হাই এজেন্সি বিষয়ে

পানির ট্যাপ

Intisar Islam —

খুব মেমোরেবল একটা ঘটনা শেয়ার করি।

একদিন রিল দেখলাম এক মোটিভেশনাল স্পিকারের, সে ৫০ ডলারের এক নোট হাতে নিয়ে বলল কে কে এইটা চাও। সবাই হাত তুলল, আর একজন হাত তুলে ক্ষান্ত হয় নাই, হেঁটে সামনে চলে আসছে টাকাটা নিতে। স্পিকার পরে তারেই টাকাটা দেয়। ভিডিওটা মাথায় ছিল।

এর মধ্যে সামারে কাজ খুজতেছিলাম, একদিন ভার্সিটি থেকে একটা ইমেইল আসলো যে এক ফিজিক্সের প্রফেসরের একজন রিসার্চ এসিস্টেন্ট লাগবে, NSF ফান্ডেড প্রজেক্টে NASA এর ডাটা নিয়ে কাজ। মেইল করা হইছে প্রায় হাজারের কাছাকাছি স্টুডেন্টকে, ১-২ জনের মত নিবে। সিভি সহ মেইল করে দিলাম, কোন রেসপন্স পাই নাই। এরপর সেই ভিডিওটার কথা মনে পড়ল। অফিস আওয়ার বের করে অফিসের সামনে গিয়ে বসে থাকলাম, পাইলাম না উনাকে। পরের দিন আবার গেলাম, পরে দেখা হইলো অনেকক্ষণ, স্যাম্পল কাজ দিলেন, কাজ সাবমিট করে দেখা করলাম আবার। কাজটা পরে পাইছিলাম যেইট আমার প্রোফাইলকে বেটার করছে।

এর মধ্যে আপনার একটা লেখা পড়ছিলাম কমিউনিকেশন নিয়ে। ২ জন লোক কাজ করে, একজন কমিউনিকেশন ভাল করে আরেকজন কমিউনিকেশন না করে ডিরেক্ট নিখুঁত কাজ করে। ঐ সিস্টেম কাজে লাগানোর চেষ্টা করলাম, ২ মাসের প্রজেক্টে আমি কাজ করতে পারছি সব থেকে কম, এবং এস্ট্রোফিজিক্সের ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় কাজ সমস্যাও হচ্ছিল। তাও প্রতি সপ্তাহের ২-৩ টা ডিটেইল মেইল দিয়ে আপডেট দিতাম, নিখুঁত হইত না তাও উনি খুশি ছিলেন। এমনকি শেষের দিকে আমাকে দিয়ে উদাহরণ দিতেন ল্যাবের অন্যদের, বিষয়টা একটু বিব্রতকরও ছিল আমার জন্য। প্রজেক্ট শেষে আবার যোগাযোগ করছিলেন হায়ার করতে, কিন্তু ততদিনে আমি অন্য যায়গায় হায়ারড হয়ে যাওয়ায় আর কনয়টিনিউ করি নাই। আপনাকে ধন্যবাদ এই লেসনের জন্য

———–

এইটা শেয়ার করছেন উনি কমেন্টে, ২০২৫ সালের রিভিউতে। আমি গত বছর নিয়া রেফ্লেকশন করতে বলি, কারণ থাইমা না ভাবলে আপনে কিছু শিখতে পারবেন না।

গল্পটার কথা আবার ভাবেন যা আজ শেয়ার করলাম। লোকটা চারিদিকে তীর মারতেছিল, পরে এক সময় হতাশ হইয়া থামছে, এবং আবার দোয়া করছে। দোয়া এখানে সিম্বলিক। থাইমা ভাবলেই আপনে বুঝতে পারবেন কোন জায়গায় কী হইছে, কী আরো বেটার করা যাইত এবং এখানে লেসন কী।

এই কমেন্টটা এখানে নিলাম কারণ এখান থেকে দারুণ কিছু শেখার আছে, যা অনেকরে সাহায্য করবে।

