আপসাইড ক্যাপ করবেন না

সাধারণত, মানুষের এক কমন আক্ষেপ আছে, তার চাইতে কম বুদ্ধির, কম শিক্ষিত লোকজন কীভাবে বেশী সফল হইয়া যাইতেছে।

এটা আপনারও থাকতে পারে।

তার হিশাবে ধরে না, সে বেশী শিক্ষিত, বুদ্ধিমান – তাও কেন আরেকজন গর্দভ বেশী সফল হইয়া গেল, আল্লার এই লীলা বুঝা দায় হইয়া উঠে তার জন্য।

লাইফ সম্পর্কে একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনসাইট আপনারে বুঝাইতে পারবে যে, এটা আসলে কীভাবে কাজ করে। এখানে কোন মিরাকল নাই।

সাধারণত, যেসব কেরিয়ার পরামর্শ থাকে, যে তুমি এইটা যদি করো, তাহলে ওইটা পাইবা। এইজন্য বলা হয় ভালো করে পড়ালেখা করো। ভালো ডিগ্রী নেও, ভালো চাকরীতে যাও। তাহলে তুমি লাইফে সফল হইবা।

এই পজিশনের ফান্ডামেন্টাল ভুল হইল, লাইফরে ধরা হচ্ছে লিনিয়ার কার্ভ হিশাবে, যেখানে একটা করলে ফল হিশাবে আরেকটা আসবেই। কিন্তু বাস্তবে, লাইফ এরকম না। লাইফ একটা কমপ্লেক্স সিস্টেম, নন লিনিয়ার। লাইফের পাথে প্রচুর অনিশ্চয়তা, এবং কমপ্লেক্সিটি আছে। একটু চিন্তা করলে দেখবেন, এতো অনিশ্চয়তা এবং কমপ্লেক্সিটি খুব কম জিনিশেই আছে।

ফলে, লাইফে, নলেজের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হইল, ট্রায়াল এন্ড এরর করে যাওয়া, টিংকারিং।

একজন লোক শিক্ষিত হইয়া ডিগ্রি নিলো, ধরা যাক সে বড় চাকরীতে গেল। গিয়া দেখল, তার এক স্কুল সহপাঠী, যে স্কুল পইড়াই পড়া ছেড়ে দিছে, সে টিকটক করে বিখ্যাত, এবং প্রচুর বেশী টাকা কামাইতেছে। তখন তার লাগতেছে বিরক্তি, সাবেক বন্ধুর অতি সফলতা দেইখা।

অনেকে বলবেন যে রুচিগত ভিন্নতা, বা দুইটা কি এক হইল – ইত্যাদি। এরা একটু কম বুঝেন। তাই এই বিষয়টাও ক্লিয়ার করি, দুইটা এক বিষয় বলা হচ্ছে না। দুনিয়াতে নানারূপ কার্য, পেশা, বৃত্তি থাকবে, ও আছে। পতিতাবৃত্তি আছে, শিক্ষকতাও আছে। এইগুলার রুচিগত ও নৈতিক বিচার আচারও আছে, এবং সেই বিচার আচার সকলেই জানেন, এবং এই লেখা ওইগুলা বলার জন্য না।

লাইফের মত কমপ্লেক্স সিস্টেমে, যেখানে কোনটার কারণে কী হচ্ছে তা সব সময় দৃশ্যমান থাকে না, এমন কমপ্লেক্স সিস্টেমে অনেক জায়গা থাকে যেখানে রিস্ক কম, কিন্তু আপসাইড অনেক বেশী। যারা সফল, অতি সফল হয়, এরা ট্রায়াল এন্ড এরর, টিংকারিং করতে থাকে, এবং একসময় কোন একটা সফল হয় ও সে পজেটিভ আপসাইড পায়।

সফলতার জন্য, এইটা করলে ওইটা পাইবা একটা ভুল উপদেশ। বেটার, এবং একমাত্র সত্য উপদেশ হইল, পজেটিভ আপসাইডে নিজেরে এক্সপোজ করতে থাকা, যেখানে ডাউনসাইড কম।

যেমন, একজন পপুলার কন্টেন্ট নির্মাতা অপু ভাই নামে পরিচিত। তিনি যখন টিকটকে, অন্যান্য এপে ভিডিও দিতেন এখানে ডাউনসাইড ছিল খুবই কম। বেশী হইলে মানুষ তার ভিডিও দেখবে না। কিন্তু আপসাইড ছিল বেশী, যেটা তিনি পাইছেন। আবার, আরো অনেক অনেকে পান নাই, অনেকে আবার পাইছেনও।

কনটেন্ট নির্মাতা অপু ভাই

এটা এক উদাহরণ। সকল ক্ষেত্রেই, বিভিন্ন ধরণের অপশন থাকে মানুষের সামনে। বোকা মানুষেরা, যারা নিজেদের আবার বুদ্ধিমান ভাবেন, তারা এমন সব অপশন নেন, যেগুলা লিনিয়ার। রিস্ক ১০০ টাকা, লাভ হইলে রিটার্ন ১২০ টাকা। ট্র্যাজেডি হচ্ছে, এটা করতে গিয়া তারা তাদের আপসাইড ক্যাপ করে ফেলেন বেকুবের মত। এবং সারাজীবন এখান থেকে বের হইতে পারেন না, নিজেই আপসাইড কমাইয়া দিছেন যেহেতু।

মানুষের ভেতরে এই চিন্তা এতোই শক্তভাবে প্রোত্থিত হয় যে, যে ব্যক্তি যে বিষয়ে পড়ালেখা করছে, এর বাইরে কিছু ভাবতেও পারে না অনেক সময়। তারে যদি বলা হয় অন্য কিছু একটা শিখতে বা করতে, সে আগে থেকেই ধরে নেয়, ওইটা পারবে না, কারণ ওইটা তার “সাবজেক্ট” না।

যারা টিংকারিং করেন, এরা সবাই যে জ্ঞানী, দুনিয়া ক্যামনে কাজ করে তা বুঝে করছেন, এমনো না। বেশিরভাগেই ফিল করতে পারেন, মানুষের ব্রেইন তো খুবই পাওয়ারফুল, না জানলেও অনেক সময় ধরে ফেলে। বা ফিডব্যাক এখানে প্রভাব ফেলে। যেমন টিংকারিং করে তিনি এর আপসাইড দেখতে পান, ও তার বিশ্বাস জন্মে যায় এর উপরে।

এই লেখার মূল শিক্ষাটা হইল, আপসাইড ক্যাপ করবেন না। বরং, এমন সব অপশন দেখুন, যেখানে আপসাইড হিউজ, ডাউনসাইড কম। এগুলা কন্টিনিউয়াসলি বাড়াইতে থাকেন। যেসব অপশন নিশ্চিত, কিন্তু আপসাইড ক্যাপ করে, এগুলা আসলে বেশী রিস্কি ও বাজে অপশন।

ফন্ট বড় করুন-+=