্তাকে আমন্ত্রণ করে জিজ্ঞেস করা হয়, খেলাফত হলে কী হবে, ইত্যাদি। ফলে, এখন জামাতকে মডারেট শোনায়।

২. স্পষ্ট শত্রু নির্মাণ

ভারত + হিন্দু + আওয়ামী লীগ + সেক্যুলার = একই শত্রু। স্পষ্ট।

যদিও, এই সেক্যুলার গ্রুপে অনেক ধরণের সেক্যুলার আছে, বা হিন্দু গ্রুপে নানা মত পথের হিন্দু আছে, লীগের ভেতরেও ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার লোকেরা আছে। কিন্তু কোন ন্যারেটিভ প্রচার করতে হইলে, সহজ করতে হয়। সহজ করতেই এইভাবে গ্রুপ করা হয়, যাতে আমরা বনাম তারার চিত্র সহজ হয়।

৩. ইতিহাস পুনর্লিখন

১৯৭১-এ দুই পক্ষেই অপরাধ হয়েছে। বিহারি গণহত্যা হইছে। এবং যুদ্ধটা ছিল ভুল বৈষম্য তথ্যের উপরে, যা করেছিল লীগ-ভারতের দালালেরা।

জামায়াতের ভূমিকা আপেক্ষিক করা

“রাজাকার” শব্দটাকে নিউট্রালাইজ করা

৪. বিকল্প বীর তৈরি

এরদোয়ান, মাহাথির এরা রোল মডেল।

তাদের “সাফল্য” বারবার দেখানো

তুলনা করা বাংলাদেশের নেতাদের সাথে

বাংলাদেশের নেতাদের তাচ্ছিল্য করে হাস্যকর করে তোলা

এর সবগুলা হয়ত এখনো শুরু হয় নাই। তবে মনে রাখতে হবে, এটা এক মিক্সড ন্যারেটিভ স্ট্র্যাটেজি। একসময় বিএনপির লীগের দুর্নীতির সাথে মেলানো হবে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট, আরেক সময় ভারতবিরোধী জাতীয়তাবাদী ন্যারেটিভ। প্রেডিক্টেবল না তাই একে কাউন্টার করা বেশ কঠিন।

পেনাল্টি কিকে, কেউ যদি শুধু ডানদিকেই কিক করে তাহলে তারে কাউন্টার করা ইজি। বা গোল কিপার যদি ডানদিকেই ঝাঁপ দেয়, তারে কাউন্টার করা ইজি। কিন্তু যদি স্ট্র্যাটেজি র‍্যান্ডম হয়, তাহলে কাউন্টার করা সহজ হয় না।

এখন খেলার পে অফ ম্যাট্রিক্স বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাই আমরা দেখতে পাই বিএনপি জোরে শোরে মুক্তিযুদ্ধকে আঁকড়ে ধরতে চাচ্ছে।

আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠ কী ছিল:

আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি

দুই পক্ষই ১৯৭১-কে ফাউন্ডিং ভিত্তি হিসেবে মানত

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষক – এইগুলা শেয়ারড ছিল, দুই দল এখানে কৃতিত্ব দাবী করতো

বিতর্ক ছিল: কে বেশি ১৯৭১-এর উত্তরাধিকার?

নতুন মাঠ কী হচ্ছে:

বাংলাদেশ = “মুসলিম দেশ” (এটাই মূল আত্মপরিচয়)

১৯৭১ গৌণ, মুসলিম পরিচয় মুখ্য

ভারত চিরশত্রু

পাকিস্তান ভুল বোঝাবুঝির শিকার

সেক্যুলারিজম = পশ্চিমা ষড়যন্ত্র

এটা করা হচ্ছে, মূল ভিত্তিটাকেই বদলে দিতে, যাতে লীগ আর কখনোই খেলতে পারে না। কারণ, লীগ একাত্তরের উপর নির্ভরশীল। ভিত্তিটা অগুরুত্বপূর্ণ করে তুললে, তাদের প্রাসঙ্গিকতা চলে যায়।

