"মানুষের এতো নপর-চপর কিন্তু যখন ঘুমোয়, তখন যদি কেউ দাঁড়িয়ে মুখে মুতে দেয়, তো টের পায় না, মুখ ভেসে যায়। তখন অহংকার, অভিমান, দর্প কোথায় যায়?"- রামকৃষ্ণ

শেয়ার এঞ্জেল

অধ্যাপক রবিন হ্যানসন চ্যারিটি এঞ্জেল নামে একটি ধারণা দিয়েছেন। এটি হলো, ধরা যাক আমি একজন ধনী ব্যবসায়ী, অনেক টাকার মালিক। আমি কবিতা পছন্দ করি। কিন্তু যেহেতু আমার বড় ব্যবসা এবং আমার কবিতা লেখার প্রতিভা নেই তাই আমি তা লেখতে পারি না। কিন্তু আমি দেখতে পেলাম একজন প্রতিভাবান কবিকে, বয়স কম কিন্তু খুবই ভালো কবি।  সে সাধারণ অর্থনৈতিক মিডলক্লাসের ছেলে। হ্যানসনের কথায়, আমি চ্যারিটি করতে চাইলে সেই কবিটিকে একটি চেক লিখে দিতে পারি। আমার এই দেয়ার উদ্দেশ্য হবে যাতে তার কোন চাকরি করতে হয় না, সে আরো বেশী সময় পড়ালেখা করতে পারে ও লেখতে পারে। কবিতা দিয়ে উদাহরণ দিলাম কিন্তু অন্য যেকোন ক্ষেত্রে তা হতে পারে। এটা ওয়ান টু ওয়ান চ্যারিটি, এবং হ্যানসনের কথায় এটাতে আউটকাম গতানুগতিক চ্যারিটি থেকে ভালো আসবে। কারণ যাকে আপনি দিচ্ছেন সে প্রুভেন প্রতিভাবান। তবে এক্ষেত্রে চ্যারিটি যিনি করবেন, তার যদি ইচ্ছা থাকে তিনি হাই ব্র্যান্ডের কোন চ্যারিটিতে দান করে তার সামাজিক সিগনাল শক্ত করবেন, যেটা ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই হয় তাহলে হবে না। একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী চ্যারিটি করাদের জন্যই এই ব্যবস্থা।

হ্যানসনের এই ধারনার উপর ভিত্তি করে আমি ভাবলাম শেয়ার এঞ্জেলের কথা। শেয়ার এঞ্জেলরা লেখা শেয়ার করবেন এবং এভাবেই লেখককে সাহায্য করবেন। যেসব লেখকেরা কোন মিডিয়ার দাসত্ব না করে স্বাধীনভাবে লিখছেন, ইন্টারনেটের কল্যানে এর সুযোগ তৈরী হওয়ায়; তাদের আপনি সাহায্য করতে পারেন লেখা শেয়ার করে।

এক্ষেত্রে ধরা যাক লেখাটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আপনি এর সাথে একমত। আপনি মনে করেন এটি সমাজে ছড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং এর মাধ্যমে সমাজের বা মানুষের ভালো হবে, তখন আপনি লেখার লিংক শেয়ার করে একটিভলী এই লেখার সাথে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন।

আপনার লেখার সময় বা প্রতিভা নেই, যিনি লেখছেন তার সাথে আপনি একমত এবং এভাবেই আপনি হয়ত লিখতেন লেখার প্রতিভা,সময় পেলে এবং পরিশ্রম করতে পারলে। কিন্তু যেহেতু সব প্রতিভা সবার থাকে না, কেউ ক্রিকেট খেলতে পারে আর কেউ গান গাইতে, বা কেউ লেখতে, এটা স্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগের যুগে আপনার কাছে একটি ক্ষমতা আছে। তা হলো আপনার নেটওয়ার্ক। সে নেটওয়ার্কে আপনি লেখাটির লিংক ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে লেখাটি আপনাকে যে উপকার করেছে, তার এক ধরনের ঋণ শোধও হয়। ধরা যাক, ঐ লেখকের সাইটের ট্রাফিক বাড়ল এতে। ফলে সে বিজ্ঞাপন পেল। এবং মিডিয়া দাসত্ব না করে তার সাইট থেকেই সে টাকা বানাতে পারল।

এবং আলটিমেটলী আপনি একজন স্বাধীন লেখককে সাহায্য করলেন। লেখকেরা আমাদের দেশে স্বাধীন থাকতে পারে না। স্বাধীন না থাকলে তাদের মত বা চিন্তাও স্বাধীন হয় না। তবে, এটা আপনি আশা করতে পারবেন না ঐ লেখকের মত সব সময় আপনার মতের সাথে মিলবে। যখন মত মিলবে না তখন শেয়ারের কথা আসে না। মত সব সময় না মিললেও, একজন স্বাধীন চিন্তক সমাজের জন্য উপকারী। এবং আপনি ও আপনারাই পারেন স্বাধীন চিন্তক তৈরীর উপযোগী সমাজ তৈরী করতে।

Share
মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখার স্বত্ত্ব লেখক কতৃক সংরক্ষিত, কপি করবেন না। ফেইসবুকে লিংক শেয়ার করে একে আগ্রহী পাঠকের সামনে যেতে সাহায্য করুন।

Leave A Comment