আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহেবের পুরুষাঙ্গহীন (একেবারে ছোট; পত্রিকা লেখছে নিয়ারলি ডিকলেস, টোটালি বললেস।) নগ্ন মূর্তি বানাইয়া আমেরিকানরা হাসাহাসি করতেছেন এইরকম নিউজ পড়লাম। এইটারে তারা বেশ মজার বিষয় হিশেবে নিতেছেন। আইডিয়ারে ক্রিয়েটিভই ভাবা হইতেছে এই কারণে যে ট্রাম্পরে ডিকহীন আইকা তারে তীব্র অপমান করা গেল। মানুষেরা এর সাথে সেলফি তুলতেছেন। বলা হইতেছে ট্রাম্প সাহেবের কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাবরে ব্যঙ্গ করতেই তার এই লিঙ্গহারা অবস্থা।
এক, সিগমুন্ড ফ্রয়েড যেইটারে বলছেন ক্যাস্ট্রেশন এংজাইটি। বাচ্চাকালে মানুষেরা তার লিঙ্গ হারানোর ভয়ে ভোগে। এর কারণও ফ্রয়েড তার থিওরীতে উল্লেখ করেছেন, সেটা এখানে বিস্তারিত না বলি। এইটা একটা কোর ফিয়ার বা মৌলিক ভয় থাকে মানুষের, যে সবাই দেখবে তার লিঙ্গ নাই।
দুই, বিখ্যাত স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান জর্জ কার্লিন একবার বলেছিলেন আমেরিকানরা ম্যানহুড ইনফিরিয়রিটিতে ভোগে, এজন্য যেসব দেশে বড় ম্যানহুডওয়ালা লোক আছে সেইসব দেশে বোমা মারে, মিসাইল মারে; যেগুলাও দেখতে ঐরকম। এইটা তার এক কমেডি শো এর বক্তব্য, আমেরিকান যুদ্ধবাজী মনোভাবের সমালোচনা করতে গিয়াই এই কথাগুলা বলছিলেন এই ভালো কমেডিয়ান। ফান হইলেও তার কথা একেবারে ফালাইয়া দেবার মত নয়। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায় যারা যুদ্ধে জিতছে তারা পরাজিত জাতির মহিলাদের রেইপ করছে।
তিন, একজন আমেরিকান লেখক মাইকেল ক্রিকটন, একটা দারুণ পদ্বতি বাইর করছিলেন লেখায় লোকদের অপমান কইরা আইনি ঝামেলা থেকে বাইচা যাওয়ার। এক লোক তার একটা বইয়ের বাজে সমালোচনা করছিল পত্রিকায়। ক্রিকটন পরের বইয়ে ওই লোকটার নাম ধাম দিয়া একটা বাজে ক্যারেক্টার বানাইলেন, খালি এড কইরা দিলেন তার বানানো চরিত্রের ডিক ভেরী স্মল। এখন যারে উদ্দেশ্য কইরা লেখছেন সে তো আর আদালতে গিয়া বলতে পারবেন ক্রিকটন হালায় যে ক্যারেক্টার বানাইছে ইস্মল ডিকওয়ালা, অইটা আমি।
এইটা নাকী তার জন্যে অপমানের। তাই সে চুপ থাকবে। কিল খাইয়া কিল হজম করা যারে বলে আর কী!
ক্রিকটন খালি এড কইরা দিলেন তার বানানো চরিত্রের ডিক ইজ ভেরী স্মল। Share on X
এই তিন বিষয় মনে পড়ল ট্রাম্প সাহেবরে নিয়া বানানো মূর্তিখান দেইখা। এই তিন বিষয় কানেক্ট কইরা চতুর্থ বিষয়, তথা নগ্ন মূর্তি এবং তার ব্যাপারে মানুষের রিয়েকশন বুঝা যাইতে পারে। এইটা অবশ্যই একটা নির্লজ্ব প্রতিবাদ, এবং আমার ধারণা এইটা ট্রাম্পের লিঙ্গের উপরে কোন প্রভাব ফেলবে না। প্রাচীনকালে ছবি আইকা, মূর্তি বানাইয়া এর উপর মন্ত্র টন্ত্র পইড়া মানুষরে যাদু করা হইত। ট্রাম্পের লিঙ্গহীন মূর্তি বানাইয়া উনারে পাওয়ারলেস করার চিন্তা তো সেইরকমই একটা চিন্তা, এখানে যাদুমন্ত্র নাই , আধুনিক মশকরা আছে।
কিন্তু ডিকরে পাওয়ারের কেন্দ্র মনে করা তো ক্যাস্ট্রাশন এংজাইটি কালের (৩-৬ বছর) চিন্তা। যখন ফ্যালিক স্টেইজে বাচ্চার ভয়ঃ তার ফ্যালাস নাই, যা সবাই তাকাইয়া খুজতেছে তা তার নাই, তার কোন পাওয়ার নাই; তখন বস্তুটা আর বাহ্যিক ডিক থাকে না, আলাদা এক বস্তু হইয়া দাঁড়ায়। কিন্তু কার্যত পাওয়ার এর মধ্যে থাকে না, কারো কাছেই পাওয়ার নাই যা সে হারানোর ভয় করে। সাইকোলজিক্যাল ডেভলাপমেন্টের কালে এই ভয়, চিন্তা ঠিক আছে; কিন্তু বড় হইয়াও ডিকরে পাওয়ারের কেন্দ্র মনে করা বেশ বড়সড় পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা একখানা।
সাইকোএনালিস্ট ভেনেসা সিনক্লেয়ার কিছু লোক কেন ডিক সাইজের জিনিসপত্র আঁকে এই প্রশ্নের উত্তরে বলছিলেন, ‘ কিছু লোক খালি পেনিস সাইজের জিনিস আঁকে অবচেতনে এইটা বুঝাইতে যে সে ভালনারেবল নয়, তার পাওয়ার আছে।’ অর্থাৎ তার কাছে পাওয়ার মাপার ঝালকাটি ঐটাই রইয়া যায়। ভেনেসা সিনক্লেয়ার আরো বলেন, ‘এইটা ঐ ক্লাসিক উদাহরণের মত, যে বুড়া লোক স্পোর্টস কার কিনে যখন তার শারিরিক শক্তি কমে যাইতেছে।’
'কিছু লোক খালি পেনিস সাইজের জিনিস আঁকে অবচেতনে এইটা বুঝাইতে যে সে ভালনারেবল নয়, তার পাওয়ার আছে।' Share on X
এই ডিকহীন ট্রাম্পের দৈত্য মূর্তির শিল্পী, আইডিয়াবাজ, বা ট্রাম্পরে পাওয়ারহীন করা গেল ভাইবা যারা এইটারে হাসির জিনিস মনে করেন এনাদের ব্যাপারে সাইকোএনালিস্টেরা একই ধরনের কথা বলবেন সম্ভবত।