ডিপ স্টেট কী?

ডিপ স্টেট কারা, এই প্রশ্ন আসে।

যেহেতু এটা অনুমান ভিত্তিক ও এরে কেন্দ্র করে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হয়। আবার, অনেক বেকুব অতি স্মার্ট হইতে যাইয়া এটারে পুরা উড়াইয়া দিতে চায়।

ডিপ স্টেট একটা অপ্রকাশ্য ক্ষমতা কাঠামো যেইখানে সরকারের পেছনে থাকা প্রভাবশালী গোষ্ঠী – যেমন গোয়েন্দা সংস্থা কিছু গুরুত্বপূর্ন লোকজন, সামরিক বাহিনী ও আমলাতন্ত্রের কিছু প্রভাবশালী লোকজন থাকেন। বিদেশী শক্তিও এখানে যুক্ত থাকে।

আর বিস্তৃত অর্থে, প্রভাবশালী মিডিয়া মালিক ও সম্পাদক, বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, কিছু সিভিল সোসাইটি নেতা যারা বিদেশি অর্থ পান নানা কারণে, থিংক ট্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগের কিছু ব্যক্তিও এখানে যুক্ত থাকতে পারেন।

উদাহরণের কথা বললে, ২০০৭ সালের ১/১১ এর সময়, মার্কিন, ব্রিটিশ, কানাডীয়, জার্মান, জাপানি এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা নিয়মিত বাংলাদেশের রাজনীতি “পর্যালোচনা” করতে মিলিত হইতেন, ও চা বিস্কুট খাইতেন। ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকাররে পশ্চিমা, এবং সিভিল সোসাইটি সমর্থন দিয়েছিল।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বীকার করছেন পরে, তিনি এবং ঢাকার বেশিরভাগ সংবাদপত্র সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই দ্বারা প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গল্প প্রকাশ করেছিলেন, যা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি। পুরা জাতিরে কেন এইভাবে ম্যানিপুলেট করা হইল? কী উদ্দেশ্যে? কারা পিছনে ছিলেন?

এগুলা কেন করা হইছিল? এখন অনেকে কয় ইন্ডিয়া করাইছে লীগরে আনতে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, তখন বৈশ্বিক বাস্তবতায় ডিপ ষ্টেট মায়নাস টু করতে চাইছে, পরে না পাইরা, লীগরে আনছে ক্ষমতায়।

এবং সাধারণ কমন সেন্স দিয়াও যদি ভাবেন, যেকোন দেশের এইসব বড় বড় গুরুত্বপূর্ন সংস্থায় যারা কাজ করেন, তারা অনেক পাওয়ার হোল্ড করেন। এসব মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ইগো থাকে। তা না হইলে জেনারেল জিয়ার শাসক হবার এম্বিশন থাকতো না। বা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে যা হইল, ক্ষমতাবান মানুষদের ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ, এইগুলা হইত না। আর ১৫ আগস্টই বা কীভাবে হইতে পারলো? উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা কী জানতেন না? জিয়ারে যে দোষারূপ করতে চায় লীগ, তিনি কি একেবারেই কিছু জানতেন না? জানতেন। তিনি এবং তারা অনেকে এইটা হইতে দিছেন, এই ‘তারা’ টাই ডিপ স্টেট।

এখন, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড অনেকের কাছে দেশরে বাঁচানো, অর্থাৎ এখানে ডিপ ষ্টেটের কাজ তাদের পক্ষে গেছে। একইভাবে অনেক ক্ষেত্রে, ডিপ ষ্টেটের কাজ তাদের বিরুদ্ধেও যাইতে পারে। যেমন, শহীদ জিয়ারে যিনি মারছেন, তিনি কয়দিন আগে এরশাদ সাহেবের সাথে দেখা করেন, এরশাদ সাহেব ট্রেনিং নেন ইন্ডিয়ায়, তার ভালো ইন্ডিয়া কানেকশন ছিল।