যেমন, উনি রিল থেকে এক বড় লাইফ লেসন নিতে পারছেন। রিলের মেসেজটা ছিল, তোমার এজেন্সি বাড়াও। যারা শুধু সিভি ড্রপ করবে, এবং যারা এর চাইতে বেশী কিছু করবে – দুই দলের এজেন্সি এক রকম না।

অভিজ্ঞরা দেখা মাত্রই হাই এজেন্সি লোক আইডেন্টিফাই করে ফেলে, এবং এরাই যেকোন কাজের জন্য যোগ্য।

আর কম্যুনিকেশনের যে মেসেজটা আমি দিছিলাম, ওইটাতে বুঝাইছিলাম, কম্যুনিকেশন বেশী ইম্পরট্যান্ট। এক লোক ৯০% নিখুঁত ভাবে কাজ করলো কিন্তু কম্যুনিকেশনে ভালো, নিয়মিত আপডেট দিছে – সে কাজের জন্য বেশী যোগ্য, অন্যজন যার বাজে কম্যনিকেশন কিন্তু দক্ষতা ১০০% তার চাইতে। এইসব আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা ও শেখা।

এবং কমেন্টেও যে তিনি বিস্তারিত সুন্দর ভাবে বললেন, এইটাও ভালো কম্যুনিকেশনের ও হাই এজেন্সির উদাহরণ। তিনি দুই লাইনে বললে, আমি এই গল্প জানতে পারতাম না, তারেও চিনা হইত না। অনেকে ইনবক্সেও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে, হেল্প চাইতে এক দুই লাইনে চায়!

আমার ধারণা এই ব্যক্তির ভেতরে এজেন্সির বোধ জাগ্রত হচ্ছে।

এখানে একটু বুঝাই হাই এজেন্সি কী? যারা মনে করে কন্ট্রোল আমার হাতেই। এরা নিজেরে নিজের কেরিয়ারের সিইও ভাবে। এরা মনে করে, আমারেই করতে হবে, যাইতে হবে, ঔন করতে হবে।

আর লো এজেন্সির লোকেরা ভাবে, না, আমি কন্ট্রোলে নাই। আমি শুধু আমারটা করে যাব, যতটুকু দরকার। শুধু রিকুয়ারমেন্ট পুরা করলেই হইল। এরা ঔন করে না। নিজের লাইফরেও না, কাজরেও না। তাদের মানসিকতা চাকরিজীবীর মত, যেন চাকরি করে যাইতেছে। এই মাইন্ডসেট থাকলে কেরিয়ারে ও লাইফে উন্নতি করা টাফ।

আপনি হাই এজেন্সির লোকদের ধারে কাছে থাকলেও এনার্জাইজড ফিল করবেন। মনে হবে এদের ভেতর একটা পজেটিভ এনার্জি আছে।

এই ব্যক্তির প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে,

নিজের থট প্রসেস ক্লিয়ার করতে লেখালেখি করেন। সাবস্টাকে নিউজলেটার খুলেন, একজনও সাবস্ক্রাইব না করুক, সমস্যা নাই। সপ্তাহে একবার আপনার চিন্তা লেইখা রাখেন। ৫২ সপ্তাহে ৫২ টা লেখার টার্গেট নেন। আপনার কমেন্ট দেখে আমার মনে হইছে, আপনি নিয়মিত লেখলে আপনার থট প্রসেস, ক্লিয়ার থিংকিং শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

যে হাই এজেন্সির স্কিল ও বোধ তৈরি হইতেছে, এটা মহা মূল্যবান। এটারে সচেতন চেষ্টায় আরো বাড়ান। ইউটিলাইজ করেন। এইটা আপনারে বহুদূর নিয়া যাবে।

অপটিমিস্ট বলে গ্লাস অর্ধেক ভরা। পেসিমিস্ট বলে গ্লাস অর্ধেক খালি। এবং হাই এজেন্সির লোকেরা জানে, এইটা নির্ভর করে তার উপর। সে গ্লাস ভরলে ভরা, পানি না ভরলে খালিই থাকবে।

ফন্ট বড় করুন-+=