পুরনো কৌতুক একটি সাধারণ থ্রিলার উপন্যাস। এটি প্রকাশ হয় আদর্শ প্রকাশন থেকে, ২০১৮ সালের একুশে বইমেলার একেবারে শেষের দিকে। কেনার লিংক – রকমারি।

এইগুলা আমার।
বইটি যারা কিনেছেন তাদের কাছে আমি ছবি তুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছিলাম। তাদের অনেকে সে আহবানে সাড়া দিয়েছেন। তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।
আপনি বইটি কিনে থাকলে, তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিতে পারেন আমার ফেইসবুক ইনবক্স বা ইমেইলে। ছবিটি এখানে যুক্ত হবে।
———————————————-
“আপনার ‘পুরোনো কৌতুক’ বেশ উপভোগ করেছি। যদিও থ্রিলার পড়ার অভিজ্ঞতা আমার খুবই কম, তবু সাধারণভাবে বলতে পারি, এ কাহিনির বুনন এমন যে তা সব পাঠককেই শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে। … শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাসপেন্স অক্ষুণ্ন থেকেছে। “
-
কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম।
——————————————————————————

এই ছবিটি Md Iftekhar Ali পাঠিয়েছেন। তার ফেইসবুক – লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন Sihan Naeem, তার ফেইসবুক – লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন Sourav Mezbah, তার ফেইসবুক – লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন Goutam Goswami, তার ফেইসবুক- লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন Adil Ibne Sifat, তার ফেইসবুক- লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন Kausar Hamid Jawad, তার ফেইসবুক- লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন লেখক Wahed Sujan, তার ফেইসবুক- লিংক।

এটি পাঠিয়েছেন সীমান্ত মুরাদ, তার ফেইসবুক- লিংক।

এই ছবিটি ও মন্তব্য লেখক Wasee Ahmed Rafi তার ফেইসবুকে পোস্ট করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বইমেলায় তার প্রকাশিত বই ছিল আঁধারের গহীন নিরুদ্দেশে, গুডরীডস ।
ভালো লেগেছে। ভালো লাগার কারণ বিষয়ে আলাপ করতে গেলে প্রথমত আসে চরিত্রগুলোর কথা। প্রত্যেকটা চরিত্রই আলাদা আলাদাভাবে ইন্টারেস্টিং, শক্তিশালী, স্বতন্ত্র দর্শনভঙ্গি সম্বলিত এবং ভিন্ন ধাঁচের। নিহিলিস্ট যুবক অপুকে প্রায়শই দেখা যায়, মাতাল অথবা স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ অথবা চিরাচরিত প্রথাগত অর্থহীন ‘অনাসৃষ্টির’ প্রতি কটাক্ষপাত করতে (তার জীবনদর্শন অবশ্য সেটাই সাপোর্ট করে আরকি)! মাতাল অবস্থায় ফেন্টন মাইকসের সাথে কথোপকথের একটা অংশ খুব ভালো লেগেছিল, উল্লেখ করে দিচ্ছি –
‘পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কৌতুক কি জানো? ওল্ড জোক? মানুষ। মানুষই হলো কৌতুক।”
——
——
“মানুষেরা ভেসে যাচ্ছে। মানুষেরা ভেসে যাচ্ছে। তুচ্ছ মানুষ। আমার প্রগাঢ় প্রসাবের ফেনায় যাচ্ছে ভেসে।”
কীটস্বরুপ মানবজাতির প্রতি তাচ্ছিল্যের মনোভাব পুষে রাখা অপুর ভাষায় সে নিজে একজন ‘উবারমেনশ।’ উবারমেনশ (সুপারম্যান/ অতিমানব/ বিয়ন্ড হিউম্যান) এর ধারণাটা এসেছে জার্মান দার্শনিক নিৎসের কাছ থেকে। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ প্রাণশক্তি আর নৈতিকশক্তির চূড়ান্ত বিকাশ সাধনের মাধ্যমে অতিমানবে পরিণত হতে পারে। এই অতিমানব হওয়ার সাধনায় আত্মশক্তি বৃদ্ধি আর অগ্রগতি তাকে শক্তি জোগায়। অনেকের মতে, এই মতবাদকে ভিত্তি করেই ইতালিতে মুসোলিনি অথবা জার্মানিতে হিটলারের মতো পরাক্রমশালী একনায়কদের অভ্যুত্থান ঘটে।
শখের ভাস্কর্যশিল্পী অপুর মা অথবা অধ্যাপক হরিশংকর বল এর চরিত্রের আবছায়ায় ঘুরেফিরে প্রতিশোধ, কামনা অথবা বিষাদ এর মনস্তত্ব বর্ণিত হয়েছে। পুরোনো অথচ প্রাচীন এই অনুভূতিগুলোর কাছে মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই বন্দি।
ফেমিনিস্ট মনীষা যেন একদম চোখের সামনে দেখা এক অতি ফেমিনিস্ট। আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে এরা, কাছে-দূরে সবখানে…
নতুন অধ্যায়ের শুরুতে শক্তি চট্টোপাধ্যায়, ভাস্কর চক্রবর্তী আর জীবনানন্দ দাশের কবিতা ব্যবহৃত হয়েছে। এ প্রসঙ্গেও জোরদার ধন্যবাদ দিতে হয় লেখককে।
পুরোনো কৌতুককে নিছক মার্ডার মিস্ট্রি অথবা শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারের আওতায় ফেলে বিচার করা ভুল হবে (ব্যক্তিগত মতামত)। নিহিলিস্ট, ফেমিনিস্ট, মার্ডারার অথবা সেক্সুয়াল পার্ভার্শনে মেতে ওঠা চরিত্রগুলোই স্বতন্ত্র করে তুলেছে বইটাকে। লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির শক্তিশালী প্রয়োগ ঘটেছে চরিত্রায়ন আর গল্প বর্ণ্নার ভঙ্গিতে। মাত্র ১০৪ পৃষ্ঠার হয়েও তাই ‘পুরোনো কৌতুক’ পাঠকের মনে আঁচড় কেটে যায়, জন্ম দেয় অনেকগুলো প্রশ্নের, যার উত্তর হয়তো আমরা কখনোই জানি না অথবা জানার উপায় নেই কিংবা জানতেও চাই না!

এটি পাঠিয়েছেন Ayatullah Bukhari, তার ফেইসবুক – লিংক।