by

পাঠাও/উবারের শ্রেণীতত্ত্ব

পাঠাও/উবার জাতীয় রাইড শেয়ারিং টেক স্টার্টাপ সিএনজি ড্রাইভারদের জন্য এক বড় সমস্যার তৈরী করেছে, তারা প্যাসেঞ্জার পাচ্ছে না, এবং এ নিয়ে তারা আন্দোলনও করে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষ, বিশেষত মিডলক্লাস তাদের সাথে নেই। কারন এই ড্রাইভারদের যথেচ্ছা ভাড়া আদায়সহ, মিটারে না চলা, ইত্যাকার বিষয়াদি তারা প্রায় অতিষ্ট ছিলো। পাঠাও মোটরসাইকেল ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং এর মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করেছে অনেকটা ও যানযটের মধ্যে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব করতে পেরেছে। ফলে, স্বাভাবিক ভাবেই মিডলক্লাস এই ধরণের স্টার্টাপের পক্ষে।

এই ধরণের রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে একজন চালক হতে পারেন যদি তার মোটরসাইকেল বা গাড়ি থাকে। পাঠাও এর সাইটে গেলে কেউ দেখতে পাবেন যে তারা এমন চালকই চায়।

এছাড়াও চালকদের চেহারা, পোষাক ইত্যাদি যদি আপনি দেখেন বিজ্ঞাপনে, বুঝতে পারবেন যে চালক চাওয়া হচ্ছে মিডলক্লাসের মধ্য থেকেই। অর্থাৎ, তাদের বাইক আছে, টেক বিষয়াদি বুঝতে স্বক্ষম, ট্রেইনিং দিয়ে যাকে টেক স্টার্টাপের সাথে মানিয়ে নেয়া যাবে, এমন।

বিভিন্ন টিভি নাটকেও দেখানো হচ্ছে নায়ক উবারে গাড়ি চালায়। সামনে এ ধরণের বিষয়াদি আরো দেখা যাবে।

গাড়ি চালনা বা ড্রাইভারি একটি স্বাধীন কর্মসংস্থান হতে পারে মিডলক্লাসের শিক্ষিত ছেলেটির জন্য, যে চাকরি পাচ্ছে না। বলাবাহুল্য, এই সংখ্যা আমাদের দেশে বিপুল।

তো, মিডলক্লাস যখন এইসব রাইড শেয়ারিং এপের বদৌলতে ড্রাইভারি করতে আসবে, এই ধরণের ড্রাইভারির ভালো ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হবে মিডলক্লাসে, তখন সেই মিডলক্লাসের নিচের ক্লাসে থাকা ড্রাইভারদের কী হবে, যারা এখন সিএনজি চালায়?

নিম্নবিত্তের একজনের কাছে সিএনজি চালনা কিন্তু অনেক ভালো একটি পেশা।

এই পেশার মার্কেটে প্রবেশ করছে মিডলক্লাস রাইড শেয়ারিং স্টার্টাপগুলির মাধ্যমে।

যদি এমন হতে থাকে তাহলে সমাজে কী প্রভাব পড়বে?

এখানে আরেক ধরণের এপের আগমন ঘটবে যেখানে যারা সিএনজি ও সিএনজি মালিকদের জন্য প্রায় এরকম একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে দেবে। সিএনজি মালিকেরা নিজেদের বিজনেস বাঁচাতে এটি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

পাঠাও জাতীয় এপদের উচিত সিএনজি তথা নিম্নবিত্তের এই চালকদের জন্য তাদের বিজনেসের ভিতরেই আলাদা এক সাব সেকশন তৈরী করা। যেসব শহরে যানযট কম সেখানে এখনো সিএনজি যাতায়াতের ভালো মাধ্যম। সিএনজি মালিকদের সাথে ডিলে আসতে না পারলে অন্য এপ এসে এদের নিয়ে যাবে। মূলত সিএনজির সাথে এই বিরোধপূর্ন প্রতিযোগীতায় ক্ষতিই হবে রাইড শেয়ারিং এপদের।

তবে, লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সিএনজি ও বাইকের দুই সেকশন যেন আলাদা থাকে। কারণ তা না হলে ঐ মিডলক্লাস ড্রাইভারিতে আসতে শরম পাবে। মিডলক্লাসের কোর সাইকোলজির একটা হলো তারা যেন কোনমতেই তাদের মতে যারা ছোটলোক, এদের কাতারে না যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *