ক্রিটিক্যাল থিওরী

থিয়োডর আদর্নো অন লেইজার ইন্ডাস্ট্রি

যখন মানুষের সমাজে কোন কিছু স্বাভাবিক ‘নর্ম’ হয়ে যায়, তখন কেউ ওইটা থেকে সরে গেলে, না করলে মানুষের ভেতরে প্রশ্নবোধক তৈরি হয়। এবং মানুষ প্রশ্নরে সহ্য করতে পারে না। সে দ্রুত কোন এক ব্যাখ্যায় পৌঁছায়। এই ব্যাখ্যাটা একটা গল্প।

আমার প্রায়ই থিয়োডর আদর্নোর ফ্রি টাইম প্রবন্ধের কথা মনে হয়। যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন, ক্যাপিটালিজমের এই কালে কীভাবে মানুষের ফ্রি টাইমরেও কমোডিফাই করা হয়েছে। মানুষের “ফ্রি” টাইমে কোন হবি থাকতে হবে, এবং সেই হবি আবার একটা সেট অব অপশন্স থেকে নিতে হয়, সবাই তো আর নতুন নতুন হবি কল্পণা করতে পারবে না।

আদর্নো লেখেন,

“আমাকে যখন হবি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, আমি অবাক হই। আমার কোনো হবি নাই। আমি ওই ধরনের কাজপাগল লোক নই যে কাজ ছাড়া আর কিছু করতে পারে না। কিন্তু আমার স্বীকৃত পেশার বাইরের যেসব কাজ আমি করি, সেগুলো আমি খুবই গুরুত্বের সাথে করি।

সংগীত চর্চা, গান শোনা, মনোযোগ দিয়ে পড়া – এগুলো আমার জীবনেরই অংশ। এগুলোকে হবি বলা হলে তাদের বিদ্রূপ করা হবে।”

‘তোমার হবি কী?’ – এই প্রশ্নের স্বাভাবিকতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে যে তোমার একটি হবি থাকতেই হবে, অথবা আরও ভালো হয়, যদি তোমার বিভিন্ন হবি থাকে – ‘লেইজার ইন্ডাস্ট্রি’ যা সরবরাহ করতে পারে সেই অনুযায়ী।”

যখন হবি অপশনের লিস্ট তৈরি হইছে, এই এই কাজগুলা করতে হয় ফ্রি টাইমে, তখন এগুলারে কেন্দ্র গড়ে উঠছে ব্যবসা বাণিজ্য। এবং বাণিজ্য গড়ে উঠায়, মানুষদের কাছে হবি গছাইয়া দেবার মার্কেটিং, নানা আয়োজন শুরু হইছে। অর্থাৎ, যে “অবসর” টাইম তার তাত্ত্বিক ভাবে ছিল, ওইটাও দখলে চলে গেছে।

যেমন- একটা উদাহরণ, বই পড়া হবি। বই পড়া কিভাবে একটা লোকের হবি হইতে পারে? মানুষ জানার জন্য বই পড়ে, শৈল্পিক আনন্দের জন্য বই পড়ে। পড়া “ইটসেলফ” একটা হবি হইতে পারে না। কিন্তু হবি হিশাবে এটারে প্যাকেট করে চালানো হয়, যাতে অপেক্ষাকৃত কম চিন্তাশীল মানুষেরাও এটা নিতে পারে ও চিন্তাশীল না হইয়াও নিজেদের চিন্তাশীল আকারে দেখাইতে পারে।

আদর্নো এই প্রবন্ধটি লেখেন ২৫ মে ১৯৬৯ সালে, বক্তৃতাকারে জার্মানির “ডয়েচল্যান্ড-ফাংক” রেডিওতে প্রকাশ হয়। আজ ৬ডব্লিউরিসার্চের মতে, লেইজার ইন্ডাস্ট্রির সাইজ ২০২৪ সালে ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলার। এখানে মেজর প্লেয়ার ডিজনি, নেটফ্লিক্স, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলা। মানুষের “ফ্রি” টাইমরে টার্গেট করেই তাদের বাণিজ্য।

এবং যখন কোন কিছুতে বাণিজ্য, ও প্রফিট সম্ভাবনা আছে, সেখানে যেসব “ন্যারেটিভ” থাকবে মিডিয়া, বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির বদৌলতে, তা মূলত ওই বাণিজ্য ও প্রফিট সম্ভাবনারে বিকশিত করতে।