১। বেশি আর্ন করেন, বেশি সেইভ করেন। সেইভ না করলে আপনে যতোই আর্ন করেন ইনভেস্ট করার মত মানি থাকবে না।
২। ইনভেস্টিং সম্পর্কে শিখেন। একেবারে ভেতর বাহির যতটুকু সম্ভব। এটা পরীক্ষার পড়া না এক সাবজেক্ট পড়ে পরীক্ষা দিলেই পাশ। একজনকে নিয়মিত শিখতে হয়।
ইনভেস্টিং এর গেইম কঠিন। ২০২০ সালের এক রিপোর্ট মতে গত ১৫ বছরে ৯০% পেশাধার ফান্ড ম্যানেজার এস এন্ড পি ৫০০ কে হারাতে পারে নি। এই পেশাধার ম্যানেজারেরা আইভি লীগের ডিগ্রি নেয়া, তাদের সারাদিনের কাজই হলো এনালাইসিস করা, ফান্ড ম্যানেজ করা। তারাই যদি না পারে, সাধারণ ইনভেস্টরদের জন্য আরো কঠিন। এখানে আসলেই প্রচুর সিরিয়াস টাইম দিতে হবে।
৩। যেকোন মূল্যে শর্ট টার্ম ট্রেডিং এড়িয়ে চলেন।
শর্ট টার্ম ট্রেডিং ক্যাসিনোর গেইমের মত। এখানে ভাগ্যগুণে আপনি হয়ত জিতে যেতে পারেন। কিন্তু প্রতিবার ভাগ্য আপনাকে সাহায্য করবে না। একবার জিতলেন, কিন্তু আপনার কোন স্কিল আয়ত্ত্ব হইল না। ফলে, লং রানে আপনি হারবেন। অন্যদিকে ইনভেস্টিং এর এনালাইসিস, ডিসিশন মেকিং এর স্কিল, টেম্পারমেন্ট, রিসার্চ করার স্কিল এগুলি করতে করতে আপনি আয়ত্ত্ব করলেন, শুরুর দিকে অত বেশি জিতলেন না, কিন্তু লং রানে আপনার জিতার সম্ভাব্যতা বেশি। কারণ আপনি ইনভেস্টিং এর স্কিল আয়ত্ত্ব করেছেন। এবং এখানে আরেকটা দিক, একজন ইনভেস্টর লং টার্মে চিন্তা করবেন। কারণ তিনি যে প্রফিট পান তা ফিউচার ভ্যালু বিষয়ে তার সঠিক সিদ্ধান্ত ও সেই অনুযায়ী একশনের ফল হিসেবেই।
৪। চিন্তা করার সময় নিম্নে এক বছর আগাইয়া চিন্তা করেন। বেটার ১০ বছর আগাইয়া চিন্তা করা।
অতীতের ডেটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দৃষ্টি থাকতে হবে ফিউচারে। পৃথিবীর এই পর্যন্ত একনোমির ইতিহাস যদি পড়েন, এবং এর থেকে একটা শিক্ষা নিতে চান, তাহলে সেটা হবে, অতীতকে আপনি যত সেরা মনে করেন, অতীত ওইরকম ছিল না। বর্তমানকে যত খারাপ মনে করেন, বর্তমান অত খারাপ না। এবং ভবিষ্যৎ, আপনার ধারণার চাইতেও বেটার হবে।
৫। কোন বিজনেস নিয়ে রিসার্চ করতে গেলে দেখা যায় আপনি ৫০ ঘণ্টা রিসার্চ করে সামান্যই নতুন তথ্য পেয়েছেন। এই দীর্ঘ সময় এক বিজনেস নিয়ে জানতে গিয়ে, এর প্রতি আপনার একটা কমিটমেন্ট তৈরি হবে। আপনি তখন চাইবেন আপনার এই ৫০ ঘণ্টার শ্রম বৃথা না যাক। কিন্তু আপনি কত ঘণ্টা রিসার্চে টাইম দিলেন এর উপর নির্ভর করে কোন স্টক ইনভেস্টমেন্ট যোগ্য হয় না, এর সাথে কোন সম্পর্ক নেই।
এই সমস্যা এড়াতে, প্রথমে ব্রড ভাবে আইডিয়াগুলি দেখুন। প্রতিদিন কিছু কিছু আইডিয়া। যদি কোন এক আইডিয়া আগ্রহ তৈরি করে তাহলেই ডিপে যান।
দুই, যে জায়গায় আপনার দক্ষতা আছে, যে বিজনেসগুলা বুঝেন, ঐগুলাতেই ফোকাস করেন, এগুলা রিসার্চ করা ইজি হবে। তিন, রিসার্চ পাবলিকলি শেয়ার করতে পারেন আগ্রহীদের সাথে, তারা এমন কোন দিক দেখতে পাবে হয়ত, যা আপনি পান নি।
রিসার্চে একজন ডিটেকটিভের মত কাজ করতে হয়। প্রতিটি সাকসেসফুল কোম্পানির একটা সিক্রেট থাকে, যেই সিক্রেট তাদের সাকসেসফুল বানায়। সেই সিক্রেট খুঁজে বের করাই রিসার্চের কাজ।