কিন্তু, এখানে অস্তিত্বের সংকট বিএনপিও দেখতেছে। কারণ, একাত্তর গৌণ হয়ে গেলে তাদেরও গৌণ হয়ে যাবার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিএনপি খেলার মাঠ বদলে যাক তা চায় না। খেলার মাঠ বদলে গেলে ওই অন্যের বদলানো মাঠে তারে খেলতে হবে, আর বলাবাহুল্য, যারা মাঠ বদলাইছে তারাই এডভান্টেজ পাবে ওই মাঠে।

এইজন্য বিএনপি চাইছিল আওয়ামিলীগকে আগামী নির্বাচনে রাখতে। কারণ, তাদের গেইমের বাইরে রাখলে, যারা নতুন ন্যারেটিভ নির্মাণ করছে, নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করছে, তাদের সুবিধা হয়।

বর্তমানে কার কাছে ক্ষমতা?

এইটা বুঝতে হলে আমাদের ভন নিউম্যানের মিনি ম্যাক্স কনসেপ্ট অনুযায়ী দেখতে হবে, কোন প্লেয়ারের কী অবস্থা।

প্রতিটা খেলোয়াড় ভাবে, “আমি মিনিমাম কী গ্যারান্টি করতে পারি, অন্যরা যাই করুক?

বিএনপি:

গ্যারান্টি করতে পারে: নির্বাচনে অংশ নিয়ে রেলেভ্যান্স বজায় রাখা

সবচাইতে খারাপ অবস্থা: জামায়াত/ছাত্ররা তাদের ছাড়িয়ে যায়

মিনিম্যাক্স স্ট্র্যাটেজি: নির্বাচনে যাও, যেকোনো ফলাফল মেনে নাও

জামায়াত:

গ্যারান্টি করতে পারে: কিংমেকার হওয়া

তাদের জেতার দরকার নেই। শুধু যে জিতবে তার এসেনশিয়াল হলেই চলে অথবা যত বেশী সিট পাওয়া যায়

মিনিম্যাক্স স্ট্র্যাটেজি: সবার সাথে সম্পর্ক রাখো, কারো শত্রু হয়ো না, সুবিধা নেও

ছাত্র আন্দোলন বা এন সি পি:

গ্যারান্টি করতে পারে: কিছুই না

রাস্তার ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে ফেইড হয়। নির্বাচন আগে হলে তারা হারে

মিনিম্যাক্স স্ট্র্যাটেজি: নির্বাচন দেরি করাও? কিন্তু সেনাবাহিনী দেরি করতে দেবে না। তাদের ক্লিয়ার কোন স্ট্র্যাটেজি নাই।

সেনাবাহিনী:

গ্যারান্টি করতে পারে: স্থিতিশীলতা

তারা একমাত্র খেলোয়াড় যাদের কোর ইন্টারেস্ট সুরক্ষিত, অন্যরা যাই করুক

মিনিম্যাক্স স্ট্র্যাটেজি: পর্দার আড়ালে থাকো, নির্বাচন হতে দাও, কিন্তু প্রসেস নিয়ন্ত্রণ করো

ইউনূস সরকার:

গ্যারান্টি করতে পারে: খুব কম

তাঁর কোনো বড় থ্রেট নেই

সবাই জানে তিনি কী করবেন (নির্বাচন, সংস্কার, শান্তি)

প্রডিক্টেবল প্লেয়ার, অন্যরা এক্সপ্লয়েট করতে পারে, তাই এই সরকারকে দুর্বল দেখায়

সেনাবাহিনীই একমাত্র খেলোয়াড় যাদের মিনিম্যাক্স তাদের কোর ইন্টারেস্ট রক্ষা করে।

অন্য সবার ভাগ্য অন্যদের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেনাবাহিনী যাই হোক টিকে থাকবে।

এই কারণে সেনাবাহিনীই আসল ক্ষমতা রাখে।

ইউনূসকে হয়ত তারাই চাপ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করিয়েছে। তারা না চাইলে ইলেকশন হবে না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাদের।

এইজন্যই, যারা আগামী ইলেকশনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, বা ইলেকশন দীর্ঘায়িত করতে চায়, এরা সেনাবাহিনীর উপর কনট্রোল নিতে চায়। সেনাবাহিনীর উপর কনট্রোল নিলে আসল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়া গেল।

এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী? কোন স্টেবল ইকুইলিব্রিয়ামে কী আমরা পৌঁছাইতে পারব?