আবার ভাবেন, বিএনপির নেতা মন্ত্রীদের যখন ধরে নেয়া হইল, বাবর, তারেক রহমানসহ অনেকরে, তখন তারেক রহমানরেই কেন নির্মম ভাবে প্রহার করা হইল? এরকম আর কাউরে করা হয় নাই। এখানে দুইটা বিষয় খেয়াল কইরেন, এক তারেক কোন মন্ত্রী ছিলেন না, সরকারের পদে ছিলেন না। দলের পদে ছিলেন। দুই, তিনি তার নানা কাজে ওই যে “ডিপ স্টেট” আছে এদের আন্ডারমাইন করছেন। হাওয়া ভবন ইত্যাদির কথা আসে। এটা করাপশন যতটা, তার চাইতে বেশী হইল, এই আন্ডারমাইন করার দুঃসাহস। এর জন্যই তারে মারা হইছে, এবং এইজন্যই, তার দেশে ফেরাটা প্রশ্নবোধকে এখনো আটকা আছে।

এখন চিন্তা করেন, গত আগস্টে শেখ হাসিনার কথামতো কেন তিন বাহিনী কাজ করলো না। এবং তারে রীতিমত নির্দেশ দেয়া হইল, পদত্যাগ করতে। এটা কারা করাইছেন? দেশের বিপদ দেখে যে গুরুত্বপূর্ণ লোকেরা সিদ্ধান্ত নিছেন, এরাই ছায়া সরকার।

শেখ হাসিনারে যে হত্যা করা হইল না, বা তার পরিবারের সবাইরে যে যাইতে দেয়া হইল, এটাও হওয়ার কথা ছিল। কারণ, একটা গ্লানি আছে শেখ মুজিব ফ্যামিলিরে হত্যা করা হইছিল। এটারে করুণভাবে তুলে ধরতেন শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত, ফলে একটা সামগ্রিক গিল্ট তৈরি হইছে জাতির। এই অবস্থায় ডিপ ষ্টেট এই ফ্যামিলির আর কাউরে মারতে পারে না।

অন্যদিকে, জিয়ারে হত্যা করা হইলেও, ওইটারে করুণভাবে তুলে ধরে জাতিরে গিল্ট দিতে পারেন নাই খালেদা জিয়া, তারেক। জিয়ারে কেন মারা হইল, কী হইছিল, তার কোন শোকগাঁথা নাই। এইজন্য তারেকের উপর হাত তোলা সহজ হইছে। তিনি কোন মন্ত্রী ছিলেন না, এইজন্য আরো সহজ হইছে।

‘ডিপ স্টেট” বলতে যাদের বুঝানো হয়, এনারা সব সময় একই লোকজন থাকেন না। সময়ের সাথে সাথে পুরানোরা চাকরী বা কাজ ছাইড়া অবসরে যান, নতুন লোকজন আসেন, এর সাথে আসে কিছু নতুন ধ্যান ও ধারণা। ক্ষমতার পালাবদলেও পরিবর্তন হয়। যেমন গত আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর, মূল ক্ল্যাশ হইছে ভারতপন্থী ডিপ স্টেট ও ভারত বিরোধী ডিপ স্টেট। অনেক কিছুই যা আমরা হইতে দেখছি, ও হইতেছে এখন, তা এই ক্ল্যাশেরই ফল।

জনগণ ক্ষমতার উৎস, এটা ঠিক। ডিপ ষ্টেটের লগে গুলাইয়া ফেইলেন না। একটা রাষ্ট্রের ক্ষমতারে ভাবেন দুধ ভরা পাত্র হিশাবে, দুধের সর হইল ডিপ ষ্টেট, যা মূল পাওয়ারের একটা সলিডিফাইড রূপ আকার ধারণ করে।

এবং এটাও মনে রাইখেন, ডিপ ষ্টেট জনগণের মনোভাবরে নানাভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

ফন্ট বড় করুন-+=