দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারীরা কেমন লিডার হবেন?

দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারী প্রার্থী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ইলেকশন করা নতুন কিছু না। জুলাই ২০২৪ পরবর্তীকালের বাস্তবতায়, এই ২০২৬ সালের ইলেকশনে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রার্থীই বিদেশ থেকে এসে ইলেকশন করছেন। যাদের দ্বৈত নাগরকিত্ব আছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারীদের ক্ষেত্রে, একটা মৌলিক প্রশ্ন আসতেই হবে, খেলায় এনাদের স্কিন আছে কি না?

স্কিন ইন দ্য গেইম প্রাচীন এক সূত্র, যা নৈতিকতা ও আইনের এক প্রধান ভিত্তি হিশাবে কাজ করে।

প্রাচীন রোমে নিয়ম ছিল, যারা আর্ক বানাতেন, যেদিন সাহায্য পিলার খোলা হত, ঐদিন বিল্ডিং এর নিচে তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। যাতে কারিগর ঠিকভাবে বানান। কারণ ভুলভাবে বানালে, কাজে গাফিলতি করলে, বিল্ডিং ভেঙে পড়বে। আর প্রথমদিন মারা যাবেন তিনি নিজেই।

এটা এসেছে ৩৮০০ বছরের পুরনো হাম্মুরাবির কোড থেকে।

নাসিম তালেব এই বিষয়ে স্কিন ইন দ্য গেইম নামে এক চমৎকার বই লিখেছেন, যেটা নিয়ে সবচাইতে সমৃদ্ধ বাংলা লেখাটি আমি প্রকাশ করেছিলাম সাইটে, ২০১৮ সালে।

একবার আলেকজান্ডার দি গ্রেট তার সৈন্যদের নিয়ে অভিযানে আছেন, তারা মরুভূমির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কারো কাছে পানি নাই, সবাই পিপাসায় কাতর। এরই মধ্যে খুব ছোট একটা জায়গায় সামান্য পানি পাওয়া গেল। সৈন্যরা হেলমেটে করে সেই পানি নিয়ে আসলো আলেকজান্ডারের কাছে।

যারা এই মহামূল্যবান পানি নিয়ে এসেছে তাদের ধন্যবাদ দিয়ে আলেকজান্ডার পানি ভর্তি হেলমেট হাতে নিলেন। দেখলেন, তার দিকে তাকিয়ে আছে সব সৈন্য।

তিনি হেলমেট উপুড় করে সব পানি মরুভূমির বালুতে ফেলে দিলেন।

উপস্থিত সৈন্যরা উল্লাশধ্বনিতে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুললো। একজন চিৎকার করে বলে উঠলো, যে সৈন্যদলের রাজা এইরকম, সেই দলকে আটকানোর ক্ষমতা দুনিয়ার কারো নেই।

আলেকজান্ডার এখানে কী করেছিলেন? তিনি শুধু মুখে বলেন নাই, প্রমাণ দিয়েছিলেন যে, তার স্কিন আছে খেলায়।

তিনি পানি খেয়ে ফেললো সৈন্যদের মনোবল ভেঙ্গে যেত। তারা ভাবতো, রাজা তার স্বার্থই দেখবেন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারী যারা ইলেকশনে নামছেন, দেখা যাবে তারা আমেরিকা বা ইউরোপের কোন দেশের নাগরিকত্ব রাখেন। তাদের পরিবার, ছেলে মেয়ে সবাই ওই দেশের বাসিন্দা। তাদের ফিউচার ওইখানেই।

বাংলাদেশে তার স্কিন কী? তার মুখের কথারেই আপনার বিশ্বাস করতে হবে। তিনি মহান, উদার, তিনি দেশের উন্নতির জন্য বিদেশের আরাম আয়েশ ও ভালো জীবন ত্যাগ করে এসেছেন। দূর্ভাগ্য পীড়িত মানুষের উন্নয়নে জীবন উতসর্গ করতে চান।

এসব কথাবার্তা আবেগী কথা হিশেবে ঠিক আছে, কিন্তু তার স্কিন প্রমাণ করে না।

উলটা, যদি বাস্তবতা বিচার করেন তাহলে দেখবেন, তিনি ওই দেশে কোন সাধারণ চাকরী বা ব্যবসা করতেন। যেখানে টাকা উপার্জন করা খুব সহজ না, এবং ট্যাক্স সহ নানাবিদ খরচ আছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের এমপি হইতে পারলে, নানা প্রজেক্ট, তদবির ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি বিদেশে যা কামান, সারাজীবনে কামাইতেন তার ১০, ২০ গুণ কামাইতে পারবেন। এটা আপনার বিশ্বাস না হইলে গত আওয়ামিলীগ শাসনামলের দুর্নীতি, বা, আগের সরকারগুলির দুর্নীতি খেয়াল করেন নাই।

ইভেন, উন্নত দেশে ক্ষমতায় যাবার চাইতে, বাংলাদেশের মত দেশে ক্ষমতায় যাইতে পারা বহুগুণে বেশী লাভজনক। এখানে রুলস এন্ড রেগুলেশনস কম। অনেক ফাঁক ফোঁকর আছে, মানুষের সংখ্যা বেশী। বিদেশী শ্রম শক্তি থেকে রেমিটেন্স আসছে, গার্মেন্ট ব্যবসা ভালো চলছে, দেশে ইয়াং জনসংখ্যা আছে – ফলে ঋণও মিলে। এই অবস্থায়, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে টাকার ফ্লো থাকবে, এবং সেখান থেকে বড় এমাউন্টের টাকা নিয়ে যাওয়া কঠিন কিছু না ক্ষমতায় থাকাদের জন্য।

ফলে, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী অনেকের কাছেই এটা এক ভালো ইনভেস্টমেন্ট। আমার ধারণা, দুনিয়ার কোন ইনভেস্টমেন্টই এতো অল্প সময়ে, এত ভালো রিটার্ন দিতে পারবে না।

কোন দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারীর চাইতে, যার কেবল বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আছে, বাংলাদেশেই তার পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পণা – খেলায় তার স্কিন বেশী।

ফন্ট বড় করুন-+=