৪টা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ:

১। তুরস্ক-পাকিস্তান ব্লক জিতে

জামায়াত + ছাত্র দলের জোট ক্ষমতায়

বাংলাদেশ “মুসলিম বাংলাদেশ” পরিচয় গ্রহণ করে

ভারতের সাথে দীর্ঘমেয়াদী শত্রুতা

সংখ্যালঘুদের ভয়, এবং সমস্যাবৃদ্ধি

সুফি ঐতিহ্য, বাউল, সংস্কৃতি হুমকিতে পড়তে পারে, কারণ চরমপন্থিদের সামলানো যাবে না

২। বিএনপি সামলে নেয়

বিএনপি জামায়াতকে জুনিয়র পার্টনার রাখে বিরোধী দল হিশাবে, ডমিনেট করতে দেয় না

তুরস্ক-পাকিস্তান ব্লককে পুরোপুরি আশ্রয় দেয় না

ভারতের সাথে ওয়ার্কিং সম্পর্ক রাখে

মডারেট ইসলামিজম – বিএনপি এরদোয়ান লাইট হয়ে যায়

৩। সামরিক হস্তক্ষেপ

অস্থিতিশীলতা বাড়লে সেনাবাহিনী সরাসরি আসে

সব ব্লক সাপ্রেসড

কিন্তু গণতন্ত্র শেষ

আন্তর্জাতিক আইজোলেশন

৪। কাউন্টার ন্যারেটিভ সফল হয়

কেউ দারুণ ইফেক্টিভ ভাবে প্রগ্রেসিভ কন্টেন্ট তৈরি করে

নতুন প্রজন্ম অল্টারনেটিভ পায়

প্লুরালিস্টিক আইডেন্টিটি টিকে যায়

কিন্তু এর জন্য যে অর্গানাইজেশন, ফান্ডিং ও প্রতিভা দরকার, যা এই মুহূর্তে নেই

কোনটা সবচেয়ে সম্ভাব্য?

সিনারিও ৪ সবচেয়ে কঠিন। কারণ তুরস্ক-পাকিস্তান ব্লকের কাছে যা আছে (ফান্ডিং, অর্গানাইজেশন, কন্টেন্ট ক্যাপাসিটি, প্রতিভা) সেক্যুলার/প্রগ্রেসিভ পক্ষের কাছে তা নেই। সেক্যুলার ব্লকের ব্র্যান্ড ইমেজও খারাপ, ফ্যাসিস্ট জাতীয়তাবাদের সাথে সংযুক্তির কারণে।

উপরন্তু, আমেরিকা ফান্ডিং কমিয়ে দিয়েছে তাদের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির কারণে।

সিনারিও ৩, সামরিক হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনী এড়াতে চায়। সরাসরি ক্ষমতায় গেলে তাদের দায় বাড়ে, আন্তর্জাতিক চাপ আসে।

সিনারিও ১ বা ২ সবচেয়ে সম্ভাব্য। এবং দুটোর মধ্যে পার্থক্য নির্ধারীত হবে: বিএনপি কতটা ভালোভাবে জামায়াতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার উপর ভিত্তি করে।

মূল ট্র্যাজেডি

ভন নিউম্যানের গেইম ফ্রেম ওয়ার্ক বাংলাদেশের মূল সমস্যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাইয়া দেয়

১. বাংলাদেশের রাজনীতি জিরো – সাম না।

সবাই লাভবান হয় স্থিতিশীলতায়, আইনের শাসনে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে।

২. কিন্তু খেলোয়াড়রা এটাকে জিরো-সাম হিসেবে খেলে।

বিজয়ী সব নেয়। পরাজিত জেলে যায়। তাই সবাই “সব অথবা কিছুই না” অবস্থায় খেলে। অপর পক্ষকে দমন করতে চায়, অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে।

৩. বার বার খেলায় কো অপারেশন এমার্জ করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে হয় না।

কারণ এই দেশের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি এতোই নিম্ন যে, মিচুয়াল ডেস্ট্রাকশনের পথ তারা বেছে নেয়।

