গণসহিংসতা বিষয়ে।
ক্যাটাগরি সহিংসতার ভূমিকা
বিচারিক সহিংসতা ও দর্শক বিষয়ে
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রায় সব জায়গাতেই লোকেরা হিংস্র শাস্তি দেখতে যেত, এবং সেইসব শাস্তি জনসমক্ষে দেয়ার পেছনে তাদের নিজস্ব কিছু কারণও ছিল। কিন্তু সাধারণ লোকেরা কেন এগুলো দেখতে যেত? আমরা কি প্রকৃতিগত ভাবেই সহিংসতা বা অন্যকে নির্যাতন দেখে মজা পাই? আধুনিক কালে ভিডিও গেইম এবং ফিল্মে আমরা সহিংসতা দেখি এবং উপভোগ করি। বা বিভিন্ন পশুর লড়াই আমরা উপভোগ করি। যেমন আমাদের গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত আছে মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই। এটা কেন? কেন আমরা এমন সহিংসতা পছন্দ করি?
সহিংসতার ভূমিকাঃ পুরুষত্ব, সম্মান ও সহিংসতা
কিছু জায়গায়, বিশেষত ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডে ওয়ার্কিং ক্লাস লোকদের মধ্যে খালি হাতে ফাইট জনপ্রিয়তা পায়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডে নিম্ন বিত্ত লোকদের ফাইটে ছুরির ব্যবহার বন্ধ হতে খালি হাতে ফাইট শুরু হয়। তারা মনে করতো কোন ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করে ফাইট হলো আন-ইংলিশ বা অ-ইংরেজসুলভ। এসব যুদ্ধের আগে প্রতিদ্বন্ধীরা পরস্পর হাত মেলাতেন। দর্শকেরা গোল বৃত্ত তৈরী করে তাদের ঘিরে রাখতেন। মারাত্মক ফাইট শুর হতো এবং কোন একজন চালিয়ে যেতে অসক্ষম না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকতো যুদ্ধ। ফাইট ক্লাব ফিল্মের ফাইট ক্লাবের ধারণা এই ইতিহাস থেকেই এসেছে।
সহিংসতার ভূমিকাঃ ধর্ষণ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের এশিয়া দখলের সময় কম্ফোর্ট উইমেন নাম দিয়ে তারা ধর্ষণ করেছিল। ১৯৩০ এর শেষের দিক হতে, চীন যখন আক্রমণ করেছিল জাপান তখন ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নামানো ছিল সে আগ্রাসনের একটা অংশ। নানজিং এ ১৯৩৭ সালেই প্রায় ২০,০০০ নারীকে ধর্ষণ করা হয়। প্রায় ৫০,০০০ থেকে ২০০,০০০ মূলত কোরিয়ান, চাইনিজ, তাইওয়ানিজ, ফিলিপিনো নারীদের জোরপূর্বক যৌনদাসত্বে বাধ্য করেছিল জাপানিরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, এবং এর পূর্বে। এদের নাম দিয়েছিল তারা ইয়ানফু বা কম্ফোর্ট উইমেন।
সহিংসতার ভূমিকাঃ নবজাতক হত্যা
“কুৎসিত কদাকার একটা কিছু যার দিকে তাকান যায় না। এ আর যাই হোক মানবশিশু নয়। চেনা-জানা পৃথিবীর সঙ্গে তার কোন যোগ নেই। ঘন কৃষ্ণবর্ণের একতাল মাংসপিণ্ড। এর থেকে হাতীর শুঁড়ের মত আট-দশটি শুঁড় বেরিয়ে এসেছে। শুঁড়গুলি বড় হচ্ছে এবং ছোট হচ্ছে। তালে তালে মাংসপিণ্ডটিও বড়-ছোট হচ্ছে। মানবশিশুর সঙ্গে এর একটিমাত্র মিল- এই জিনিসটিরও দু’টি বড় বড় চোখ আছে। চোখ দুটি ঘুরিয়ে সে দেখছে চারদিকের পৃথিবী। চোখ দু’টি সুন্দর। কাজল টানা।”