বাগদাদে এক গরীব লোক ছিল। সে প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করতো, আল্লাহ, এই দারিদ্র্যের কষ্ট তো আর সহ্য হয় না মাবুদ, আমারে ধনী বানাইয়া দাও। যাতে আর এই কষ্ট করতে না হয়।
একদিন সে এরকম দোয়া করে ঘুমাইছে, স্বপ্নে দেখল, এক কণ্ঠস্বর বলতেছে, অমুকের বাড়িতে যাইবা। গিয়া প্রথমে যে কাগজটা চোখে পড়বে, ওইটা নিয়া আসবা।
গরীব লোকটা পরদিন তাই করলো। কাগজ নিয়া আসলো। কাগজে লেখা ছিল, শহরের বাইরে যেখানে শহীদের মাজারের গম্বুজ আছে, সেখানে যাও। মাজারের দিকে পিঠ দিয়ে কাবার দিকে মুখ করো, কয়েক পা যাও। তারপর ধনুকে তীর রাখো। যেখানে তীর পড়বে, সেখানে খুঁড়লে গুপ্তধন পাবে।
লোকটা কাজে নেমে গেল। সে কাগজের লেখা মোতাবেক ওই শহীদের মাজারের দিকে পিঠ করে কয়েক পা গেল, তীর ধনুকে জুড়ে ছুঁড়লো। যেখানে পড়েছিল তীর ওইখানে খুঁড়তে লাগলো।
লোকটার এই কাজ রাজার চোখে পড়লো। রাজা তাকে পাকড়াও করে জিজ্ঞেস করলেন, কী বিত্তান্ত?
সে বাধ্য হলো রাজাকে সব বলতে, ও কাগজটা দিতে। রাজা এবার নিজেই লাগলেন। চারিদিকে অনেক তীর মারলেন, খুঁজলেন। কিছুই পেলেন না। শেষে ব্যর্থ হয়ে গরীব লোকটিকে বললেন, ঠিক আছে, তুই খুইজা বের কর, আর সব ধন সম্পদ নিয়া যা।
গরীব লোকটা প্রতিদিন তীর ছুঁড়তে লাগলো, আর সম্পদ খুঁজতে লাগলো মাটি খুঁড়ে। কিন্তু কোথাও কিছু নাই। সে জোরে, আরো জোরে তীর ছুঁড়তে লাগলো সর্বশক্তি দিয়ে। কিন্তু যেখানে পড়লো, খুঁজে কিছুই পেলো না।
সে একদিন ক্লান্ত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর কাছে দোয়া করল, ইয়া আল্লাহ! এই কোন বিচার তোমার! আমারে বললা সম্পদ আছে এখানে। আমি তীর ছুঁড়তে ছুঁড়তে সব কিছু খুঁড়ে ফেললাম। কোথাও কিছু নাই। আমারে দয়া করো।
ঐদিন সে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমাইয়াই গেছিল। স্বপ্নে দেখল কণ্ঠস্বর তারে বলতেছে, তোমাকে বলা হয়েছিল ধনুকে তীর রাখতে। সর্বশক্তি দিয়ে ছিলা টানতে বলা হয়নি।”
স্বপ্ন দেখে লোকটার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে দৌড়ে গেল ওই শহীদের মাজারে। পিছন ফিরে কয়েক পা গিয়ে তীর রেখে সামনে ফেললো, এবং ওইখানে খুঁড়ে পেলো গুপ্তধন।
এই গল্প আছে জালাল উদ্দিন রুমীর মসনবীতে। গল্পের উইজডম হইল, যা খুঁজতেছ তুমি, তা দূরে নয়, তোমার কাছেই আছে। বৃথা তুমি দূরে দূরে খুঁজে মরছো, আর কষ্ট পাচ্ছো।
দ্বিতীয় উইজডম, কোন কিছু পাইতে গেলে তার যোগ্য হইতে হয়। গরীব লোকটা অনেকদিন একই ভাবে কাজটা করে গিয়া ওই গুপ্তধনের যোগ্য হইয়া উঠছিল। আল্লাহ তারে প্রথমেই দিয়া দেন নাই। তারে যোগ্য করতে সময় নিছেন। যখন সে যোগ্য হইল, তখন সে থেমে আবার আল্লাহর কাছে চাইল। তখন তিনি তারে দিশা দিলেন। অন্যদিকে, রাজার অনেক শক্তি সামর্থ্য ছিল, চারিদিকে খোঁজাখোঁজি করেও তিনি পান নাই। তিনি যোগ্য হবার সময় নেন নাই, পরিশ্রমও করেন নাই। তাই গুপ্তধনও তার পাওয়া হয় নাই।
নতুন বছরের জন্য মেসেজ এই দুইটাই থাক।
যা খুঁজতেছেন, তা কাছেই আছে।
যোগ্য হইয়া উঠলে, যা খুঁজতেছেন তা ধরা দিবে। তাই জার্নি বন্ধ কইরা দিয়েন না।
নববর্ষ আপনার জীবনে রহমত ও বরকত নিয়ে আসুক। শুভকামনা।