সবাই আজকেই সব নিতে চায়, কারণ তাদের মতে কাল অনিশ্চিত। নগদ যাহা হাত পাতিয়া লও, বাকির ঘরে শূন্য থাক, দূরের বাধ্য লাভ কি শুনে, মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক – এইটাই তাদের প্রিয় কবিতা। বিরোধীরে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা তার প্রিয় কাজ।

৪. তথ্যের অসাম্যতা নির্যাতন বাড়ায়।

যে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে, সে তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে। সেটা ব্যবহার করে বিরোধীদের মার্জিনালাইজ করে। এতে পরের রাউন্ড আরো জিরো – সাম হয়ে যায়।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর আসন্ন নির্বাচন

আসছে নির্বাচন পরবর্তী ক্রিটিকাল নড বাংলাদেশের জন্য।

কীভাবে এই নির্বাচন হবে এবং আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হবে কিনা সেটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ জিরো সাম ট্র্যাপ থেকে বের হতে পারবে কি না।

যদি আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে:

তারা সিস্টেমের ভেতরে থাকে

তাদের সমর্থকদের লিগ্যাল আউটলেট থাকে

তারা হারলেও মেনে নেওয়ার ইনসেন্টিভ থাকে

যদি আওয়ামী লীগ বাইরে থাকে:

তারা সিস্টেমকেই ধ্বংস করতে চাইবে

ভারতের সাহায্যে ডিস্টেবিলাইজ করতে চাইবে

দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে

ভারতের সাথে শত্রুতা বাড়বে, তুর্ক-পাকিস্তান ব্লক এটাই চায়। ভারত ও লীগ বিরোধিতাকে পুঁজি করে তারা তাদের ইসলামিস্ট জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশ তৈরি করতে চায়

ভারত এখানে কী ভূমিকা নেয় তা দেখার বিষয়। ভারত লীগের সাথে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল করার ভূমিকা নিলে, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মনোভাব আরো বাড়তে থাকবে। খুব সম্ভবত ভারত এটা চাইবে না, কারণ এইটা ফাঁদ তাদের জন্য। তাই ভারত লীগরে ত্যাগ করে বিএনপির হাতই ধরবে। তারা ফিজিক্যাল লীগ নয়, লীগের আইডিয়া পুনর্বাসন করতে চায়, যেটা মুক্তিযুদ্ধ ন্যারেটিভ। কারণ এই ন্যারেটিভের উপর ভিত্তি করেই ভারতের পাওয়ার বাংলাদেশের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়, যে তারা মুক্তিযুদ্ধ সাহায্য করেছিল, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে বাংলাদেশের জন্য, এবং বাংলাদেশের অভিন্ন হৃদয়, অকৃত্রিম বন্ধুদেশ।

ভারত লীগরে ছাইড়া দিয়া সত্যি সত্যি বিএনপির হাত ধরে ফেললে, লীগের ফেরা আর হচ্ছে না।

এই গেইম থিওরির পথ ধরে ভাবলে, যদি ভারত হাত ছেড়ে দেয় লীগের, তাহলে লীগের সিস্টেমে টিকে থাকতে হইলে জুলাইয়ের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে, ও নিজ থেকেই রেকনসিলিয়েশনের পথে আগাইতে হবে। আমার ধারণা এটা আমরা সামনে দেখতে পাব।

কারণ, ক্ষমা না চাইলে যে দল ক্ষমতায় যাবে তারা এটা ইউজ করবে, এবং যেকোন ব্যর্থতার দায় চাপাবে লীগের ঘাড়ে, বলবে লীগ এসব করাচ্ছে, যেটার ইঙ্গিত ম্যাকায়াভেলী আমারে দিছিলেন, এবং ইউনুস সরকার এর সর্বোচ্চ ইউজ করে গেছেন।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

এডিট ১ এবং ২ জানুয়ারি ২০২৬


গেইম থিওরি নিয়ে অন্যান্য লেখা –

সাধুর সমাধি ও গেইম থিওরি

বরবাদ চৌধুরীর বাঁচা মরার লড়াই

টিট ফর ট্যাট কেন বেস্ট স্ট্র্যাটেজি

সিলেক্টোরেট তত্ত্বের আলোকে রাজনৈতিক ক্ষমতারে বুঝা

ফন্ট বড় করুন-+=