যখন বিশ্বাস এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ উপস্থিত হয় তখন মানুষ বাস্তবতারেই ভিন্ন ব্যাখ্যা করতে প্রেফার করে, বিশ্বাস বদলানোর চাইতে।
ঘানার নয়া নবী ইবো নোয়াহ যে মানুষরে বলছিলেন ২৫ ডিসেম্বর মহাপ্লাবন আসবে, এর জন্য বিশাল নৌকা বানাতে হবে। তিনি তাদের থেকে টাকা নেন।
কিন্তু ২৫ ডিসেম্বরে বলেন, এইবার বন্যা আসবে না। কারণ তিনি গডের কাছে অনুরোধ করেছেন। তাই গড আরো কিছু সময় দিছেন।
এবো নোয়াহর এই ব্যাখ্যা তার বেশিরভাগ ভক্ত মেনে নিবে। কারণ, এর বিপরীতে তাদের মানতে হবে বাস্তবতা- ইবো নোয়াহ এক ফ্রড ও তাদের বোকা বানানো হইছে। মানুষ এই ফিল নিতে চাইবে না। তাদের কাছে পূর্বের বিশ্বাসে থাকাই সুখকর।
এটা নিয়া এক বিখ্যাত বইই আছে, হোয়েন প্রফেসি ফেইলস নামে, লেখক, লিওন ফেস্টিংগার। ওইখানে একইরকম এক কাল্ট নির্দিষ্ট তারিখে দুনিয়া ধ্বংসের কথা বলে। পরে জানায়, আমাদের বিশ্বাসের কারণে ধ্বংস হয় নাই। তাদের ভক্ত সংখ্যা বাড়ছিল, কমে নাই।
ভক্তরা ভাববে, নবীর কথা তো ভুল প্রমাণ হয় নাই। উনি হয়ত সত্যি প্রার্থনা করে পিছাইয়া দিছেন প্লাবন।
এইটার ট্রিক হইল, এটা এমন এক ভবিষ্যৎ বানী, যা ভুল প্রমাণ করা যায় না, ফলসিফায়েবল না, অর্থাৎ ভুয়া।
আবার যারা অলরেডি টাকা দিয়া দিছে, তারা ভাববে, ইনভেস্ট করে ফেলছি অলরেডি, সাংক কস্ট ইফেক্টে আরো ইনভলভড হবে।
এবং যারা এই এবো নোয়াহ নবীর সমর্থক, ভক্ত তাদের এক নয়া আইডেন্টিটি তৈরি হইছে। দুনিয়াতে দেখবেন, মানুষের খেলাই এইটা, সে কোন না কোন আইডেন্টিটির সাথে একাত্ম হইতে চায়। বার্সা সাপোর্টার, মাদ্রিদিস্তা, শাকিবিয়ান থেকে শুরু করে ধর্ম গোত্র রাজনৈতিক দল – ইত্যাদি নানা কিছু আঁকড়ে ধরে আইডেন্টিটি নির্মাণ করতে চায়। এবো নোয়াহ কিছু মানুষরে সেই সুযোগ দিছেন। তারা এটা ছেড়ে যাবে না, কারণ এটা ছাড়লে তাদের এই আইডেন্টিটিও ধ্বংস হয়ে যাবে।