ছোটদের গল্প

কিত ও মিরের গল্প

এই গল্প লেখছিলাম ২০২০ সালে। আজকে পাইলাম।

কিত ও মিরের গল্প

প্রথম অধ্যায়

কিত নামে এক মেয়ে ছিল।

মির নামে এক ছেলে ছিল।

তারা ছিল বন্ধু। একসাথে ঘুরত, খেলতো।

একবার একটা বইতে কিত পড়লো চাঁদের কথা। রাতের আকাশে যে চাঁদ দেখা যায়। ওটা নাকি অনেক দূরে। একটা জায়গা।

সেখানে যাওয়া যায়। যেতে হলে রকেট লাগে।

সে তার বন্ধু মিরকে বলল সব।

সেই থেকে কিত ও মির ভাবতে লাগল। কীভাবে চাঁদে যাওয়া যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়

কিত ও মির স্কুলে পড়তো। তাদের স্কুলে স্যারেরা ছিলেন খুব ভালো।

ছেলেমেয়েরা একেকদিন একেক জিনিস বানিয়ে নিয়ে যেত স্কুলে। স্যারেরা দেখতেন। এগুলি নিয়ে কথা বলতেন।

অনেক ছেলে ছিল, যারা মোটর গাড়ি বানাতে পারত। যে গাড়ি লাফ দিতে পারে।

একটা মেয়ে একবার বানিয়েছিল এক ঘুড়ি। ঘুড়িতে চড়ে স্কুলে এসেছিল সে।

ঐ ঘুড়ির কথা ভাবলো মির। তারপর নিজে বানিয়ে ফেলল এক রকেট।

রকেটে চড়ে কিত ও মির দুই বন্ধু এলো একদিন স্কুলে। সেদিন স্কুলে সবাই অবাক হয়ে গেল।

তৃতীয় অধ্যায়

স্কুলের হেলাল স্যার মিরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি এটা কেন বানালে?

মির বলল, আমরা চাঁদে যেতে চাই।

তার পাশে ছিল কিত। সে বলল, আমরা দুইজন এটাতে করে চাঁদে যাব। স্যার, চাঁদে কিভাবে যাওয়া যায়?

হেলাল স্যার ভাবলেন।

তারপর বললেন, ঠিক আছে। আগামী ক্লাসে আমরা চাঁদে যাওয়া নিয়ে কথা বলব।

চতুর্থ অধ্যায়

পরদিন স্কুলে ক্লাস শুরু হলো চাঁদে যাওয়া নিয়ে। একজন লোক এলেন সেদিন ক্লাসে। তাকে বলা হয় নভোচারী। তিনি চাঁদে গিয়েছিলেন। সারা বছর তিনি এরকম ঘুরে বেড়ান।

তিনি বললেন, আমি নভোচারী হারমিস। চাঁদে যাওয়া না করি মিস।

সেদিন ছেলেমেয়েরা জানলো শুধু চাঁদ না, আরও অনেক জায়গা আছে চাঁদের মত। ঐগুলাতেও যাওয়া যাবে। এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার মত।

আমরা যেখানে আছি তা এক ঘর। চাঁদ এক ঘর। এরকম অনেক ঘর।

রকেটে চড়ে দূরের এসব জায়গায় যেতে হলে বিশেষ পোশাক লাগে। নভোচারী বললেন।

পঞ্চম অধ্যায়

তারপর, ছেলেমেয়েরা সবাই একদিন সকালে চাঁদের দিকে ছুটল। একেকটা রকেটে করে। সবগুলাই বানিয়েছে মির।

নভোচারী হারমিস ও হেলাল স্যার গেলেন তাদের সাথে।

কিত ও মির দুই বন্ধুর রকেট ছুটল জোরে।

তারা পৌঁছে গেল চাঁদের দেশে।

সবাই মজা করতে লাগল চাঁদে। ছবি তুললো তারা অনেক।

এদিকে, কিত ও মির, চাঁদ থেকে বের হয়ে গেল। তারা ছুটতে লাগল। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। এগুলাকে গ্রহ বলে।

নভোচারী হারমিস সাবধান করে দিলেন, বাচ্চারা বেশিদূরে না যাও। পথ ভুল করে না হারাও।

কে শুনে কার কথা। তারা নানা দিকে ছুটতে লাগলো, খেলতে লাগলো।

হেলাল স্যার বললেন, বাচ্চারা, এইসব গ্রহে এলিয়েন থাকতে পারে। ওরা তোমাদের পথ ভুলিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বাচ্চারা এবারে অনেক ভয় পেল। তারা ছোটাছোটি কমিয়ে ফেললো।


ষষ্ঠ অধ্যায়


কিত ও মির ভয় পেল না। বিভিন্ন দিকে ছুটে বেড়াতে তাদের মজা লাগছিল। তারা ছুটতেই থাকলো।

ছুটতে ছুটতে কিত ও মির পথ হারিয়ে ফেলল।

এত দূরে রাস্তা চেনা কঠিন। তারা অনেক গ্রহ দেখতে পেল নানা রঙের।

তারা চাঁদকে আর খুঁজে পেলো না।

এদিকে একসময় ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ফিরে আসল বাড়িতে।

কিত ও মির পথ হারিয়ে, রয়ে গেল মহাশূন্যে।

ক্লাসের ছেলেমেয়েরা বলে, রাতের আকাশে কখনো কখনো তাদের দেখা যায়।