"মানুষের এতো নপর-চপর কিন্তু যখন ঘুমোয়, তখন যদি কেউ দাঁড়িয়ে মুখে মুতে দেয়, তো টের পায় না, মুখ ভেসে যায়। তখন অহংকার, অভিমান, দর্প কোথায় যায়?"- রামকৃষ্ণ

ব্লু ভেলভেটঃ অন্যের জিএফ ভাগাইয়া নেবার গল্প?

ডেভিড লিঞ্চের ফিল্ম আপনি নানা ভাবে দেখতে পারবেন। তিনি ফিল্মের বিভিন্ন দিকে সুতা বাইর করে রাখেন। নানা ব্যাখ্যা সম্ভব হয়। কিন্তু এইরকম ব্যাখ্যা হয়ত একটু আলাদাই হবে যে ব্লু ভেলভেটের (১৯৮৬) সমোদয় কাহিনী আসলে জেফ্রির লগে স্যান্ডির প্রেম হবার জন্যই। তবে এটা যদি ধরা যায় তাহলে ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় সামনে আসে। স্যান্ডি এবং জেফ্রির প্রথম স্বাক্ষাতেই সাসপেন্স ছিল। তারা মার্ডার ইত্যাদি বিষয় নিয়া আলোচনা করে। এর আগে অবশ্য জেফ্রি একটি মানুষের কান পায় ঘাসের মধ্যে এবং তা পুলিশের ডিটেক্টিভ উইলিয়াম সাবরে নিয়া দেয়। ডিটেক্টিভ উইলিয়াম স্যান্ডির বাবা, এবং এই কানের সূত্রেই স্যান্ডির সাথে জেফ্রির পরিচয় হয়।

ব্লু ভেলভেট

স্যান্ডি জেফ্রিরে বলে যে ডরোথি ভ্যালেন্স নামের সন্দেহজনক মহিলাটি এই মার্ডারের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারে। জেফ্রি এর পর রহস্য উদঘাটনে লেগে যায়, এবং সে তার সাসপেন্সফুল এডভেঞ্চারগুলিতে স্যান্ডিরেও সাথে রাখে প্রথমদিকে। পরে সে গভীরে জড়িয়ে পড়ে, আর ভয়ানক ভিলেন ফ্র্যাংকের আগমন; কিন্তু ইতিমধ্যেই স্যান্ডির হৃদয় জেফ্রির প্রতি গলে গিয়াছে। যদিও স্যান্ডির প্রেমিক ছিল আরেক ছেলে, মাইক।

এবং শেষপর্যন্ত ফ্র্যাংকের ঝামেলা মিটলে, ডরোথি ভ্যালেন্স তার বাচ্চারে ফিরে পাইলে, আমরা দেখতে পাই স্যান্ডি ও জেফ্রীর একসাথে পরিবার হয়ে বসবাস করছে। সম্ভবত তাদের বিয়ে হয়েছে। তো মোটকথা কী দাঁড়াল, জেফ্রি আরেকজনের গার্লফ্রেন্ড ভাগাইয়া নিল। ব্লু ভেলভেট আরেকজনের গার্লফ্রেন্ড ভাগাইয়া নেয়ার গল্প।

যে ইন্টারেস্টিং বিষয়টার কথা বলছিলাম, তা হলো স্যান্ডি ও জেফ্রির প্রথম সাক্ষাত থেকে শুরু করে সাসপেন্সের শুরু। জেফ্রি যেদিন প্রথম ডরোথি ভ্যালেন্সের এপার্টমেন্টে যায় পেস্ট কন্ট্রোলের লোক হয়ে সেদিন স্যান্ডি তার সাথে থাকে। স্যান্ডির কাজ ছিল গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করা আর ভ্যালেরি এসে পড়লে তিনবার হর্ন বাজানো। যাইহোক, এইসব সাসপেন্সফুল ঘটনাই আসলে স্যান্ডিরে কৌতুহলী ও রহস্যের প্রতি আগ্রহী জেফ্রির প্রতি আগ্রহী ও দূর্বল করে তোলে। এবং শেষপর্যন্ত নিজের বয়ফ্রেন্ড মাইকরে ছেড়ে দিয়ে জেফ্রির সাথে রিলেশনে যায় স্যান্ডি।

সাইকোলজিক্যালি এটা খুব সম্ভব। যদি কেউ কোন মেয়েরে নিয়া ফার্স্ট ডেইটে যান মুভিতে, তাহলে তিনি যদি সাসপেন্সফুল কোন হরর মুভি দেখেন তাহলে তাদের প্রেম হবার সম্ভাবনা বাড়ে। মুভি না হইলে তা সাসপেন্সফুল কোন রাইড হতে পারে। অথবা অন্য কোন এই ধরনের অভিজ্ঞতা। এগুলি ঐ মেয়ের সাথে মানসিক কানেকশন তৈরীতে সাহায্য করে। এই বিষয়ে কিছু রিসার্চের খবর দেখতে পাবেন এই লিংকে।

অতএব, আপনারা যারা আছেন, প্রথম ডেটিং এ সম্ভাবনাময় প্রেমিকারে ইম্প্রেস করতে আর্ট ফিল্ম বা শান্ত সুমধুর কিছুর কথা ভাবেন, তাদের এই দিকটা ভাবতে বলি। সাসপেন্সে যেহেতু কাজ হয় তাহলে কেন সাসপেন্স নয়, যেমন ডারিও আরজেন্টো’র ফিল্ম সাসপিরিয়া? ম্যান্দামারা ইন্টেলেকচুয়াল আর্ট ফিল্মের তুলনায় তা অধিক কার্যকরী হবে সম্ভাবনাময় প্রেমিকার সাথে আপনার কানেকশন তৈরীর ক্ষেত্রে।

Share
মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখার স্বত্ত্ব লেখক কতৃক সংরক্ষিত, কপি করবেন না। ফেইসবুকে লিংক শেয়ার করে একে আগ্রহী পাঠকের সামনে যেতে সাহায্য করুন।

Related Posts

Leave A Comment